নিঃস্বার্থ মন্তব্যকে ধন্যবাদ, সাময়িক ভাবে আমি মন্তব্যে নেই
রক্তে ভাইসা গেছে জমিনের খাল
লাঙ্গলে উইঠা আসতো অচিন মানুষের অস্থি;
শুইনা কন্যার চক্ষে বিস্ময় খেলা করে
সে জিজ্ঞাসে, "বাপজান, কত মানুষ আছে মাটির ভিতরে?
আমি বললাম, "আমি তো গুনবার জানি না, মা
শুধু জানি জমিনে যতগুলান ধান আছে তার চেয়ে বেশী
সুবে সাদেকে আসমানে যত পাখি ওড়ে তার চেয়েও বেশী"
সরল চাষারা বুঝতাম আউশ, আমন -
কোন দিন রাজত্ব চাই নাই,
কাচারিতে মিটিং হইত যত, কারফিউ মিছিলে আগুন দাউ দাউ
সেই খবরে আমি নির্বিকার জমি শুকাইলে শুকায় পেট ভাত,
জ্ঞান নাই রাজ্য সীমানায়
জানি নাই বৃটিশ কবে গেছে, চুইয়া চুইষা আমের আঁটি করে
ফালায়ে রাইখা গেছে তিন খণ্ড করে
বাপের ছিল পান তামুকের নেশা -
ডাবুর হাতে পানি চুমুক দিয়া, খেত যায় নিড়ান করে ঘাস
বাড়ি ফিরে লাঙ্গল কাঁধে নিয়া।
অভিযোগ তো কারো কাছে নাই, কোন দিন রাজত্ব চাই নাই,
এই খানে ছিল ধানের জমিন
ধানের চারা যেন নিজের সন্তান, চৈত্রে মায়া মাটি ফাটে,
বৃষ্টি ছাড়া ধূলা উড়ায়, বাতাসে বিছুন ধান চাপড়ায় কপাল,
উল্টা পিরান জড়ােয় পূব সেজদায় মোনাজাত ধরে
তাও যদি বৃষ্টি ভিইজা পুষ্ট হয় চারা, সবুজ হয় জমি
শীষের দুধ মুখে টানে মক্তবের ছেলে
এই দেশে সুখ মানে তিন বেলা বাঁচা,
গাছের গুঁড়িতে ধান আছড়ায়ে তুষ আলগা করে
শস্যদানা ছড়ায় উঠানে আলতা রাঙা পা; লাল গামছা নিয়া বিল সাঁতরাই
সন্ধ্যায় গোয়ালে ভরি গাভীন বাছুর
এরপরে তপ্ত ভাতের সঙ্গে মশুরীর ডাইল
গোগ্রাসে মুখে তুলি টেংরার সালুন
মনে আছে কবিয়াল, ধানের মৌসুম?
খড়ের আগুন ফুটতো, ডেগ ভরা চাল সিদ্ধ হয়
লাল বউ পিঠা কুটে, মেজবান ডাইকা আনে ঘরে
এই গরীব মানুষের দেশে কেন পড়ে শকুনের চোখ?
জমির মালিক
জোর করে কাইড়া নেয় অভুক্ষার দেড় মুঠ ভাত?
বর্গা খাটি, যা আসে তায় বাইচা থাকি বংশ পরম্পরা
ঝড় বন্যায় তুফানে ভাইসা যায় ভিটা, ঘরের চাল,
মড়কে পেট ফোলা লাশ হোগলার চাটাইয়ে ঘুম পাড়ে
দু:খ কাইজা রাহাজানি দেখছি, মানুষের জবাই দেখি নাই
এই যে সরল নিরীহ সমাজ
এই দেশে কী কারণে গজবের ডাক?
কে লেখছে নরকের ইতিহাস খোদার অগোচরে?
আমরা কোন দিন দেখি নাই পিশাচের নাচ এই তল্লাটে আগে
পূঁথির ইয়াজুজ মিয়াজুজ না, খাস ইয়াহিয়া -
মানুষের মতনই তার চোখ নাক আছে,
এই কোন দেশের বাদশা যেই যুগে চান্দে গেছে মানুষ!
চাষার বসত পোড়ায়, পথে উলঙ্গ করে তার ধর্ম মাপে কোন ইবলিশ?
তবে কি ঐ পাকিস্তান রাক্ষসের আস্তানা?
তাগো নাই বাপ বইন মা?
দয়া নাই, শিষ্টতা নাই, হায়া,
মাটিতে বুড়া বাপরে হেঁচড়ায় আনে চৌকাঠে,
পোয়াতী বউয়ের তলপেটে বুট জুতার লাথি
মানুষের বুক ঝাঁঝড়া করে, বেইজ্জতী নারী স্বামীর সম্মুখে
কোন গর্ভের পূঁজে জন্মে পাকিস্তানী জারজ?
কোন পশু জন্ম দেয় এমন গাদ্দার?
শুইনা রাখিস মা,
পথের বালকও সেই দিন হাতে নিছে গুলাইল, ঝাঁড়ের আড়ালে বন্দুক ট্রেনিং
হাঁটু গাইড়া জঙ্গলে জোট বাঁধে, প্যাকের জমিনে গ্রেনেড বারুদ
পুস্তকের কালি ফুরায় এমন কাহিনী,
শুইনা রাখিস মা
অত্যাচারী টিকবার পারেনা, ট্যাঙ্কেরও সাধ্য নাই টিইকা থাকে
শূয়রের দল ছিন্ন ভিন্ন হয়, তারপর একদিন দেশ ছাইড়া গেছে
আবারও চাষে ফিরলাম বুকে নিয়া সবুজ পতাকা
আমরা তো প্যাকের মানুষ
বিহানে চারা বুনি, ধান তুলে সামলাই গোলা। এই সব নিত্য অভাবে
বুকে পাথর দিয়া - তফাৎ শুধু নিজের দেশে
নিজে থাকি
অত্যাচারী যদিও ঝড়ের মতন ফিরা আসে
পুরান কাহিনী করায় স্মরণ,
তারপরেও বুকের বিশ্বাস
জালেমেরা পলাবে একদিন, যেমন শিয়ালের মত পলাইছে পাকিস্তানী সেনা
----
ড্রাফট ১.০/ স্বেচ্ছায় চলিত ও সাধুর মিশ্রণ ...অসমাপ্ত/জিসান শা ইকরামের পোস্টের সমর্থনে
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।