তখন ক্লাস নাইনে পড়ি। সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে । আমাদের স্কুল ড্রেসের রঙ ছিল সাদা শার্ট আর নীল প্যান্ট । আমার ড্রেস আপ সম্পর্কে তখন আমি বেজায় উদাসীন ছিলাম। ত আমি একদিন আমার ফেব্রিট হলুদ চেক শার্টটা পরে বের হইসি ।
আমার ফ্রেন্ড সুজয় শার্টটি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করে,
" ইগু কিতা ( এইটা কি ) ? "
আমি বললাম, " কি সমস্যা "
এরপর ও আর রাজু মিলে বেশ হাসাহাসি করে, আমার এটা ত শার্ট না পাঞ্জাবী। আমি ওদের হাসাহাসিতে কান দেই না,
যা খুশী বলুক না, মজা পেলে ক্ষতি কি? এভাবে আরো কিছু দিন কেটে যায়।
আমার আব্বুর একটা হাল্কা ছাই কালারের শার্ট ছিল। ক্লাস টেনে পড়ি, স্কুলের সবচেয়ে সিনিয়র ক্লাস, মনে হচ্ছে যা খুশি করতে পারব, স্যাররা কিছু বলবে না। তাই ছাই কালারের শার্টটা পরে মাঝখানের বেনচগুলোতে বসি।
স্যাররা কিছু বলে না, আমি তাতে খুশি, শার্টটা পরে আরাম এবং আর স্কুলের রুল ভাঙ্গার একটা মজা ত ভিতরে ভিতরে আছেই । কিন্তু বাদ সাধলেন এক স্যার।
স্যারের নামটা ঠিক মনে নেই, ক্লাস টেনে আমাদের ইসলাম শিক্ষা পড়াতেন। অবশ্য পড়ানোর চেয়ে আউট গল্পতে স্যারের আগ্রহ দেখা যায় ( কলেজে উঠে আমরা কি রকম বেলেল্লাপনা করব , তখন নাকি জামা কাপড় খুলে নাচলেও নাকি কেউ কিছু বলবেনা...এইসব ধরনের)
ত আমরাতো কয়েকদিন পর টেস্ট পরিক্ষা দেব, সব স্যাররা রাজ্যের যত উপদেশ আছে , সব আমাদেরকে দিচ্ছেন। হঠাৎ
নুরুল স্যার বলে উঠলেন, " অই , তুই শার্ট অগু কয়দিন দরি ধোস না ? "
আমি আর তখন কি বলব, স্যারকে বললাম আর হবে না।
ক্লাসমেটদের হাসিও আমার গায়ে লাগেনি তখন । মনে মনে আমি নিজেও মজা পাচ্ছি ধোয়া শার্টকে এরা ময়লা মনে করায় । কিন্তু সিরিয়াস না হয়ে পারলাম না যখন ইন্টার টেস্ট পরিক্ষার পর ঘটনাটা ঘটল......!!!!
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।