আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

জাতীয় পরিচয় পত্র এবং আমার কিছু কথা

একটি বাংলাদেশ, তুমি জাগ্রত জনতা, সারা বিশ্বের বিস্ময়, তুমি আমার অহংকার

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেক অনেক অসাধ্য কাজের সুচনা করেছে, যেগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কার্যকলাপের মধ্যে পড়ে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাজ হলো রুটিন অনুযায়ী কাজ করা এবং নব্বই দিনের মধ্যে দেশে একটা নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করে নির্বাচন দেয়া এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে দেশের ক্ষমতা হস্তান্তর করা। আমরা বাংলাদেশের জনগন শান্তিপ্রিয়। আমরা কোন মারামারি হানাহানি দেখতে চাই না। এটাই স্বভাবসুলভ।

আমরা চাই আমাদের ন্যায্য পাওনাটুকু পেয়ে সুখে শান্তিতে বেঁচে থাকতে। তারপরও সরকারের অনেক কার্যক্রমে তারা কখনও সমালোচিত হয়েছে আবার কখনও প্রশংসার দাবীদারও হয়েছে। ঠিক তেমনি একটা হলো জাতীয় পরিচয় পত্র প্রণয়ন। আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জনগন এই বিষয়ে একমত এবং তাদের সাধুবাদ জানাই। আমরা সবাই জানি, এটা একটা বড় প্রোজেক্ট।

যেটা শুরু করে ভালো মত শেষ করা একটা নিশ্চই বড় ব্যাপার। আমরা এও আশা করি সরকার তা শেষ করতে পারবে। এখানে মনে রাখতে হবে এই টোটাল প্রক্রিয়ায় কিছু ভুল ত্রুটি থাকতেই পারে। সেগুলো পরে সময়মত শুধরে নেয়ার সুযোগ জনগনকে দেয়া উচিত সাবলীল ভাবে। আমরা সবাই জানি এই টোটাল প্রক্রিয়াকে সুপারভাইজ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাশে থেকে।

ধন্যবাদ তাদেরকেও। এই জাতীয় পরিচয়পত্রের ফলে প্রত্যেকটি জনগন একটা করে ইউনিক আইডি পেল। এটাতো অনেক বড় পাওয়া। এগুলো এই বাংলাদেশে অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু হয়নি।

কিন্তু কেন হয়নি? সেটা আজকের আলোচ্য বিষয় না। তবে এর কিছু অসংগতি রয়েছে বলে আমি মনে করি। আমার চোখে দৃশ্যমান কিছু কিছু অসংগতি: ১। যারা ডাটা এন্ট্রি করছেন তারা ভাল ভাবে নির্দেশনা না জেনেই করছেন। আমি একটি উদাহরন দেই, আমি যখন জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্য ছবি তুলতে গেলাম তখন আমাকে চশমা খুলে ছবি তুলতে বাধ্য করা হলো।

আমি অপারেটরকে বললাম আমি কেন চশমা খুলবো? এখানে উল্লেখ্য, আমরা যারা সবসময় চশমা ইউজ করি তাদের চেহারার সাথে চশমাটা যুক্ত হয়ে গেছে। একজন চশমা পড়া লোক যদি চশমা খুলে রাখে তবে তাকে সহজে চেনা দুস্কর। আর যে লোক কোন দিনও আমাকে দেখেনি সে যখন আমাকে চশমা পড়া চেহারার সাথে আইডি কার্ডে থাকা চশমা খোলা চেহারা মিলাতে যাবে তখনই ভড়কে যাবে। এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত। বরং আমি যেটা জানতাম, কোন লোক বিশেষ কোন টাইপের সানগ্লাস বা চশমা বা বিশেষ কোন ক্যাপ পড়ে ছবি তুলতে পারবে না এবং এটাই হওয়া উচিত।

জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্য ছবি তোলার পরের দিন এই ব্লগে একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম এই চশমা খুলে ছবি তোলার প্রসংঙ্গে। কাকতলীয় ভাবে ঠিক তার পরের দিন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার চশমা পরে ছবি তোলার দৃশ্য টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। তখন সবার মনেই সন্দেহর দানা বাঁধে। পরে এ ব্যাপারে পত্রিকায় লেখালেখি দেখেছি। নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয় আসলে চশমা খুলে ছবি তোলা ব্যাপারে কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

২। আমি যতজনের সাথে কথা বলেছি এই জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবির ব্যাপারে, তার মধ্যে প্রায় ৯৮% লোক বলেছেন তাদের ছবি চ্যাপ্টা হয়ে গেছে। তবে কেন হলো এটি। আমার যতটুকু মনে হয় এন্ট্রির যে সফটওয়্যারটা তৈরী করা হয়েছিল (একটা বিখ্যাত সফটওয়্যার কোম্পানী দ্বারা) তারা ছবি ইনপুটের জন্য যে জায়গা রেখেছিল এবং ক্যামেরাতে ধারন করা ছবির এসপেক্ট রেসিওর সাথে তার মিল ছিল না। সফটওয়্যারে সম্ভবতঃ লম্বায় কম জায়গা এলোকেট করা ছিল।

৩। স্পেলিং অনেক ভুল পাওয়া গিয়েছে। কোন টাইপে ২-৩% ভুল স্পেলিং টাইপকে সঠিক বলে বিবেচনা করা যায়। কিন্তু এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল এবং দক্ষ লোককে দিয়ে টাইপ করানো প্রয়োজন ছিল। ৪।

ভিতরের কাগজ নরমাল অফসেট ইউজ করা হয়েছে। আর্ট কার্ড ইউজ করা যেত বলে মনে হয়। ৫। লেমিনেশন খুবই নিম্নমানের। যখন আমি কার্ড গ্রহণ করি তখন দেখি বেশ কয়েকজনের লেমিনেশানের আটা খুলে গেছে।

এরপর আমরা যখন কার্ডটি ব্যাবহার করবো তখন ভালো থাকা কার্ডগুলোরও লেমিনেশন খুলে যাবে। এবং পানি বা ঘাম অথবা আর্দ্রতার কারনে বাস্প ভিতরে যেয়ে লেখাগুলো লেপটে ফেলতে পারে। এই জাতীয় পরিচয় পত্র পাসপোর্টের মতই মূল্যবান। সুতরাং একে রক্ষনাবেক্ষণ করতে হবে ভাল করেই। সেই হিসেবে এটাকে টেকসই করে তৈরী করতে হবে।

আমরা চাই কিছুদিন পরে সরকার ঘোষনা দিক যে, কোন ভোগান্তি ছাড়াই জনগন এই সল্পমেয়াদী কার্ডগুলোকে প্লাষ্টিক কার্ডে পরিণত করতে পারবে (প্রয়োজন হলে পুনরায় ছবি তুলে)। এতকিছুর পরেও আমি আবারো সরকার এবং সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই এই অসাধ্য কাজটি সাধ্য করার জন্য।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.