আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

খেলনা বাড়ি- ০১

জীবনের গল্প বলে যাই গল্পের মতো করে...

[ংন]আজ থেকে ব্লগে ধারাবাহিকভাবে একটা চমৎকার ছোটগল্প পোস্ট করব। তবে গল্পটা আমার নিজের লেখা নয়। আমার প্রিয় অন্যতম প্রিয় লেখক সাঈম চৌধুরী এটি লিখেছেন। দেখুন কেমন লাগে। [/ংন] বড় ভাইয়া এমন ভঙ্গিতে বলেন, ঠেলাগাড়ি এসে গেছে।

যেনো এই ঠেলাগাড়ি আসার জন্য একা কেবল আমি দায়ী, যেনো তাঁর কোনো দোষ নেই। তাঁকে জানানো উচিত এখনো আমার ঠেলাগাড়ি এসে পৌঁছেনি। এটা সম্ভবত তাঁর জন্যেই এসেছে। এমন সময় রাজু এসে বলে যায়, এটা আমার ঠেলাগাড়ি। মালামালগুলো কি এখনই তুলে নেব? আমি দীর্ঘশ্বাস চেপে রেখে বলি, হ্যাঁ, তুলে নে।

তোর থেকেই শুরু হোক। আমার কথায় রাজু খেপে ওঠে। আমার থেকেই শুরু হবে মানে? এরকম কথা বলছ কেনো, আলাদা হবার দিনটাতেও কি ঝগড়া বাঁধাবে? রাজুর কথার উত্তরে আমাকে আর কিছুই বলতে হয় না। বড় ভাইয়া বলেন, ঝগড়া আর কোনদিন হয়নি শুনি? সারা এলাকার মানুষইতো প্রতিদিনের ঝগড়ার কথা জানে। তোদের বিয়ের পর থেকেই তো এ বাড়িতে আইন আদালত উঠে এসেছে।

এবার তো আলাদা হয়ে যাচ্ছি সেই আনন্দেই শেষ ঝগড়াটা হয়ে যাক। বড় ভাইয়ার কথার উত্তরে আমি কিছু বলতাম হয়তো; কিন্তু এমন সময় সুরমা এসে জানিয়ে যায় আমাদের ঠেলাগাড়িটাও এসে গেছে। এই মুহূর্তে ঝগড়া বাঁধিয়ে লাভ নেই। এমনিতেই এতদিন ধরে আমরা প্রচুর ঝগড়া করেছি, রীতিমতো যুদ্ধে মেতেছি। একজন অন্যজনের ভাই থেকে শত্র“ হয়ে উঠেছি।

আজ শেষদিনে না হয় বড় ভাইয়ার কথাই মেনে নিলাম। বড়ভাই হিসেবে অন্তত এতটুকু সম্মান তাঁকে দেখানো যেতে পারে। তাছাড়া হাতেও তেমন সময় নেই। এখনই বেলা এগারোটা বাজে। দিনে দিনে বাসা বদলের ঝক্কিটা চুকে গেলেই বাঁচি।

এখানে এই বাড়িটাতে আমরা এসেছিলাম আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগে। তখন বুঝতে পারিনি বাড়ি ছাড়তে গিয়ে আমরা তিন ভাই আলাদা তিনটে পথ বেছে নেব। এতদিনে বাড়িটার প্রতি একটা মায়া পড়ে গেছে। মায়া পড়ে গেছে ওপরতলার বাড়িওয়ালা চাচার প্রতি, তার স্ত্রীর প্রতি, ছেলের প্রতি। শুধু মায়া কেটে গেছে ভাইয়ে আর ভাইয়ে।

এখানে যখন এসেছিলাম তখন বাবা-মা বেঁচে ছিলেন। মা বাড়িটা দেখে কী যে খুশী হয়েছিলেন। এত বড় বাড়ি, কী বিশাল চমৎকার উঠান! সারাটা উঠান জুড়ে গাছগাছালির রাজত্ব। তখন আমাদের কারোই দোলনা চড়ার মতো বয়স অবশিষ্ট ছিল না; তবুও মা উঠানের এক কোণে দড়ি বেঁধে দোলনা ঝুলিয়েছিলেন। প্রতি বিকেলে তিনি বাড়িওয়ালার ছোট ছেলেকে সাথে নিয়ে দোলনায় চেপে বসতেন।

এ নিয়ে বাবার কত হাসি। বড় ভাইয়া তখন সবেমাত্র বিয়ে করেছেন। ভাবীর সাথে আমাদের কী মধুর সম্পর্ক! ভাবী বলতেন এমন দু’জন দেবর যার আছে তার আর নিজের ভাইয়ের কোনো প্রয়োজন নেই। সেই ভাবীর সাথে গত এক বছর ধরে কথা বলাটাই বন্ধ। ভাবী আমাদের দেখলে চোখ ফিরিয়ে নেন।

ভাগ্যিস এই পর্যায়টাতে এসে বাবা-মা দু’জনের কেউ বেঁচে নেই। তাঁদের ছিল পরম সুখের দাম্পত্য জীবন। একজনের প্রতি অন্যজনের গভীর ভালোবাসা। বাবার মৃত্যুর একবছর না যেতেই সেই ভালোবাসার প্রবল টানে মাও চলে গেছেন। তখন রাজু মাত্র বিয়ে করেছে।

এই বাড়িতে আসার পর দু’টো বিয়ে, দু’টো মৃত্যু, তিনটে জন্ম এইসব হিসেব নিলে দশ বছর মাসে দীর্ঘ একটা সময়।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।