নৌকা আর ধানের শীষে ভোট দিয়ে সোনার বাংলার খোয়াব দেখা আর মান্দার গাছ লাগিয়ে জলপাইর আশা করা একই! বিস্ময়ের ব্যাপার হল দিনের পর দিন আমরা তাই করছি!! ব্লগকে জড়পদার্থ বলা পুরোপুরি ঠিক হলো না, তবুও বললাম। কাছাকাছি এ শব্দটাই মনে আসল। ব্লগ নিছক একটি ইন্টারনেট প্লাটফরম। বিদ্যুৎ, কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক, সফটওয়ার ও ইউজার ইন্টারফেসের সম্মেলনে এক ধরনের গলাবাজি থুক্কু আঙ্গুলবাজির (!) মঞ্চ। এর ভালমন্দ বেশীরভাগ নির্ভর করে কী বোর্ডে যার হাত তার উপর আর কমভাগ নির্ভর করে মডারেটরের উপর।
তবে সামহয়ারইন ধাঁচের কাস্টমাইজ ব্লগগুলো মডারেশন করা হলে বা তা সম্ভব হলেও যে কেউ ব্লগস্পট, ওয়ার্ডপ্রেস ইত্যাদিতে যতখুশি তত ব্লগ খুলে যা ইচ্ছা তা লিখতে পারে। এ সুবাধে অনেকে ধুমাইয়া চটি লিখতেছে নানান ব্লগে! আর সে জন্যই ব্লগ কখনোই মূলধারার কোনো মিডিয়া হিসেবে পরিগণিত নয়। যেমনি নয় রসময়গুপ্ত রচিত বই পুস্তকাদি। তবে কালের বিবর্তনে আজকের ব্লগস্পিয়ার ততটা নিষিদ্ধ গলির বাসিন্দা নয়। হাতে ট্যাবলেট, কোলে ল্যাপটপ, টেবিলে ডেস্কটপের চরম বিস্তারের কারণে নানান ব্লগসাইট এখন মূলধারার কাছাকাছি সামাজিক মর্যাদা পেয়ে গেছে।
এতে অনেক হীত যেমনি হয়েছে, হয়েছে অনেক বিপরীতও। যার যা ইচ্ছা লিখার সুবাধে কতিপয় ব্লগার বাথরুমের আচরন ও পোষাক পড়েই ড্রইং রুমে এসে পড়েছেন।
প্যাঁচালী নামক একটা অখ্যাত বাংলা ব্লগে ৬ বছর আগে আমি রেজিস্ট্রেশন করি। তারপর ওয়ার্ডপ্রেস ও ব্লগার (গুগল) এ একাউন্ট খুললেও লেখালেখি হয়নি। বিডিনিউজ, প্রথমালো ও সোনারবাংলাদেশ ব্লগেও একাউন্ট খুলেছিলাম লিখা হয়নি।
থিথু হয়েছি ও রয়ে গিয়েছি সামহয়ারইনে। তবে যতটা না সামুতে লিখি তারচেয়ে বেশী পড়ি। বিদেশে উচ্চশিক্ষা, ইমিগ্রেশন, ইতিহাস, সিনেমা, রিভিউ, ধর্ম, আইটি, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ভুগোল, যৌনতা, মিডিয়া, আঞ্চলিকতা হেন কোন বিষয় নেই এ সামুতে ছাপা হয়নি! আমি নিজেও রাজনীতি, ধর্ম, কর্পোরেট কালচার, ট্রাফিক, অর্থনীতি, ভ্রমন, বই নানান বিষয়ে লিখেছি, লিখছি। কম-বেশী প্রশংসা, নিন্দাও প্রচুর পাওয়া গেছে! মজার ব্যাপার সবই ভার্চুয়াল!! এ ব্লগে কেউ আমাকে চিনেনা, আমিও কাউকে চিনিনা। পুরোই অচেনা!
অচেনা ব্লগপুরিরতে মাঝে মাঝে আমার খটকা লাগে।
কিছু নিক একে অপরকে চিনে। এতদিন কই ছিলেন/ছিলা/ছিলি গোছের টান দিয়ে কমেন্ট করা শুরু করেন; নিজেদের চেনাজানা স্কুল কলেজ পাড়া নিয়ে আলাপ আলোচনা শুরু করে দেন- যা অন্যদেরকে হুদাই কাবাবমে হাড্ডি বানিয়ে ফেলে। তবে এ ধরনের হালকা ও কেজোমির বাইরে যে জিনিসটা বিস্বাদ ঠেকে তথাকথিত ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট তকমা! সিউডোনিমাস ও ভার্চুয়াল এ ডিজিটাল প্লাটফর্মকে পূঁজি করে তারা নিজেদেরকে জাহির করা ও নানাবিধ জাতি উদ্ধারমূলক কর্মসূচীতে মাঠে নেমে পড়েন। আপাত:দৃস্টিতে নিস্পাপ কিছু গেট টুগেদার প্রোগ্রাম ও ইতোমধ্যে হয়েছে যেখানে ছদ্ম নিক গুলা বুক ফুলিয়ে হয়ত যারযার আসল পরিচয় প্রকাশ করেছেন। এসব অপ্রয়োজনীয় দিবস ও কর্ম সম্পাদন পরবর্তী 'বীরত্বগাঁথামূলক' পোস্টও এ ব্লগে কম নয়! এতসবের পরে অনেকের মনে প্রশ্নজাগে তাহলে এতদিন নিকের ভেক কেন?
ভার্চুয়াল ব্লগকে উপরোল্লিখিত উপায়ে মর্ত্যলোকে নামিয়ে আনার সাথে সাথে যার যা ইচ্ছা লিখার নৈতিক অধিকার থাকে না।
কারণ মর্ত্যলোকের কিছু ঘোষিত অঘোষিত কানুন ও আদব লেহাজ আছে। যে আপনি কমোডে ল্যাংটা হয়ে বসেন সে আপনি চেয়ারে নিশ্চয়ই সেভাবে বসেননা!
পূণ্যবান কিংবা পাপী বা মাঝামাঝি চরম স্বাধীন ব্লগারদের ম্যানেজ করার আর একটিমাত্র রাস্তা আছে "এডমিন মডারেশন। " কিন্তু মডারেশন ও এফিসিয়েন্সি একে অপরের বিপরীত। বিশ্বব্যাপী মডারেশনহীনতাই ব্লগের উল্থানের মূল ফ্যাক্টর। তবে বানোয়াট, আজগুবি, অশ্লীল বা সাবোটাজ মূলক লেখা, ছবি, ভিডিও, লিংক দিয়ে বর্বর কিছু ব্লগার ইতোমধ্যে মাধ্যমটার বারোটা বাজিয়েছে ।
কোথাও কোথাও এডমিনই এসবের নাটের গুরু। সামু ব্লগের এডমিনও শাহবাগি দোষে দুস্ট! আর এভাবে শিক্ষিত মানুষরাই 'ব্লগ' প্রযুক্তিকে সভ্যতার মুখোমুখি দাড়ঁ করিয়ে দিয়েছেন। এতে কারো কারো সাময়িক নেতা/আঁতেল/চাদরবাবা হওয়ার মহাসুযোগ ঘটলেও আ'ম ভাবে ব্লগাররাই লুজার। আমরা এটার নিন্দা জানাই। ভিআইপি নিক কালচার বা তাদের পোস্টে তেল মাখার এমবেডেড মডারেশনকেও নিন্দা! ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।