শুধু তাই নয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায়ও প্রতিবাদ আসেনি এই অভিভাবকদের কাছ থেকে।
তাদের উল্টো দাবি, আন্দোলনের নামে ক্যাম্পাসে যারা ‘নৈরাজ্য’ সৃষ্টি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
আর শিক্ষার্থীরা বলছেন, স্বার্থগত কারণেই তারা এক হয়েছেন। আইন ও বাণিজ্য অনুষদে চালু হওয়া সান্ধ্যকোর্সের ১৪টি বিভাগের দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষক বিএনপি-জামায়াতপন্থি হওয়ায় প্রশাসনের পাশে থাকার পথ বেছে নিয়েছেন তারা।
এদিকে রোববারের ঘটনায় সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির ব্যানারে ‘শিক্ষক লাঞ্ছনা, ক্যাম্পাসে নৈরাজ্য ও তাণ্ডবের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকাল ১১টার দিকে সিনেট ভবনের পাদদেশে ওই মানববন্ধন কর্মসূচিতে নিশ্চুপ থাকতে দেখা গেছে জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের।
মানববন্ধন শেষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর মু. আজহার আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মু. সাইফুল ইসলাম, প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক আনন্দ কুমার সাহা, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরমের প্রফেসর আফরাউজ্জামন খান প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সাত দফা সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি বলেন, “সান্ধ্যকোর্স বন্ধ ও বর্ধিত ফি বাতিলের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কিছু শিক্ষার্থী আন্দোলন করে আসছিল। আন্দোলনের একপর্যায়ে গত রোববার ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এসময় তারা শিক্ষকদেও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন এমনিকি শিক্ষকদের বাসভবন ও অফিসে হামলা চালায়। ”
“যারা এ ঘটনার জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা নিজেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবো। ”
শিক্ষক সমিতির সভাপতি আজাহার আলী বলেন, “ওই আন্দোলন সাধারণ শিক্ষার্থীরা করেনি। শিক্ষার্থীদের সান্ধ্যকালিন কোর্স বাতিলের সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে যৌক্তিক মনে হয়নি। তাই আমরা যেসব শিক্ষার্থী রুপে আমাদের শিক্ষকদের বাসায় ভাংচুর ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করেছি।
”
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক শামসুল আলম সরকার বলেন, “আসলে আমরা এক হয়েছি কথাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। যেখানে শিক্ষার্থীদের বর্ধিত ফি স্থগিত করা হয়েছে সেখানে শিক্ষার্থীরা কেন আন্দোলনে গেল?”
সোমবারের মানববন্ধন কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সঙ্গে অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “শিক্ষক সমিতির সদস্য হিসেবে আমরা ওই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম। ”
আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক ও ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আয়তুল্লাহ খোমেনী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নীতি আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া সত্যিই লজ্জাকর।
যাদেরকে এতোদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেখেছি অথচ তারাই আজ নিজেদের স্বার্থে একাকার হয়ে গেলেন!”
ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত রেজা আশিক বলেন, “যেখানে সকল শিক্ষার্থী আন্দোলন করছে সেখানে শিক্ষকদের পক্ষপাতিত্ব নেয়া শিক্ষার্থীদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলাবে। আমরা চাইবো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শুভবুদ্ধির উদয় ঘটবে। ”
উপাচার্য অধ্যাপক মিজানউদ্দিন বলেন, “যারা সহিংসতা ও নৈরাজ্যকর পরিবেশ তৈরি করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থা মূলত তাদের জন্য। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান কখনো নেইনি, ভবিষ্যৎ নেব না। ”
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।