বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর থেকে পুরনো মডেলের উড়োজাহাজ এফ-২৮ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগেই। সিদ্ধান্ত ছিল ব্যয়বহুল এই উড়োজাহাজটি ২০১১ সালের পর আর বিমানে রাখা হবে না। অথচ নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই মানছে না কর্তৃপক্ষ।
উল্টো নতুন নিয়োগ পাওয়া ১০ ক্যাডেট পাইলটকে এফ-২৮ উড়োজাহাজ চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আর এই প্রশিক্ষণে কমপক্ষে আট কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে বিমানের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
২০১০ সালে বিমানের প্রকৌশল বিভাগই এফ-২৮ বিমানের বহরে আর না রাখার সুপারিশ করেছিল। ওই সুপারিশের ভিত্তিতেই সংস্থার পরিচালনা পর্ষদ এফ-২৮ বহর থেকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, বিমান ছাড়া ৩০ বছরের পুরনো এই উড়োজাহাজ এখন আর কোনো এয়ারলাইন্সের বহরে নেই। বাংলাদেশের মতো অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য ৮২ আসনের এই উড়োজাহাজ খুব একটা উপযোগীও নয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট বা ঢাকা-যশোরের মতো স্বল্প দূরত্বের রুটে ৪০/৫০ আসনের উড়োজাহাই সবচেয়ে বেশি উপযোগী।
এফ-২৮-এর আসন বেশি থাকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আসন খালি থাকে। এতে করে লোকসান গুনতে হয় বিমানকে।
বিমানের একজন বৈমানিক নাম প্রকাশ না করে বাংলানিউজকে বলেন, ‘এফ-২৮ উড়োজাহাজের জ্বালানি খরচের পাঁচ ভাগের এক ভাগ কম হয় ড্যাশ-৮ মডেলের উড়োজাহাজে। এ ধরনের একটি ব্যয় বহুল উড়োজাহাজ বহরে রাখার অর্থ নিশ্চিত লোকসান। এ কারণেই এফ-২৮ উড়োজাহাজ ২০১১ সালের পর বহরে না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
কিন্তু এখন কার স্বার্থে কেন এটা করা হচ্ছে তা বোধগম্য নয়।
তিনি বলেন, ‘নিজেদের সিদ্ধান্ত না মেনে বিমান অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ১০ ক্যাডেট পাইলটকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এটি বিমানের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। ’
মাস তিনেক আগে ১০ জন নিয়োগ পাওয়া ক্যাডেট পাইলটকে নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। ক্যাডেট পাইলটদের প্রশিক্ষণের জন্য জনপ্রতি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
বর্তমানে শিক্ষানবীশ পাইলটরা গ্রাউন্ড প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এরপর সিমুলেটর, বেস ও রুট প্রশিক্ষণ নেবেন। সবমিলিয়ে এতে সময় লাগবে পাঁচ মাস।
বিমান সূত্র জানায়, এফ-২৮ আরও এক থেকে দেড় বছর চালানোর পরিকল্পনা থেকেই বিমান কর্তৃপক্ষ এত টাকা ব্যয় করে ১০ ক্যাডেট পাইলটকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বিশ্বের কোনো এয়ারলাইন্সে এফ-২৮ উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশও এখন আর পাওয়া যায় না।
চলাচলের অনুপযোগী দুটি উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ দিয়ে বাকি দুটি উড়োজাহাজকে উড্ডয়ন উপযোগী রাখা হচ্ছে।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সে হল্যান্ডের ফকার কোম্পানির তৈরি চারটি উড়োজাহাজ ছিল। দুটি উড্ডয়নের অনুপযোগী হওয়ায় বাকি দুটি দিয়েই অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট ছিল। এই দুটির মধ্যে একটি আবার প্রায়ই নষ্ট থাকে। তাই কখনো কখনো বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ দিয়েও অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট চালানো হয়।
অথচ বোয়িং ৭৩৭ দিয়ে ব্যাংকক, কুয়ালালামপুরসহ আঞ্চলিক রুটের ফ্লাইট পরিচালনার কথা। এ ধরনের উড়োজাহাজ দিয়ে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।