আমার খুব কষ্ট হয়, যখন RAJAKAR বানানটা বাংলা বর্ণমালায় লিখা হয়। এটা বর্ণমালার জন্য অপমান।
আমার বন্ধু 'পাগলী'। মাত্র তিন মাসের ক্যাম্পাস জীবন তার, অথচ আমরা সবাই গত নয় বছর ধরে তাকে খুব মিস করি। প্রচন্ড আড্ডাবাজ, আর অসম্ভব ছটফটে।
ক্লাসে সে ছোট ছোট চিঠি লিখত, আর আমি উত্তর দিতাম। মাঝে মাঝে দুজনের যৌথ প্রযোজনায় চলতো কবিতা লিখা।
'পাগলী'টা একদিন এসে বললোঃ 'তোর কবিতার খাতাটা দে। আমি ফ্রেশ করে লিখে দেব। যত্ন করতে জানিসনা তো লিখিস কেন?' আমি উদাস ভাব ধরে একটা ভাববাদী ডায়ালগ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে নিতেই আমার ব্যাগ থেকে সে খাতাটা বের করে নিয়ে, আমার অনুমতির তোয়াক্কা না করেই বললো, 'তোর কবিতারা তোর কাছ থেকে দূরে থাকলেই ভালো থাকে।
'
সে চলে গেল।
আমি ধূমপানে।
পরদিন ক্লাসে 'যুথিকা' এল মুখ গোমড়া করে। হাতে একটা চিঠি।
পাগলা,
চলে যাচ্ছিরে।
অনেক দূরে। সুইডেন। আমার বিদায় নিতে ভালো লাগেনা বলে কাউকে বলিনি। তাই কেউ জানার আগেই চলে যাচ্ছি। চিঠিটা 'যুথি'র টেবিলে রেখে গেলাম।
বেচারা আরামে ঘুমাচ্ছে। আহারে! ঘুম থেকে উঠে না জানি কি চেহারা হবে। তোদেরকে খুব মিস করবোরে! আমি আমার জীবন থেকে এই ৩টি মাস সবসময় আলাদা করে রাখব। অন্যরকম। ও হ্যাঁ, তোর কবিতার খাতা নিয়ে গেলাম।
তোকে চিঠি লিখতে ইচ্ছে করলে, তোর কবিতাগুলোই না হয় পোস্ট করব! মনে আছে, কালকে তোকে বলেছিলাম তোর কবিতারা তোর কাছ থেকে দূরে থাকলেই ভালো থাকে! কথা দিচ্ছি কবিতারা ভালো থাকবে। আমি ভাল থাকব কিনা কে জানে?
যত্নে থাকিসরে পাগল।
ফিরে এসে তোকে নিয়ে অনেক অনেক ঘুরব।
টিলাগড়টা দেখা হলনা এখনো।
সেদিন কেন যেন নিজেকে খুব মুক্ত মুক্ত লাগছিল।
অনেকদিন পর, সেদিনই আমি কৈশোরের মত উদ্দেশ্যহীন ভাবে দূরপাল্লার লোকালবাসে উঠে গন্তব্যহীন ঘুরে বেড়িয়েছিলাম। রুমে ফিরে আমি এই কবিতাটা লিখেছিলাম।
চড়ুই স্নান
কষ্টে থাক, স্পষ্টে থাক
থাক চেতনায়; আয়নায় থাক।
বলিস, ভুলিস-
যতটা না বলতে পারিস
উদোম চড়ুই, উদোম চড়ুই
তোর আশাতেই বালির খোয়াব
স্নানের পরে সূর্য মাখিস।
খেলিসনে ঢেউ, খেলতে তো নেই
ভাবতে বসে ভুলতে গিয়েই
কলম-মনের পৃষ্ঠে থাক।
সৃষ্টে থাক। দৃষ্টে থাক।
ছবিসূত্রঃ আন্তঃর্জাল
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।