আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিল রোমেলা

ভুদাই সমিতির সেক্রেটারী হিসেবে কাজ করছি। পার্মানেন্ট প্রেসিডেন্টের পোষ্ট খালি আছে। পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন শিশুগৃহকর্মী রোমেলা খাতুন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে (ডিবি) তার ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিজন বড়ুয়া ১৬১ ধারায় বক্তব্যটি রেকর্ড করেন। এ সময় রোমেলার বড় ভাই আলিম খান ও ভাবি মালা খাতুন উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতাল থেকে ওসি বিজন বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের সঙ্গে রোমেলার বর্ণনার সম্পূর্ণ মিল পাওয়া গেছে। আমরা আদালতে নিয়ে মেয়েটির জবানবন্দি রেকর্ড করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মেয়েটির অবস্থা এখনো স্থানান্তর যোগ্য না হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়েনি। তাই হাসপাতাল থেকে ১৬১ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর মেয়েটির বাবা, গ্রামের প্রতিবেশী, স্থানীয় থানা ও মামলার আসামির প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।

’ রোমেলার বর্ণনার বরাত দিয়ে ওসি বিজন বড়ুয়া বলেন, রোমেলার দেওয়া নির্যাতনের বর্ণনা রোমহর্ষক ছিল। মূলত উপপরিদর্শক (এসআই) শাহেদ আলীর স্ত্রী সুইটি বেগম তার ওপর অত্যাচার চালাতেন। শাহেদ আলী এতে বাধা দিতে গেলে সুইটি বেগম তাঁকেও পেটানোর হুমকি দিতেন। রোমেলা তার জবানবন্দিতে বলেছে, ‘সুইটি বেগম তাকে কাজ করলেও পেটাত, না করলেও পেটাত। রুটি বেলা বেলন, রুটি ছ্যাঁকা গরম খুন্তি, চামচসহ হাতের কাছে যা পেত, তা দিয়েই পেটাতে।

একবার খুন্তির আঘাতে মাথা কেটে গিয়েছিল। রক্তে কাপড় ভিজে যাচ্ছিল। রক্ত শুকানোর পর সে আবার পিটিয়েছিল। একদিন হাত থেকে পড়ে একটি প্লেট ভেঙে যাওয়ায় সে (সুইটি বেগম) গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়েছিল। ’ রোমেলা আরও বলে, ‘মারের আঘাতে আমার একবার ঠোঁট কেটে গিয়েছিল।

এদিন সুইটি বেগম কাপড় সেলাই করা সুই সুতা দিয়ে আমার ঠোঁট সেলাই করে দেয়। সুইটি বেগম সব সময় বলত, তোকে মেরে ড্রেনে ফেলে দেবো। তোর বাবাকে দুই লাখ টাকা দিলেই আমার কিচ্ছু হবে না। তার নির্যাতনের কথা দারোগাকে (শাহেদ আলী) জানালে সুইটি বেগম আরও পেটাত। দারোগা তাকে নিষেধ করলে সে দারোগাকেও পেটানোর হুমকি দিত।

অনেক সময় এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-মারামারি হয়েছে। ’ এদিকে এ ঘটনায় চট্টগ্রাম পুলিশ এসআই শাহেদ আলীর স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের জন্য পরোয়ানা জারি করলেও পাবনার সাঁথিয়া থানা পুলিশ তাঁদের খুঁজে পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম বজলুর রশিদ বলেন, আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। কিন্তু কোথাও তাঁদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রসঙ্গত, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর ইউনিয়নের গোটেংরা গ্রামের ইয়াজউদ্দিন তাঁর মেয়ে রোমেলা খাতুনকে সীতাকুণ্ড থানার এসআই শাহেদ আলীর বাসায় কাজে দিয়েছিল।

শাহেদ আলীর স্ত্রী সুইটি বেগম রোমেলার ওপর নৃশংস অত্যাচার চালিয়েছেন। বর্তমানে রোমেলা পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। এ ঘটনায় রোমেলার বাবা ইয়াজউদ্দিন বাদী হয়ে শাহেদ আলী ও তাঁর স্ত্রী সুইটি বেগমকে আসামি করে সীতাকুণ্ড থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। চট্টগ্রাম পুলিশ মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)। ঘটনা তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল পাবনায় গিয়েছে।

 ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.