আগুন্তক গত কিছুদিন আমার পোস্ট গুলো নিয়ে আমাকে দারুণ আলোচনা,সমালোচনা, প্রশংসা, নিন্দা সহ্য করতে হয়েছে। কেউ কখনো আমাকে আওয়ামীলীগের দলে আবার কখনো জামায়াতের দলে ফেলে দিয়েছে। অনেকেই একটা প্রশ্ন করেছে যে জামায়েতের ব্যাপারে আমার দৃষ্টিভঙ্গি কি? তারই উত্তর দেয়ার চেষ্টা করলাম এখানে। কোন আক্রমণাত্মক কথায় বা রাজনৈতিক সমীকরণ বিশ্লেষণে যাব না। শুধু ধর্মীয় এবং মানবিক একটা দিক থেকে বলছি।
কিছু কথা বলব ইতিহাস থেকে কিছু কথা মানবিকতা থেকে।
প্রথমেই একটা উদাহরণ দেই, ধরুন আপনি একটি জয়েন্ট ফ্যামিলি এর সদস্য যেখানে দুইটা ফ্যামলি একসাথে থাকে। আপনার এবং আপনার চাচার পরিবার। আপনাদের আছে ২ টা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান যার ২ টাই আপনার চাচা দেখাশুনা করতেন কারণ আপনার বাবা তখনো একটা প্রতিষ্ঠানের হাল ধরার যোগ্য হয়ে উঠেনি। কিন্তু আপনার চাচা পরিবারের সবার প্রতি সমান নীতি ফলো করছে না, তার ছেলেমেয়েদের বেশী সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে, তিনি পক্ষপাতিত্ব করে আপনার পরিবারকে ঠকাচ্ছে।
আর আপনারও কিছু করার ছিলনা। তাই চেষ্টা করেছেন চাচাকে বুঝাতে। কিন্তু যখন আপনার পিতা প্রতিষ্ঠানের হাল ধরার যোগ্য হয়ে উঠে একসাথে থাকা কিন্তু একটা প্রতিষ্ঠান নিজের অধীনে নিতে চাইল (যা তার অধিকার) তখন আপনার চাচা যদি ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং এক পর্যায়ে আপনার বাবাকে বন্ধী এবং আপনার পরিবারের একজনকে হত্যা করে বাড়ির দারোয়ান কে দিয়ে তখন আপনি কি করবেন? বা কি করা উচিত? তখনও কি আপনি চাচা কে বুঝাতে যাবেন? তাতে তো লাভ নেই, কারণ সে ভুল পথ বেছে নিয়েছে। আপনার তখন উচিত বিদ্রোহ ঘোষণা করা এবং ঐ পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া এবং আপনার ভাইয়ের হত্যার বদলা নেয়া। আপনার তখন সর্বশক্তি দিয়ে আপনার পরিবার এবং প্রতিষ্ঠান কে রক্ষায় ঝাপিয়ে পড়া উচিত।
কিন্তু আপনি যদি তা না করে আপনার চাচার সাথে সমঝোতা করতে চান এবং তার জন্য আপনার ভাই যে বিদ্রোহে নেমে গেছে তাকে থামাতে চেষ্টা করেন আপনার চাচাকে থামানোর চেষ্টা না করে, তাহলে আপনার পরিবার আপনাকে বিশ্বাসঘাতক না ডাকার কোন কারণ নেই। ঠিক এই জিনিসটাই ঘটেছে তখন । ঠিক এই কাজটাই করেছিল জামায়েতে ইসলামী।
এবার আসি ইতিহাসে। আমাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ, বিভাজনের বীজ খুবই সুকৌশলে বপন করে গেছে ব্রিটিশ শাসকরাই।
আর তাতে তাদের প্রধান অস্ত্র ছিল “ পরশ্রীকাতরতা”। এই গুনটি ব্যবহার করেই তারা ভারত পাকিস্থান নামক ২ টা দেশে বিভক্ত করে গিয়েছিল। তারা জানতো এই গুনটির কারনে এরা একে অপরের সাথে দন্দবে মেতে থাকবে এবং তারা এটাই চেয়েছিল। তারা চায়নি অবিভক্ত উপমহাদেশ কারণ তারা জানত যদি সবাই একসাথে থাকে তাহলে এই উপমহাদেশই হবে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র, নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র যেমনটা আজ আমেরিকা। মাহাত্মা গান্ধীও ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছিলেন।
তাই তিনি প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন অবিভক্ত উপমহাদেশ গঠনের। কিন্তু করতে পারেননি। কারণ তিনি যে বড় দেরি করেই রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এসেছিলেন। এই বিভাজনের বীজ যে তারও আগে বপন করা শুরু করেছিল ব্রিটিশরা। তারা এই পরশ্রীকাতর গুনটির ফুয়েল বা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করেছিল ধর্ম কে।
কারণ উপমহাদেশের ২ টি প্রধান ধর্ম হিন্দু এবং ইসলাম। আর তারা বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য হিন্দুদের বেশী সুযোগ সুবিধা দিয়েছিল কারণ মুসলমানরা যে হিন্দুদের তুলনায় সংখ্যালঘু। উন্নয়নের বেশীরভাগ সুফলই ভোগ করেছিল হিন্দুরা আর ব্রিটিশ শাসকরা ইচ্ছে করেই তা করেছিল যাতে মুসলমান এবং হিন্দুর মধ্যে প্রতিহিংসার সৃষ্টি হয়। এর মূলেও সেই ইউনিক গুন “ পরশ্রীকাতরতা” । আর তখনকার মুসলিম নেতৃবৃন্দের ধর্মীয় গোঁড়ামি ব্রিটিশদের এই প্ল্যান সফল করতে অনেক সাহায্য করেছিল।
মাহাত্মা গান্ধী অবিভক্ত উপমহাদেশ চেয়েছিলেন। তাতে সফল না হয়ে তিনি শেষ চেষ্টা করেছিলেন ধর্মীয় ভাবে দেশ বিভক্তে বাধা দিতে। মন্দের ভালো হিসেবে তিনি চেয়েছিলেন ভৌগলিক এবং ভাষাগত দিকের উপর ভিত্তিকরে উপমহাদেশ কে বিভক্ত করতে অর্থাৎ পাকিস্থান ভারত এবং বাংলাদেশ। তার প্ল্যান অনুযায়ী বাংলাদেশ হত পূর্ব -পশ্চিম বাংলা বিহার উড়িষ্যা নিয়ে, কাশ্মীর চলে যেত পাকিস্থানের সিমায়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের তখনকার মুসলিম নেতৃবৃন্দ এতটা দূরদর্শী ছিল না।
তারা এটাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেছিল। এই চিন্তার পেছনেও সেই গুনের প্রভাব রয়েছে ( পরশ্রীকাতরতা) । তারা ধর্মের উপর ভিত্তি করে দেশ বিভক্ত করতে দাবী তুলল এবং ইংরেজদের ভয়ানক ট্র্যাপ এ পা দিল । যার প্রভাব এখনো চলছে। ইংরেজরা জানতো কাশ্মীর জুম্মু নিয়ে যেমন পাকিস্থান-ভারতের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলবে তেমনি দ্বন্দ্ব চলবে পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্থানের মধ্যেও এবং বিভক্ত হতে বাধ্য।
তাই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকলো। আর ঘটেই চলছে ...... আর এই পুনরাবৃত্তি করছি আমরা
গান্ধী শেষ চেষ্টা হিশেবে যেটা চেয়েছিলেন পাক-ভারত-বাংলাদেশ তাতেও সমস্যা হত হয়তো। কারণ বাংলাদেশ তখন বাংলা ( পূর্বপশ্চিম) বিহার উড়িষ্যা নিয়ে গঠন হত। কিন্তু তাতেও হয়তো দেখা যেত জনগণের একটা বৃহৎ অংশ মুসলমান হওয়ায় হিন্দু রা নিগৃহীত হত, দেখা যেত হিন্দুরা মিলে গঠন করত হিন্দু লীগ এবং পশ্চিম বঙ্গকে আলাদা করার আন্দোলনে নেমে যেত। তখন সোহরওয়ারদি, শেরে বাংলা ইত্যাদি বিখ্যাত নেতারা আওয়ামী মুসলিম লীগ কে সমর্থন দেবে নাকি নিজ পিতৃভূমি তে যাবে তা নিয়ে দন্দে পড়ে যেত।
তারা মুসলিম হওয়ার কারনে হয়তো আওয়ামী মুসলিম লীগ কে সমর্থন করে বিভাজনের বিপক্ষে থাকতেন এবং যদি পশ্চিম বংগ স্বাধীন হত তখন উনারা এবং উনাদের দল হয়ে যেত বিশ্বাস ঘাতক উনারা হয়ে পড়তেন যুদ্ধপরাধি বা স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি। আর যদি শেখ মুজিব তখন বিভাজনের বিপক্ষে থাকতো তাহলে তিনি হয়তো হয়ে যেতেন ইয়াহিয়া বা আইয়ুব খানদের মত কেউ। তাই এসব আসলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। এসবের জন্য দায়ী আমরাই আর এই কারনে আমি মার্চের আগে জামাতের রাজনৈতিক ভুমিকা কে খারাপ চোখে দেখি না। আমার আপত্তি শুধু ২৫ শে মার্চের পর জামাতের ভুমিকা নিয়ে।
পাকিস্থান( পূর্ব ও পশ্চিম ) ভারত বিভাজনের পর পাকিস্থানের কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক সরকার সব ভ্রান্তনিতি গ্রহন করে দেশকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দেয়। প্রথমে বাংলা ভাষা ভাষী দের উপর উর্দু রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেয়া থেকে বিভেদ শুরু করে তারা। আইয়ুব খানের নীতির কারনে পশ্চিম এবং পূর্ব পাকিস্থানের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হতে থাকে। ৭০ এর নির্বাচনে বিজয়ি দলকে ক্ষমতা না দেয়া সেটা আরও বাড়িয়ে দিল। জামাত তখনও ক্ষমতা মুজিবকে দেয়ার পক্ষে ছিল।
ভুট্টো আর ইয়াহিয়া খানের জন্য তা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতিই এমন যে পাকিস্থান বাংলাদেশ আলাদা হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। ২৫ শে মার্চের আগে জামাতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অগ্রাহ্য করলেও ২৫ শে মার্চের পর দেশের সকল মানুষ যখন বুঝল যে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছে এবং সবাই যখন এটা স্বাগত জানাল তখন জামাতের এর বিপক্ষে থাকার কোন কারণ থাকতে পারেনা। তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। তারা মানবতা বিরোধী কাজে সরাসরি লিপ্ত ছিল কিনা তা আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।
ওটা নাহয় বাদই দিলাম। কিন্তু তারা সমঝোতা করতে চেয়েছিল এমন একটা নৃশংস আর্মির সাথে যারা ২৫ শে মার্চ রাতে গণহারে মানুষ মেরেছে এবং ঐ গনহত্যার পর কারও পক্ষেই আর সমঝোতার কথা মাথায় আনা অসম্ভব। আপনার হয়তো বলতে চান জামাত রক্তপাত বন্ধে সমঝোতা চেয়েছিল কিন্তু যখন পাকিস্থান ই সেটা চাইছেনা তখন বাংলাদেশী হিসেবে তারা কিভাবে সেটা চাইতে পারে? জামাত যদি তখন রাজনৈতিক মত পার্থক্যের জন্য যুদ্ধে সমর্থন না দিয়ে চুপ করেও থাকত তাও আমি মেনে নিতাম। কিন্তু উনারা তখন শান্তি কমিটি গঠন করে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেছেন এবং পাকিস্থানের অখণ্ডতার চেষ্টা করেছেন, চেষ্টা করেছে মুক্তিযোদ্ধাদের বাধা দিতে। এটা কিভাবে করে তারা? আপনারা বলেন রাজাকার আলবদর এর মাঠ পর্যায়ের নেতারা খুন ধর্ষণ ইত্যাদি কাজে জড়িত ছিল, শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা না।
কিন্তু নেতাদের অগোচরে তো তা হওয়া সম্ভব ছিলনা। তাই না? তারা কোন ভাবেই এর দায় এড়াতে পারেননা। উনারা প্রকাশ্যে যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, মিছিল মীটিং করেছিল, যার প্রমাণ তখনকার পাকিস্থানি পত্রিকাই দেয়, আন্তর্জাতিক পত্রিকার কথা বাদই দিলাম। ২৫ শে মার্চের পর সমঝোতার চেষ্টা কোন ভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। কারণ পাকিস্থান চাইতো বাংলাদেশ কে কন্ট্রোলে রাখতে আর বাংলাদেশ চাইতো সমধিকার।
আর এখানে পাকিস্থান ই আগে আক্রমন করা শুরু করেছিল। সেখানে সমঝোতার প্রশ্ন আসাটাই তো বিতর্কিত ব্যপার। ২৫ শে মার্চে যখন আমি দেখব আমার প্রতিবেশী আত্মীয় দের মেরে ফেলা হয়েছে এবং পাকিস্থানি আর্মি নেমে গেছে যুদ্ধে আর স্বাধীনতার ঘোষণা চলে এসেছে তখন আমি আর কোন সমঝোতার চেষ্টা করতাম না। যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরতাম। জয় পরাজয় আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিয়ে নেমে পরতাম দেশ স্বাধীন করতে।
এটা তখন আমার নৈতিক এবং ইমানি দায়িত্ব। কারণ এর পর সমঝোতা মানে অন্যায় মেনে নেয়া। জামাত জানতো একটা সময় বাংলাদেশ কে আলাদা হতেই হবে। তাও যুদ্ধ শুরু হওয়ার পড় কিভাবে পাকিস্থানের অখণ্ডতা চায় তারা। এসবের আসলে কোন ব্যাখ্যা হয়না।
সেটা ইসলাম কখনো সমর্থন করেনি। যখন নবি (সঃ) এর কাছে খবর আসলো যে মক্কায় সাহাবীদের হত্যা করা হয়েছে তখন তিনি সাথে সাথে সশস্ত্র সংগ্রামে নেমে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। উনি তখন মক্কার সাথে চুক্তি ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর সেখানে আমরা কিভাবে শান্তি চুক্তির চিন্তা করতে পারি। এটার কোন ব্যাখ্যা সম্ভব না। আমি নিজে জামাতের দিক থেকে ভেবে দেখেছি কিন্তু তবুও আমি কোন উত্তর পাইনি যা দিয়ে বলতে পারি উনারা তখন ভুল করেননি।
সমঝোতা শান্তি চাওয়ার একটা সীমা থাকে। কিন্তু যখন যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী তখন সমঝোতার কথা তুলাটা বোকামি। উনারা সেটাই করেছেন। শুধু তাই না আন্তর্জাতিক মিডিয়া তে যুদ্ধের সময় বক্তব্য দিয়েছেন যে " পাকিস্থান অখণ্ডতা আর জামাতের রাজনীতি একে অপরের পরিপুরক" উনারা যুদ্ধ বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক দেশ গুলোর সাথে যোগাযোগ করেছিল কিন্তু পাকিস্থান কে অখন্ড রেখে, মিছিল করেছে সমাবেশ করেছে, এসব কি গ্রহণযোগ্য? আমার এক ভাই আরেক ভাইয়ের হত্যার বদলা নিতে লড়ছে সেখানে আমি কিভাবে হত্যাকারীর সাথে সমঝোতার চেষ্টা করবো? এটা অসম্ভব। আমি সেটা করতে গেলে অবশ্যই আমার ভাই বোনরা আমাকে বিশ্বাস ঘাতক বলবে।
এটা স্বাভাবিক। অন্যায়ের সাথে ইসলাম বৃহত্তর স্বার্থে সমঝোতার সমর্থন দেয়। কিন্তু সেটাও একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত। হত্যা খুন ধর্ষণ এসব ভয়ানক অন্যায়ের সাথে সমঝোতা ইসলাম ঘৃণা করে। কিন্তু জামাত আজ পর্যন্ত তাদের এই অপরাধ স্বীকার করেনি।
উল্টো বুঝাতে চেয়েছে যে তারা নিরপরাধ। এটা আরেকটা ভণ্ডামি। মিথ্যাচার। তাই ২৫ শে মার্চের পর জামাতের ভুমিকা আমি কিছুতেই সমর্থন করিনা। করা সম্ভব না।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।