"You may like a situation which is not good for you And You may dislike a situation which is good for you." (Al- Quran) শহরে বা মফস্বলে যারা ছুটা বুয়া রেখেছেন কিন্তু কখনোই হয়রানিতে পড়েননি এমন ফ্যামিলি খুঁজে পাওয়া যাবে না। এরা প্রায়ই নানা ছল ছুতায় কাজে আসে না। এর উপর আরেকটি উৎপাত হল জিনিস চুরি। এই চুরির ব্যাপারটা এমনই ভয়াবহ অভ্যাস, যে বাসায় এরা চুরি করতে পারেনা সে বাসায় কাজই ছেড়ে দেয়। এরা ঘন ঘন বাসা পাল্টায়।
যে বাসায় আরামছে চুরি করতে পারে সেখানে থিতু হয়। গৃহকর্তা বা কর্ত্রীরা প্রায়ই নানা অসুখ বিসুখ বা অন্যান্য কারণে এদের বখশিস দিয়ে থাকেন। কিন্তু ১০০ টাকার বখশিসে ওরা যতনা খুশি হয় তারচে বেশি খুশি হয় ৪০-৫০ টাকার একটা জিনিস চুরি করতে পারলে!
তাই ছুটা বুয়া যদি ধরে রাখতে চান তাদের চুরি করার সুযোগ দিন। এখানে আবার একটি সপ্তমাচর্যের মতো একটি কান্ড আছে। যে বুয়ারা জিনিস চুরি করে এরা যদি ২০-৫০ টাকা আপনার ঘরে কুড়িয়ে পায় তবে সেটা আপনাকে ফেরত দিয়ে দেবে! বলবে অমুক জায়গায় টাকাটা পাইছি!
বেশিরভাগ ফ্যামিলিই ছুটা বুয়া ধরে রাখতে পারে না।
তাই এদের ধরে রাখতে হলে ঔষধ কোম্পানির টেকনিক ফলো করতে হবে। আমি এ ব্যাপারটা শুনেছি... ঔষধ কোম্পানিগুলো তাদের মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভদের ঔষধের স্যাম্পল দেয় ডাক্তারদের দেয়ার জন্য। তো একসময় বিভিন্ন কোম্পানি খেয়াল করল ডাক্তারদের কাছে পর্যাপ্ত ঔষধ যাচ্ছে না।
তারা তদন্ত করে দেখল রিপ্রেজেন্টেটিভরা ঔষধ ফার্মেসীতে বেচে দেয়। কোম্পানি পড়ল মহাফ্যাসাদে।
এদের বাদও দেয়া যাবে না আবার ডাক্তারদের কাছেও ঔষধ পেীঁছাতে হবে। তখন তারা করল কী রিপ্রেজেন্টেটিভদের আরো বেশী করে ঔষধ দেয়া শুরু করল যাতে করে কিছু ঔষধ হলেও ডাক্তাররা পায়!
সুতরাং ছুটা বুয়াদের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। এদের ছাড়াও উপায় নাই আবার চুরিও সহ্য করতে হবে। তাই এরা যাতে নির্বিঘেœ চুরি করতে পারে তার জন্য কম দামী চায়ের কাপ, পিরিচ, বাটি , গেলাস ইত্যাদি কিনে রাখুন। এবং সে যেন সহীহ ছালামতে চুরি করে নিয়ে যেতে পারে তা নিশ্চিত করুন! আশা করা যায় আপনার ছুটা বুয়া সহজে আপনার বাসা ছাড়বে না।
এবার একটি বুয়া উপাখ্যান...
গৃহকর্ত্রী- বুয়া গত ৩ দিন আসনি কেন?
বুয়া- আমার আব্বা মারা গেছিল!
-আশ্চর্য! ২ মাস আগে না তোমার আব্বা মারা গেল বলে তুমি ছুটি নিলা?
-হ আম্মা! ঘটনাতো সেইখানে! বাপ মারা গেছে, তার কাফন হইছে, লোকজন তারে খাটিয়ায় কইরা কব্বর দিতে নিয়া যাইতেছে... কব্বরের কাছে গিয়া যেই তারে কব্বর দেয়ার জন্য খাটিয়া থেকে নামানোর জন্য ধরতে গেছে আব্বায় তো উইঠা বইসা গেছে! চারপাশে যতো লোক সব চিক্কর দিয়া উঠল! দু একজন তো অজ্ঞান!
পরে কাফনের কাপড় খোলা হইল আর আব্বা সবাইরে সালাম দিয়া ঘরে ফিরা আসল! আমার আম্মাতো আব্বারে দেইখা অজ্ঞান! পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উইঠা দেখি আমাগো ঘরের সামনে শত শত লোকের ভীড়! কারো হাতে পানি, নারকেল, কলা, লাউ , আরো নানান সব জিনিসপত্র... যে যা পারছে নিয়া আইসা পরছে! বাপজান ফুঁ দিলে না কী রোগ ভাল হইয়া যাইব!
পরেরদিন লোক আরো বেশী। আমি বিরক্ত হইয়া ঢাকা আইসা পড়লাম।
-তুমি আর ঢাকা আসলে কেন? তোমার বাবা ফুঁ দিয়ে লোকজন থেকে কিছু কিছু টাকা নিলে তোমরা তো কোটিপতি হয়ে যেতে!
-আমি মাইনষের বাসায় কাম করুম। লাখপতি হমু... তারপর রিটাড করুম। আমি হারাম ইনকামে কোটিপতি হমু না... তাই চইলা আসছি।
-তোমার আব্বা এবার যে মারা গেল তার কবর কী হয়েছে না উনি কবর দেয়ার আগে আবার উঠে বসেছে?
-নাহ্ আম্মা এবার আর উঠতে পারে নাই! লোকজন অবশ্য সারাদিন অপেক্ষা কইরা রাইতে কবর দিছে। তারপরও লোকজন বলাবলি করতেছে উনি এইবারও কবর থেইকা বাইর হইয়া আসব!
-তুমি এটা বিশ্বাস কর?
-হ আম্মা করি। ভরসা করি আমার যাদুগর আব্বা ঠিকই দুই মাসের মধ্যে কবর থেইকা বাইর হইয়া আসব! কিছ এনজেলের মত! (ক্রিস এনজেল)
-কিছ এনজেল কে?
-ওমা খালাম্মায় দেহি চিনে না! বিশ্বর বিরাট যাদুগর! আমি টিভিতে দেখছি হেরে কবর দেয়ার পর হেও কবর থেইকা বাইর হইয়া আসছে!
-হুমম... আমিও নিশ্চিত তোমার আব্বা কবর থেকে উঠে আসবে। সামনে আমার বাসায় বেশ কিছু আত্নীয়স্বজন আসবে। ওরা বেশ কিছুদিন আমার বাসায় থাকবে।
আমার ধারণা এর আগেই তোমার বাবা কিছ এনজেলের মতো কবর থেকে উঠে বসবে। এবং আমার বাসায় আত্নীয়স্বজন আসলে আবার ইন্তেকাল করবে! আমি ১০০% শিওর!
-আম্মায় যে কী কন! জন্ম মিত্যু আল্লাহর হাতে... এইটা কী গ্যারান্টি দিয়া কওন যায়?
পুনশ্চঃ অধিকাংশ কাজের বুয়া লেখাপড়া জানেনা। আর যারা সামান্য জানে তাদের লেখালেখি করার সুযোগও নেই। যদি লেখাপড়া ও সুযোগ থাকত তবে কাজের বুয়ারা অন্তত আমার চেয়ে ভাল হাসির গল্প লিখতে পারত!
-------------------------------------- ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।