আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

খ্যাতি প্রক্রিয়ার উপাখ্যান (৩য় পর্ব)

[অন্যর দোষ না খুঁজে আগে যদি সবাই নজের দোষটা খুঁজত তাহলে বোধহয় সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত]............... [পথের শেষ নেই, আমার শেষ আছে, তাইত দ্বন্দ্ব] http://mamunma.blogspot.com/

প্রতিযোগীতার আসরে বিচারকের আসন অলংকৃত করে রেখেছিলেন যে তিনজন বিচারক তারা সবাই সংগীত শিল্পি এবং তাদের খুবই পরিচিত , একসাথে অনেক সময়েই ওঠাবসা হয়েছে তাদের সাথে। বিচারক তিনজন অংশগ্রহণকারীদের পরফরমেন্স দেখে মানে গান শুনে নম্বর দিচ্ছিলেন আর মাঝে মাঝে জ্ঞানের ফুলঝুরি ছড়াচ্ছিলেন ইচ্ছেমত। যদিও বিচারকদের নম্বরের চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ ছিল অগণিত দর্শকের এসএমএস ভোট । বিশিষ্ট তিন খ্যতিমান তাদের ড্রইং রুমে আড্ডা আর মদের আসরে ঐ অনুষ্ঠান নিয়েই হঠাৎ তর্ক শুরু করেছিলেন। মিঃ দীপ্ত বলছিলেন অনুষ্ঠানটা নাকি পুরো ব্যবাসায়ীক এক ফন্দী, টেলিকম কোম্পানীগুলোর অর্থ হাতিয়ে নেয়ার এক মহোৎসব।

অর্থ উপার্জনের নিমিত্তে কিছূ অংশগ্রহনকারীকে ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্র। প্রতিভা বিকাশ টিকাশ এখানে মূখ্য কিছুনা। প্রতিভা থাকলেই শুধু কিছু হয়না। কোন কারও প্রত্যক্ষ সাহায্য সহযোগীতা বা করুনা না পেলে কখনই কেউ খ্যাতি পায়না। কেউ হাত ধরে না টানলে অন্যের উপরে উঠার উপায় নেই যদি না সে আর্থিকভাবে ক্ষমতাধর হয়।

তিনি আরও বলছিলেন এই যে অনুষ্ঠান টিতে কারও অর্থের স্বার্থ আছে দেখেই কেউ অন্যকে ব্যবহার করছে, অন্যর প্রতিভাকে ব্যবহার করছে। অর্থ একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার প্রতিভার বিকাশে এবং সেই সাথে অর্থবানের স্বার্থ। বঙ্কিম সাহেব এই মতামতের ব্যাপারে স্পষ্ট দ্বিমত প্রকাশ করে বলে উঠলেন, মোটেও না। বিখ্যাত হবার জন্যে মূলত দু ধরনের ভাগ্যের কম্বিনিশন দরকার। যার প্রথম টি হলো একজনের ভেতরে প্রতিভা থাকার ভাগ্য এবং দ্বিতীয়ত সেই প্রতিভা বিকাশের একটা সুযোগ পাওয়ার ভাগ্য।

পুরো প্রত্রিয়াটাই ভাগ্যেও বেড়াজালে ঘেরা। এই যে আয়োজন এখানে প্রথম ভাগ্যটা যাদের আছে তারাই তো এইখানে এই স্টেজে উঠার সুযোগ পেয়েছে। আর দ্বিতীয়ত ভাগ্য টার ক্ষেত্রে বিচার করতে গেলে বলতে হয় সেটা স্বল্প মাত্রায় বিচারকদের বিচার এবং ইচ্ছের উপর নির্ভর করলেও মূল ব্যাপারটা শেষ পর্যন্ত নির্ভও করছে এস এমএস এ ভোটপ্রদানকারী জনগণের উপর যারা আবার বেশীরভাগই যথাযথ গুণী বিশ্লেষক না কিন্তু তাদের ভোটের আধিক্যই নির্ধারণ করবে কারও খ্যতি অর্থাৎ অজানা সেই জনগণের উপর নির্ভর করছে একজন প্রতিভাবানের পুরো ভাগ্য। দুজনে এই আলোচনার ভিন্নতায় তুমুল তর্কে চলে যাচ্ছিল দেখে সুচিত্রা মুখ খুলেছিল এবং বলে উঠেছিল তার মতে প্রতিভা বিকাশের জন্যে বা খ্যাতির জন্যে কোন সুনির্দিষ্ট রীতিই নাই। প্রতিভাবান ব্যক্তিই আপন প্রাণে , আপন মনে ঠিক করে নেবেন কিভাবে তিনি বিকশিত হবেন।

এখানে ২য় বা তয় কোন কারও কোন ভূমিকা নেই। কিভাবে কি হবে বিখ্যাত হবার পথে পদক্ষেপ তা নিজে নিজে বুঝে উঠতে পারার ব্যাপরটাই আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ সম্পূরক প্রতিভা। সূচিত্রার এই সম্পূরক প্রতিভার কথায় বঙ্কিম হো হো করে হেসে উঠছিলেন কিন্তু দীপ্ত ক্ষি হয়ে বললেন, বাজে কথা । বললেন তার প্রত্যক্ষ সাহায্য না পেলে সেদিনের সেই মধ্যবিত্ত ঘরের একটা সাধারণ মেয়ে সূচিত্র কর্মকার কোনদিনই আচকের সূচিত্র চৈতালী হয়ে উঠতে পারতো না। সূচিত্রাও কম যান না।

বলেই ফেললেন যে তিনি সেইটা বুঝেছিলেন , বুঝেছিলেন তার প্রতিভার গুনেই যে এইটাই পথ। এগোনোর পথে পা সঠিক মতো ফেলেছিলেন বলেই খ্যাতিমান হতে পেরেছেন। এটা তার সম্পূরকত প্রতিভা , মূল প্রতিভা বিকাশের সহায়ক । তিনি একটু জোরালো কণ্ঠে এমনকথাও বলে উঠলেন যে তিনি তার উপস্থিতি ছাড়াও দীপ্ত এত বিখ্যাত হতো পারতনা। এখানে একজন আরেকজনকে সহযোগীতা করেছে মাত্র অথবা করেছে ব্যবহার।

স্বামী স্ত্রীর তর্ক বৃদ্ধি পাচ্ছিল দেখে বঙ্কিম থামানোর প্রচেষ্টায় বলে উঠলেন সবার কথাতেই আসলে যুক্তি আছে। তিনি আরোও বললেন তার মনে হয় খ্যাতি প্রত্রিয়ার অুনসন্ধানে তারা তাদের খ্যাতিকে ব্যবহার করে নিশ্চয় কিছূ করতে পারেন। তাতে তাদের এই তর্কও কিছুটা লাঘব হতে পারে। এরপরপরই সূচিত্রা চৈতালী সেই প্রস্তাব টি করেছিলেন। তিনজনেরই পছন্দ হয়েছিল আইডিয়াটা।

তারা ভাবছিলেন টিভি শোর মতো লোক দেখানো বা ওত কমন কিছু করবেন না বরং তাদের উদ্দেশ্য হবে প্রতিভাশালী ব্যক্তির স্বপ্রচেষ্টায় বিখ্যাত হবার পন্থাটা ধরিয়ে দেয়া কেবল এবং তাকে দেখিয়ে দেয়া খ্যাতির পথটি। তারা মোট তিনজন প্রতিভাবান কে নির্ধারণ করবে যাদের একজন হবে অভিনয় শিল্পী , একজন লেখক আর অন্য জন সংগীত শিল্পী। মদের নেশায় হালকা মেজাজে সবাই সেই সন্ধ্যার আড্ডায় খুবই এক্সাইটমেন্টে পরিকলপনার প্রায় পুরো অংশটাই করে ফেলেছিলেন । সে পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দুদিন পরে দেয়া হয় পত্রিকার পাতায় অ্যাড।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.