আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

‘মানি না, মানি না, মানি না’

ওই চুক্তি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের জন্য বুধবার ভারতের রাজ্যসভায় বিল ওঠার পর নিজের ফেইসবুক ফ্যানপেইজে মমতা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান।
তিনি বলেন, “আমরা এই চুক্তি মানি না, মানি না, মানি না। রাজ্য সরকার এর বাস্তবায়ন করবে না।  
বহু বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ বুধবার রাজ্যসভায় সংবিধান সংশোধনের ওই প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যার মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের ছিটমহল বিনিময় ও সীমান্ত জটিলতার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সালমান খুরশিদ বিল উত্থাপনের জন্য দাঁড়াতেই মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন এবং অসম গণপরিষদের নেতা বীরেন্দ্র প্রসাদ বৈশ্যর নেতৃত্বে দুই দলের সদস্যরা প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।


এক পর্যায়ে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে বীরেন্দ্র বৈশ্যসহ কয়েকজন সালমান খুরশিদের দিকে তেড়ে গেলে হৈ চৈ-এর মধ্যে অধিবেশন ১০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হয়। পরে হৈ চৈয়ের মধ্যেই সালমান খুরশিদ ভারতের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের এই বিল উত্থাপন করেন।
বিলটি উত্থাপনের পরপরই রাজ্যসভার চলতি অধিবেশন শেষ হয়ে যায়। ফলে পরবর্তী অধিবেশনে তা নিয়ে আলোচনা হবে।
তৃণমূল ও অসম গণপরিষদের অভিযোগ, বাংলাদেশের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হলে সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

  
আর কেন্দ্র সরকারের এই উদ্যোগকে মমতা দেখছেন ‘দুর্ভাগ্যজনক ও নির্লজ্জ এক পদক্ষেপ’ হিসাবে।   
“এটি নির্দিষ্ট একটি দলের রাজনৈতিক নখড়া… নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা। ”
মমতার ভাষায়, রাজ্য সরকারের সম্মতি না নিয়েই কেন্দ্রীয় সরকার এককভাবে এই বিল চাপিয়ে দিতে চাইছে; অথচ কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, আসাম, ত্রিপুরা ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর স্বার্থ এর সঙ্গে জড়িত।   
অবশ্য এই অভিযোগ খণ্ডন করে সালমান খুরশিদ ইতোমধ্যে বলেছেন, 
এই চুক্তির বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সম্মতির কথা জানিয়ে ২০১১ সালের ১৫ অগাস্ট তখনকার পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাইকে একটি চিঠি পাঠান রাজ্যের মুখ্যসচিব সমর ঘোষ।
ওই চিঠিতে স্পষ্টভায়ায় বলা হয়, “খসড়া চুক্তিতে রাজ্য সরকারের সম্মতির কথা আমি আপনাকে জানাচ্ছি।


আর যেহেতু মমতা বন্দোপাধ্যায় ২০১১ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দায়িত্ব নিয়েছেন, সেহেতু তার সম্মতি ছাড়া সমর ঘোষ ওই চিঠি লিখতে পারেন না বলেও যুক্ত দিয়েছেন খুরশিদ।
রাজ্যসভায় বিল তোলার পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর এই বিরোধিতা এসেছে অনেক দেরিতে। আমরা আশা করব, পুরো দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেন তিনি যৌক্তিক আচরণ করবেন। ”   
মমতার ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, তৃণমূল নেত্রীর দাবি অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের জন্য ২৫ হাজার কোটি রুপির বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ না দেয়ায় এবং তেলেঙ্গানার নতুন রাজ্য ঘোষণার মাধ্যমে দার্জিলিংয়ে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনকে নতুন করে জীবন দেয়ায় ভারত সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।


সোর্স: http://bangla.bdnews24.com

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.