একজন সাধাণ মানুষ। [img|http:
খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার ১১ গ্রামের মানুষের কোন ঈদের আনন্দ নেই । ট্রলারে করে বাজার সওদা নিয়ে বাড়ি (টোঙঘর) ফিরছিলেন ঘড়িলাল গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪৭)। এক হাতে চালের থলে অন্য হাতে কয়েকটি পলিথিনে সাংসারিক অন্যন্য জিনিস পত্র। আসছে কোরবানির ঈদে পরিবারের জন্য কি ব্যবস্থা করেছেন জানতে চাইলে তিনি কিছুটা বিরক্ত হয়ে বললেন,
“ছাওয়াল-পাওয়ালগের মুখে দু মুঠো ভাত তুলে দিতি নিজের জান বের হইয়ে যাবার অবস্থা ঈদ নিয়া ভাববার সময় কই।
জানেননা এই গ্রামে গত চার বছর ধরে কুনো ঈদ উৎসবের আনন্দ নেই ? খামাকা আইসে আমাগের কষ্টটা আর বাড়ানের চেষ্টা কইরেন না। পারলে আমাগের লোনা পানির মধ্যি থাইকে উদ্ধার করেন। ” গ্রামের বেলায়েত মাতব্বর বলছিলেন, “কোরবানির সময় আগে এলাকার অধিকাংশ পরিবার তাদের নিজেদের বাড়ির পোষা গরু ছাগল কোরবানি করতেন। তখন ঈদের সময় বাড়িতে বাড়িতে আনন্দের বন্যা বয়ে যেত। সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই উৎসবের আগাম প্রস্তুতি চলতো বাড়িতে বাড়িতে।
আজ তা যেন সব স্বপ্ন। খালি বাঁধ ভাঙছে আর আমাগের কপাল পুড়ছে। পানি বন্ধ হয়না, বড় বড় সাহেবরা (এমপি, মন্ত্রী) আসেন আর খালি মিটিং বসান পানি তো কমেনা। ”
আর কয়েকদিন পরেই মুসলিম জাহানের আরেকটি বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা। এ নিয়ে তেমন কোন আগ্রহ নেই খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিন বেদকাশি ইউনিয়নের পানিবন্দী ১১ টি গ্রামের মানুষের মধ্যে।
টানা চার বছর ধরে ওই ১১টি গ্রামের প্রায় বিশ হাজার মানুষ লোনা পানি বন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। একদিকে খাবার পানির সংকট অন্যদিকে দু’ বেলা খাদ্য সংগ্রহ করতে প্রানান্তর সংগ্রাম করে চলেছেন তারা। স্বাভাবিক জীবনধারনের মৌলিক চাহিদা টুকুও পুরন করতে পারছেনা কেউ।
জানা গেছে, ২০০৭ সালে দক্ষিন বেদকাশি ইউনিয়টির খাসিটানা নামক স্থানে পাউবোর বাঁধ ভেঙে এগারোটিরও বেশি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। সে বাঁধ মেরামত সম্পন্ন হতে না হতেই আবারো জোড়শিং বাজার এলাকায় হারেজখালি নামক স্থানে বাঁধ ভেঙে যায়।
তা আজো মেরামত করতে সমর্থ হয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ বাঁধটি দিয়ে শাকবাড়িয়া নদীর জোয়ার ভাটা অব্যাহত রয়েছে।
ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, খাবার কষ্টের কারনে সরকারি ভাবে গৃহনির্মানের যে টাকা দেওয়া হয়েছিল তা মানুষ খরচ করে ফেলেছে। সংসারের টানাটানি ঠেকাতে নারী পুরুষ সকলেই এখন বাদায় এবং নদীতে কাকড়া ধরতে বাধ্য হয়েছে। এখানে উৎসবের কোন প্রস্তুতি নেই।
ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের জোড়শিং, হারেজখালি, পাতাখালি, ঘড়িলাল, গোলখালি, দক্ষিন বেদকাশি, ছোট আংটিহারা, হলদেবুনিয়া সহ এগারটি গ্রামের মানুষ জোয়ার ভাটার কবলে পড়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারছে না। অধিকাংশ লোকজন এখন সাহায্য সহযোগীতা নির্ভর হয়ে পড়ায় ইউনিয়নের বরাদ্দের আশিভাগ সেখানে ব্যয় করতে হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন বে সরকারি সংস্থা ত্রান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। যে কারনে এলাকার মানুষ দু বেলা খেয়ে কোন রকমে বেঁচে আছে। তবে স্বাভাবিক জীবন যাত্রার মৌলিক চাহিদা টুকু পুরুনে সকলে ব্যর্থ হচ্ছেন।
অনেকটা সংগ্রাম করেই এগারোটি গ্রামের মানুষ টিকে আছে বলে তিনি জানান। তিনি গ্রামবাসির দীর্ঘ মেয়াদি এ দুর্দশার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্চাভিলাষি পরিকল্পনা এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহারের ষড়যন্ত্রকে দায়ি করেছেন। সংশ্লিষ্টরা চাইলে এ বাঁধটির মেরামত কাজ সম্পন্ন করতে পারতে এমন দাবী তার। তিনি অবিলম্বে ভাঙা বাঁধটি মেরামরত সম্পন্ন করে গ্রামবাসিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার দাবী জানিয়েছেন।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।