[অন্যর দোষ না খুঁজে আগে যদি সবাই নজের দোষটা খুঁজত তাহলে বোধহয় সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত]............... [পথের শেষ নেই, আমার শেষ আছে, তাইত দ্বন্দ্ব] http://mamunma.blogspot.com/
দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারীকে যখন একই প্রশ্ন জিজ্ঞাস করা হয়েছিল তার উত্তরও একই দিকে যেতে শুর করেছিল। যদিও তার উত্তরের মাঝে সাহসের ছাপ ছিল আরও ব্যাপক। তার বয়স ছিল আগের জনের চেয়ে দুবছর কম। সে নিজেকে মনে করে একজন গুণী লেখক হিসেবে। অনেক পত্র পত্রিকায় গল্প কবিতা ছাপানোর ব্যর্থ প্রয়াসের পর তার কণ্ঠে সাহসিকতা ভর করেছিল চরম ভাবে।
তাই প্রতিভা বিকাশ এবং খ্যাতিমান হবার পেছনে মূল কারন হিসেবে সে টেনে এনছিল আর্থিক দিকটা। সে বলেছিল মন্ত্রীদের টাকা এবং ক্ষমতা এ দেশে এতই বেশী প্রভাব ফেলে যে তারা চাইলে সব পারে এবং দীপ্ত সাহেবও সব পেরেছেন।
সে আরও একধাপ সাহসীকতার সাথে বলেই ফেলেছিল সূচিত্রা বিখ্যাত হবার পেছনে মূল কারনই হলো দীপ্ত সাহেব এবং তার পূর্বে দীপ্ত সাহেবের মতো আরও দুজনের কাছে সৌন্দর্য্য বিকিয়েই।
শুনে সূচিত্র অগ্নি মূর্তি ধারণ করতে যাচ্ছিলেন তার আগেই দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারী বঙ্কিমের দিকে ফিরে উল্টো প্রশ্ন করলো বঙ্কিম আশরাফ ইনাম নামে কাউকে চেনেন কিনা। বঙ্কিমের উত্তরের অপেক্ষা না কেরই সে বলল, ‘ উনি আমার দাদা, আপনি স্বীকার করেন বা নাই করেন , উনাকে টেনে ধরেই আপনার হীন উত্থান।
...স্বীকার তো আপনি করবেন ই না জানি বরং উল্টো বলে বেড়ান আশরাফ ইনাম তার চাকুরী হারানোর রোষে ক্ষিপ্ত হয়ে আপনার লেখা ব্যান করার আন্দোলনে নেমেছিলেন, অথচ আদতে ঐ কর্মটি আপনারই করা ছিল। আমার দাদা যে পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সেখানেই আপনি সামান্য একজন রিপোর্টারের কাজ করতেন। দাদা একবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন এবং তখন আপনাকেই তার দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন কোন এক অজানা বিশ্বাসে। আর আপনি সেই সুযোগে তার টেবিল থেকে তার লেখা সব পান্ডুলিপি আর কলাম নিজের নামে পত্রিকায় ছাপিয়ে দিলেন। আর দাদার নাম দিয়ে এমন এক কলাম লিখে ছাপালেন যাতে তাকে ঐ অসুস্থ অবস্থাতেই যেতে হলো জেলে।
সামরিক সরকারের সুবিধাটা দারুন ভাবেই হেল্প করেছিল আপনাকে। জেলে বেশী দিন না থাকলেও দাদার ঐ অনুপুস্থিতিতে পত্রিকার পাকাপোক্ত সম্পাদক বনে গেলেন আপনি এবং ততদিনে আপনার পরম বন্ধু হিসেবে পাশে পেয়েছিলেন মন্ত্রী পুত্র কামরুল সাহেবকে। ফলে দুজনারই হলো পোয়া বারো। একজনের ক্ষমতা আর অর্থ আরেকজনের ছাপা অক্ষরের শক্তি। ...
তার এই লম্বা বক্তৃতা এখানেই থামিয়ে দিলেন দীপ্ত , বললেন , আপনি এখন আসতে পারেন।
প্রতিভা বিকাশের খামখেয়ালীপনা আয়োজনটা এরপার ওখানেই শেষ করে ফেলার কথা তিনজনেরই। কিন্তু শেষোক্ত জন নারী হওয়ায় তাকেও ডাকা হলো। তারউপর সে লিখেছিল প্রতিভার চেয়ে ভাগ্য বেশী দরকার...।
তার শুরুটা ছিল অন্যরকম। তারউপর তার তারুন্য আর যৌবন উছলানো রূপ প্রথম দর্শনেই দীপ্ত আর বঙ্কিম কে মুগ্ধ করেছিল।
যদিও নারী হিসেবে স্বাভাবিক ভাবেই অন্য নারীর সৌন্দর্য হিংসার জাগরণও ঘটিয়েছিল সূচিত্রার মাঝে।
শিউলী নামের ঐ ২৬ বর্ষী তরুনী টি বলল, ‘আপনাদের টাকা আর খ্যাতি আমার প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারলেও পারবেনা আমাকে একজন সফল অভিনেত্রী বানাতে । কারণ আমার প্রতিভার চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ আমার ভাগ্য। আমার ভাগ্যে যদি থেকেই থাকে তবে আমি নিশ্চিত আপনাদের ইচ্ছে পূরণ করতে পারব এবং হাতের পুতুল হয়ে স্বার্থ সিদ্ধি করে সকল কথা মেনে চলতেপারব। আপনারা তখন আমাকে দিয়ে আপন ইচ্ছের পূরণ ঘটাতে পারবেন এবং তাতেই আমার ভাগ্য আরও খুলে যাবে।
অনেক দারে ঘুরে প্রোমোটারদের কাছে আমি কেবলই কু প্রস্তাবই পেয়েছি। তাই আপনাদের এখানে এসেছি এই ভেবে যে ভাগ্য যদি কু পথ অবলম্বন করেই ডাকে খ্যাতির দিকে তবে আপনাদের মতো মহা খ্যাতিমান কাছে যাওয়াটাই ভালো তাতে ভাগ্য একটু বেশীই সহায়ক হবে বলে বিশ্বাস করি। ...’
এরপর আর তাকে প্রশ্ন করা ইচ্ছে চলে গিয়েছিল সূচিত্রার , সে তক্ষণী সুবর্ণাকে চিৎকার দিয়ে ডেকে এনে বলেছিল,‘ এই বাজে মেয়েটাকে এখনি এখান থেকে বের করে দাও। ’
ওটাই শেষ। আর কাউকে কল করা হয়নি এর পর ।
রাতেই মোবাইল কোম্পানীতে ফোন করে অটো মেসেজিং টা বন্ধ করার ব্যবস্থা নিয়েছিল সুবর্ণা।
ওর চেয়ে বেশী আর সত্য শোনার সাহস পায়নি ঐ তিন খ্যাতিমান। তবে তারা অতটুকুতেই বুঝেছিল তাদের খ্যাতি যেমন আকাশচুম্বি , জনগণের মনে তেমনি তাদের প্রতি হীনতার পরিমাণ আরও উঁচু।
...............শেষ................
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।