প্রথম অংশ আগে পড়ুন Click This Link
দুপুর একটা বাজে। এক ঘন্টা খাবারের বিরতি। শিউলি দাড়িয়ে আছে ফ্লোরের সামনের খালি জায়গাটায়। বাইরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। সামান্য পাউরুটি খেয়ে ছিল সকালে।
এখন তার খুব খিদে পেয়েছে। বৃষ্টির কারনে শিউলি দোকানে যেতে পারছে না। বেশ বিরক্ত হয়েই বলে, কখন যে থামবে মরার বৃষ্টি!
শিউলি তুমি এখানে কি করছো? কামরুলের গলার স্বরে পিছনে তাকায় সে। কামরুলের র্শাট ভেজা। তার এক হাতে ছাতা আরেক হাতে খাবারের দুইটা প্যাকেট।
অপরাধীর মত মুখটা কাচুমাচু করে বলে, অনেক দিন ভুনা খিচুড়ি খাইনা। তাই ভাবলাম আজ খাব, দোহাই আমাকে তুমি না করোনা।
বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া কামরুলকে দেখে মায়া হয় শিউলির। সে বুঝতে পারে রওসন হয়ত কামরুলকে বলেছে যে সে খাবার আনে নাই।
সে নিরবে ক্যান্টিনে প্রবেশ করে।
খেতে বসে তার রানার কথা মনে পড়ে যায়। নেশাখোর হলেও তাকে প্রচন্ড ভালবাসতো রানা। চলে আসার দিন লঞ্চ পযন্ত দৌড়ে এসেছিল। কত অনুনয় যে করে ছিল। মাথায় হাত দিয়ে কিড়া কেটে ছিল ভাল হয়ে যাবে সে।
কিন্তু শিউলি তাকে ক্ষমা করতে পারে নাই। কোন নারীই পর নারীতে আসক্ত পুরুষকে ভালবাসতে পারে না। তাই গামেন্টেসের গেটে কয়েকদিন দাড়িয়ে থাকলেও রানার দিক ফিরে তাকায় নী সে। খাওয়া শেষ হয় নিরবে।
হাত ধুবার সময় কামরুল বলে শিউলি আমি জানি তুমি খুব জেদি।
কিন্তু তোমাকে আমার ভাললাগে। তাই তোমাকে নিয়ে সংসার করতে চাই। সে কথার উত্তর না দিয়ে নিরবে হাটা দেয় শিউলি।
আজ ফ্যাক্টরী ভিজিট করতে বিদেশী বায়ার এসেছে বলে পাচটায় ছুটি হয়ে হয়ে গেল। বাইরে তখনও হালকা হালকা বৃষ্টি হচ্ছে।
সবাই বৃষ্টি উপেক্ষা করে বের হচ্ছে। শিউলি দাড়িয়ে ভাবছে এবার ভিজলে নিশ্চিত জ্বর আসবে। পাশ থেকে কামরুল একটা ছাতা দিয়ে বলে, নাও কাল ফেরত দিলেই হবে। মনে দ্বিধা থাকলেও ছাতাটা যে বড় প্রয়োজন তাই সে ছাতাটার জন্য হাত বাড়ায়। আসলে প্রয়োজন এমনি বাধা মানে না।
হটাৎ করেই শিউলির খেয়াল হয় আজ তাকে তুমি তুমি করে বলছে। গামেন্টসের সুপারভাইজার ইনচার্জরা সাধারনত বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের তুই তোয়াক্কারী করে। প্রথম দিকে তার খুব খারাপ লাগতো। মনে মনে নিজেকে খুব ছোট লাগতো। সে একদিন কোম্পানীর অয়েল ফেয়ার অফিসার কে জানিয়ে ছিল কথাটা।
অফিসার হেসে বলে ছিল যে যতটুকু শিক্ষিত তার ভাষায় কিন্তু তা ফুটে উঠে। আমরা কিন্তু তাদের বার বার বলি আপনাদের সাথে ভাল ব্যাবহার করার জন্য। আমাদের কোম্পানীর মালিক কিন্তু আপনাদের শ্রমিক বলে না সে বলে এখানে কর্মরত সবাই কোম্পানীর মালিক। আর আমাদের কাছে আপনারা শ্রমিক নন, শিল্পী। আপনাদের হাতের ছোয়ায় প্রতিদিন তৈরী হয় কত রঙ্গিন পোশাক।
আপনার মেহনতের টাকায় চলে গাড়ি,চলে বাজার চলে দেশ। এবার আপনিই বলুন কেবল নির্বোধ ছাড়া অন্যরা কি আপনাদের তুই বলে অসম্মান করতে পারে?
ওয়েল ফেয়ার অফিসারের কথা শুনে ভাললাগে শিউলির। সে খুব খুশি হয়। তবে শ্রমিকদের মধ্যে কিছু মন্দলোক আছে যারা বাইরের ইন্দ্রনে কারনে অকারনে ঝগড়া ফ্যাসাদ ভাংচুর হাঙ্গামা করে।
পাশের ঘরের সাদা কালো টিভিতে সিনেমা চলছে।
সাকিব খানের ছবি। এখানে সবাই সাকিব খানের ভক্ত। শিউলির সিনেমা ভাললাগেনা সে শুয়ে আছে। রওসন ঘড়ে ঢুকেই কামরুলের পক্ষে ওকালতি শুরু করে দেয়। মাইয়া হইয়া যখন জন্মেছিস একজন পুরুষ তোর লাগবোই।
কামরুল ভাইর মত ভাল মানুষ তুই পাবি কৈ? সে তোর কাছে পাত্তা না পাইয়া আমারে ধরছে।
শিউলি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ে। শূন্যে দৃষ্টিতে জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়, তারপর বলে ঠিক আছে ভেবে দেখি।
রওসন খুব খুশি হয়। কামরুল তাকে পাচশত টাকা দিয়ে ছিল, বলেছে বিয়েতে রাজি করাতে পারলে আরো পাচশত টাকা দিবে।
তার চোখে পাচশত টাকার নোট ভেসে উঠে। সে পরম আগ্রহে কামরুলের নানা প্রশংসা চালিয়ে যায়।
দিন যায়। এক সময় কামরুলকে ভাল লাগতে থাকে শিউলির। সে মুগ্ধ হয় কামরুলের ভালবাসায়।
আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখেতে শুরু করে সে। একদিন কামরুল বলে চল আগামী শুক্রবার আমরা বিয়ে করে ফেলি। শিউলি মাথা দুলিয়ে তাতে সায় দেয়।
অবশেষে সেই শুক্রবার আসে। কথা ছিল সকাল দশটার দিকে কামরুল এসে তাকে আর রওসন কে কাজি অফিসে নিয়ে যাবে।
এখন বাজে ১২ টা। কামরুল আসার কোন নাম নেই। রওসন কামরুলের নাম্বারে কল দিতেই সেটা বার বার বন্ধ বলছে। খুব বিরক্তি লাগে শিউলির। রওসন বলে কোন বিপদ আপত হইলো নাতো? চলতো কামরুল ভাইর বাসা আমি চিনি।
রাস্তায় বেড়িয়ে কিছুদুর যাবার পর তারা দুজন তাজ্বব হয়ে যায়। তাদের পাশ কাটিয়ে রিকশায় কামরুল শাড়ি পড়া এক মহিলাকে নিয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছে। কামরুল তাদের না দেখার ভান করে। নিজের চোখকেই যেন বিশ্বাস হয়না তার! তার মাথা চক্কর দিয়ে উঠে। এত বড় অপমান কামরুল তাকে করবে তা ভাবতেই পারে নী সে।
সহকর্মী বজলু বলে কোথায় যাচ্ছ তোমরা? রওসন বলে কোথাও না। বজলু বলে কামরুল ভাইর বউ আসছে। দেখতে গিয়ে ছিলাম দেখলাম ঘরে তালা দেওয়া।
শিউলি নিঃশ্চুব হয়ে আকাশের দিকে তাকায়। সে দেখতে পায় তার স্বপ্ন গুলো উড়ে যায়, আকাশের মেঘের সাথে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।