আমার কবিতার খাতা
১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:২৭
আমার কবিতার খাতা,
আমার বৃষ্টি ভেজা দৃষ্টির সঞ্চয় ।
আমার হঠাৎ পাওয়া মুক্তি ।
আমার জীবনাভিনয়ের শ্রেষ্ঠ দর্শক ।
আমার দার্শনীকতার অ্যারিস্টটল ।
আমার প্রেমের শ্রেষ্ঠ অর্জন ।
আমার যা খুশি তাই কিছু সময় ।
আমার রক্তে বয়ে যাওয়া ঘুর্ণি ।
আমার হিংস্রতার জঘন্য নখর ।
আমার অপরিচিত আমি'র দর্পন ।
আমার বাগানের শেষ অর্ধমৃত ফুল ।
আমার স্বাধীনতা ।
সস্তা
১২ ই অক্টোবর, ২০১০ সকাল ৮:২৯
- আবার এসেছ?
- এলাম।
- কেন?আমি তো তা চাই নি।
- ভালবাসি।
- সস্তা কথা।
শুনতে চাই নি,চাই ও না।
- ভালবাসি।
- তোমার সাহস অনেক।
- ছিল না। হয়েছে।
- সহ্যের একটা সীমা থাকে।
- কেউ গ্রাহ্য করে,কেউ করে না।
- পাগলের প্রলাপ শোনার সময় আমার নেই।
- আমায় পাগল বললে?
- শুধু পাগল না,ছাগলও বটে।
- না হয় হলাম।
তবুও একটু ভালবাসা দেবে?
- ওহ্..অসহ্য!
- অসহ্য কেন?
- তোমার বোঝা উচিত।
- বুঝি না বলেই তো ভালবেসেছি।
- এসব ফালতু কথা ঢের শুনেছি।
- এসব বুঝি ফালতু?
- অনেক হয়েছে,আর না।
- শোনো,শোনো।
- না,আর একটা কথা না।
- প্লিজ,রাগ করো না।
- তোমার উপর রাগ করতে আমার বয়েই গেছে।
- সত্যি?আচ্ছা,তিন সত্যি বল।
- ওহ্..জ্বালাতন!তুমি ভাগো,আমি ঘুমাব।
- তিন সত্যি বললে না?
- ওহ্..ঠিক আছে,সত্যি,সত্যি,সত্যি।
- তবে যাই।
- বাঁচলাম।
- কি বললে?
- না না..কিছু বলি নি তো।
- ও..আচ্ছা শুনো।
- আবার কি?
- যাবার আগে একটা কথা ছিল।
- বলে চলে যাবে তো?
- হ্যা।
- বলো।
- আমি তোমাকে ভালবাসি।
ভাস্বরী
১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ সকাল ৯:৩৭
ভাস্বরী হে,
তুমি যখন আমার শ্যাওলা ধরা
হৃদয় উঠানে প্রথম পা রেখেছিলে
তখন পৃথিবী জুড়ে নিকষ মধ্যরাত।
ঐতো,আমার স্পষ্ট মনে পড়ে
তখনও হাসনাহেনার গন্ধ শুকোয় নি,
সুপুরী গাছের আগায় আগন্তুক পাখিটা
সাময়িক কোলাহলে আড়মোড়া ভাঙ্গলো।
কাল আকাশটা জুড়ে থোকা থোকা অন্ধকার।
মানুষগুলো পেশাদার ব্যস্ততা রেখে
স্বপ্নডুবুরী হবার প্রাণপন প্রচেষ্টায় মগ্ন।
ভাস্বরী,সেই জাগতিক নিখাদ রাতে
মুঠো মুঠো নিঃস্বীম বোকাটে শুণ্যতা
আর নিঃসঙ্গ কয়েকখানি তারার মাঝে
আমি জেগেছিলাম তোমার প্রতিক্ষায়।
প্রেরণা
১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ২:১৭
"ওগো থেমো না,চল।
"
কানের কাছে হঠাতই
কয়েকটি মিহি ধ্বনির আয়োজন,
শুনতে পাই না,অথচ ছুঁয়ে যায়।
আমার এই স্থানু দেহের ভেতর
জরা-ক্ষয়-ব্যাধিগ্রস্ত
যে আধখানা কিংবা সিকি পরিমাণ হৃদয় ছিল
হঠাতই যেন সম্বিত ফিরে পায়।
প্রতিটি লোহিত কণা
আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে উঠার উপক্রম হয়।
মূহুর্তেই অভ্রের ন্যায় কঠিন হয় রুপান্তরিত স্বত্তা,
স্থিতিস্থাপকতাকে জয় করে নেয়ার
এক দুর্বার প্রচেষ্টা যেন
আচ্ছন্ন করে হৃদয়কে।
শুধুমাত্র একটি কথা শোনার জন্য..
"ওগো থেমো না,চল।
পেড়ে আনো আকাশের
শেষ তারাটি পর্যন্ত। "
যে প্রাণ ধুকপুক করছিল এত কাল,
ভালবাসার অর্গলে জড়ায় আদ্যোপান্ত।
শীতনিদ্রার রেপ্টাইল থেকে আমি হয়ে যাই
চিতা কিংবা চিতার শিকার।
ভয় নেই,আক্ষেপ নেই
আমি এগিয়ে যাই ভবিষ্যত বিহারে।
গগণভেদী আওয়াজে ফেটে পড়ি,
"না..না..না..
আমি একা নই।
আমার স্বত্তায় আজ মিশে গেছে
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধ্বনি...
ওগো থেমো না,চল। "
হায়!
১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ২:৩৫
হায়,আমি কি করলাম?
সূর্যের নিচে দাঁড়িয়ে আজ আমি অন্ধ,
অন্ধকার আমায় অধিকার করতে প্রত্যয়ী,
শূণ্যতার কারাগারে বন্দী আমার শ্রেষ্ঠ সময়,
স্মৃতিরা আমার বৈরী,ভবিষ্যত আজ অবগুন্ঠিত,
নিশ্চুপ বর্তমানকে নিয়ে আমার জোরাতালি হৃদয়,
স্থবিরতায় অস্থির আমার মুক্তি প্রত্যাশা,
হতাশার দাসত্বে ক্লান্তি আর শোকের কোলাহল,
লোকালয়ের ব্যস্ততা আমায় বিহবল করে,
শ্বাপদের শ্বাসের হলকা লাগে আমার শরীরে,
একাকীত্বের একগুয়েমি বড্ড একঘেয়ে লাগে,
প্রতারণার কালিমায় বিষাক্ত জীবন ক্যানভাস,
আমার আস্ফালন ধুলি হয়ে বাতাসে মিলিয়ে যায়,
কে যেন গুড়িয়ে দিয়েছে আত্মবিশ্বাসের প্রস্তর মূর্তি,
উষর মরুতে ওয়াসিস চেনায় কুহক আলেয়া,
মাথা ঠুকরে ঠুকরে আমার রুদ্ধবোধ রক্তাক্ত,
হায়,আমি কি করলাম? ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।