আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

খ্যাতি প্রক্রিয়ার উপাখ্যান (২য় পর্ব)

[অন্যর দোষ না খুঁজে আগে যদি সবাই নজের দোষটা খুঁজত তাহলে বোধহয় সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত]............... [পথের শেষ নেই, আমার শেষ আছে, তাইত দ্বন্দ্ব] http://mamunma.blogspot.com/

অ্যাড প্রকাশের পূর্বের দিনই একটা অফিস রুম এবং একজন সার্বক্ষণিক তত্বাবধায়কের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অফিস রুম হিসাবে মিঃ দীপ্তর নিচতলার একটা রুম বেছে নেয়া হয়েছিল কারন নিচতলা টা পুরোটাই ছিল ওনার অফিস। বাহিরের দিকের একটা রুম পুরোপুরি এই কাজের জন্যে ছেড়ে দেন তিনি তার ব্যক্তিগত সহকারী মিস সুবর্ণাকে। অ্যাড প্রকাশের দিন সকাল থেকেই সুবর্ণা অফিসে বসে রিসিভ করতে শুর করেছিলো সবার ফোন এবং কাজটা সে করছিল তার স্বভাব সুলভ হাস্যজ্বল মুখে। বসদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সে জানিয়ে দিচ্ছিল আগামী ৩ দিন মানে নেক্সট শনিবারের মধ্যে একটি সাদা কাগজে যে নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছে সেই নম্বরটি এবং ফোনকারী ব্যক্তিটি কোন বিষয়ে প্রতিভাবান মনে করেন নিজেকে সেটি সহ অ্যাডদাতা তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তি তার প্রতিভা বিকাশ করতে পারবেন বলে কেনো সে বিশ্বাস করে তার কারন সংক্ষেপে লিখে অফিসের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতে হবে।

সুবর্ণা তাদের সাথে সাথে এ কথাও জানিয়ে দিচ্ছিল যে যথাসময়ে তাদের নম্বরে এসএমএস করে অফিসের ঠিকানা জানিয়ে দেয়া হবে। বিখ্যাত ব্যক্তিত্রয় এতটাই খ্যতিমান বা ক্ষমতাধর ছিলেন যে মোবাইল কোম্পানীকে বলে তারা সহজেই ব্যবস্থা করেছিলেন ৩দিনের জন্যে তাদের ঐ নতুন অফিসিয়াল নম্বরে যত কল রিসিভ করা হবে তাদের সকল নম্বরে অফিসের অ্যাড্রেস অটোমেটিক এসএসএস হয়ে যাবে। এছাড়া তারা আরও ব্যবস্থা করিয়েছিল ৩ দিন পর যারা ফোন করে আবেদনের ইচ্ছা প্রকাশ করবেন তাদের ফোন রিসিভ করা হবেনা এবং তাদের কে অটো অ্যানসার শোনানো হবে এই বলে যে, ‘ আপনি দেরী করে ফেলেছেন বলে আমরা দুঃখিত, মনে রাখবেন প্রতিভাবানরা সময়ের কাজ সময়েই করে থাকে। ’ চরম প্রতিভাবান এবং সাথে সাথে খ্যাতিমান অথবা কেবল চরম খ্যতিমান ব্যক্তিমাত্রই একটু খামখেয়ালীপনা হয়ে থাকেন, এইটাই স্বাভাবিক ধরা হয়। তাই উক্ত তিন খ্যাতিমানের এই ধরনের খেয়ালী কর্মের পেছনে মূলত প্রক্ষাপট কি ছিল জানা দরকার।

আইডিয়াটা প্রথমে আসে সূচিত্রা চৈতালীর মাথায় । হঠাৎ করেই । তবে হঠাতেরও একটা কারণ থাকে। সেরূপ কারনও ছিল। তারা তিনজন মানে সূচিত্রা, তার স্বামী মিঃ দীপ্ত এবং মিঃ বঙ্কিম একসাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন।

আড্ডার জায়গাটা ছিল কামরুল আহসান দীপ্ত সাহেবের ড্রইং রুম। যে কোন আড্ডাতেই এই তিনজন সামনে নিয়ে বসেন একই সাথে ভদকা, হুইস্কি আর ওয়াইন এর বোতল। সাথে বিয়ারের ক্যানও। মাতাল হবার জন্যে নয়। আড্ডার মাঝে তর্ক যেন চরমে পৌঁছাতে না পারে তার থেকে মুক্তির জন্যে একটা শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে।

এটা অবশ্য কোন যুতসই কারন নয়। আসলে কোন কারনই দরকার নেই। তারা সবসময়ই ড্রিংকস করেন তাই তাদের ত্রয়ী আড্ডাতেও চলে তাই। কিন্তু মিঃ দীপ্ত আবার সব কাজে কারনে বিশ্বাসী। তাই একটা কারন বের করে দিয়েছে মিঃ বঙ্কিম।

আর নানাপদের ড্রিংকস রাখার ব্যাপারটিকে তাদের খ্যতির নানাদিকের সাথে কমপেয়ার করা যেতে পারে। তারা যখন আড্ডা দিচ্ছিলেন ঠিক সে সময় তাদের সামনে অন করা টিভিতে চলছিল একটি প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগীতা। আজকাল তো টিভি খুললেই দুটো জিনিসই দেখা যায় বারংবার , এক ঐ প্রতিভা অন্বেষণ আর ২য় হলো দেদারসে টক শো, এদেশের সবাই যেন কেবলই বলতে জানে, সব জানে, কথার ঝরাতে পারে অনবরত ফুলঝুরি। প্রতিভা অন্বেষন অনুষ্ঠানটির নামছিল ‘ বাংলার শিল্পী তুমিই’।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.