আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মৃত্যুর অস্তিত্ব?!!

মৃত্যুর অস্তিত্ব আছে কি নাই তা নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই। কয়েকদিন আগে বিখ্যাত স্টেম সেল গবেষক রবার্ট লানযার লেখা পড়লাম। সেই লেখাটা সবার সঙ্গে শেয়ার করলাম। খটোমটো বৈজ্ঞানিক কথা যথাসম্ভব সোজা করে লেখার চেষ্টা করেছি। কতটুকু পেরেছি তা আপনারাই ভাল বলতে পারবেন।

মৃত্যুর অস্তিত্ব?!! রবার্ট লানযা,এমডি আমাদের মধ্যে অনেকেই মৃত্যুকে ভয় পায়। আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই কারণ আমাদের বলা হয়েছে যে আমরা মারা যাব। শরীরের ব্যাপারে আমরা এতটাই সচেতন যে মৃত্যু বলতে আমরা শারিরীক মৃত্যুই বুঝি । আমরা ভাবি মৃত্যুই সবকিছুর শেষ। নতুন বৈজ্ঞানিক তত্ত্বমতে কিন্তু তা ঠিক নয়।

কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের একটি দিক হচ্ছে এর কিছু পর্যবেক্ষণ পুরোপুরি আন্দাজ করা যায় না। এর পরিবর্তে সম্ভাব্য পর্যবেক্ষণের একটা সীমা আছে যার প্রতিটির সম্ভাব্যতা ভিন্ন। একটি মূল ধারার ব্যাখ্যা অনুযায়ী প্রতিটি সম্ভাব্য পর্যবেক্ষণ ভিন্ন ভিন্ন মহাবিশ্বের সাথে সম্পর্কিত। যা ‘বহুবিশ্ব ব্যাখ্যা’ নামে পরিচিত। বায়োসেন্ট্রিজম নামে একটি নতুন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব এ ধারণাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

মহাবিশ্বের সংখ্যা অসীম এবং যাই ঘটুকনা কেন তা কোন না কোন মহাবিশ্বেই ঘটবে। এই অবস্থায় সত্যিকার অর্থে মৃত্যুর কোন অন্তিত্ব নেই। সকল সম্ভাব্য মহাবিশ্বের কোনটিতে কি ঘটছে তা আমলে না এনে তারা একই সাথে বিরাজ করছে। যদিও প্রতিটি স্বাধীনকণা একদিন ধ্বংস হবে, ব্রেইনে “আমি কে?” এই জীবন্ত অনুভূতি শুধুমাত্র ২০ ওয়াট শক্তির একটি ঝরনা। এই শক্তি মৃত্যুর সাথে সাথে চলে যায় না।

শক্তির যে মৃত্যু নেই, একে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না তা বিজ্ঞানের একটি স্বতঃসিদ্ধ সত্য। কিন্তু এই শক্তি কি এক বিশ্ব অতিক্রম করে অন্য বিশ্বে যেতে পারে? সম্প্রতি ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে বিজ্ঞানীরা অতীতে ঘটে যাওয়া যে কোন ঘটনাকে পরিবর্তন করতে পারেন। একটি রশ্নি বিদারণকে আঘাত করার পর বস্তুকণা কি আচরণ করবে তা তাকে আগে থেকে ঠিক করতে হয়। তারপর পরীক্ষক দ্বিতীয় একটি সুইচ অন বা অফ করতে পারেন। পর্যবেক্ষক এই পর্যায়ে যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাই নির্ণয় করবে পূর্বে বস্তুকণা কি করেছিল ।

পর্যবেক্ষক হিসিবে আপনি যাই পছন্দ করেন না কেন এটা আপনি যে এর ফলাফল উপভোগ করতে পারেবন। বিভিন্ন ইতিহাস এবং মহাবিশ্বের মধ্যে যে যোগসূত্র তা স্থান ও কাল সম্পর্কে আমাদের সাধারণ ধারণার বাইরে। ২০ ওয়াট শক্তিকে একটি স্ক্রীনের উপর এই রেজাল্ট অথবা অন্য একটি রেজাল্টের হল-প্রজেকশান হিসেবে কল্পনা করুন। আপনি যদি দ্বিতীয় একটি রশ্নি বিদারণকে অন বা অফ করেন, সেই একই ব্যাটারী বা এজেন্ট প্রজেকশানের জন্য দায়ী থাকবে। বায়োসেন্ট্রিজম অনুসারে আমরা যতটা ভাবি স্থান এবং কাল অত কঠিন বিষয় নয় ।

বাতাসে আপনার হাত নাড়ুন-যদি আপনি সবকিছু সরিয়ে নেন তাহলে কি থাকে? কিছুই না। সময়ের ক্ষেত্রেও একি বিষয় প্রযোজ্য। আপনার মগজকে ঘিরে যে হাড় রয়েছে তা ভেদ করে আপনি কিছুই দেখতে পান না। এই মুহুর্তে আপনি যা দেখতে এবং অনুভব করতে পারছেন তা হচ্ছে আপনার মনে আবর্তিত তথ্যসমুহ। স্থান ও কাল হচ্ছে শুধুমাত্র সবকিছুকে একত্রিত করার উপায়।

সময়হীন, স্থানহীন কোন জগতে মৃত্যুর অস্তিত্ব থাকতে পারে না। অবশেষে আইনস্টাইন ও স্বীকার করেছেন “ এখন বেসো(একজন পুরোনো বন্ধু) এই অদ্ভুত জগৎ ছেড়ে আমার কিছু আগেই চলে গেছে। এর কোন মানে হয় না। আমদের মত লোকেরা জানে যে অতীত,বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে যে সীমারেখা তা একটি কঠিনভাবে স্থির বিভ্রম মাত্র ”। অমরত্ব মানে অসীম সময় ধরে অবস্থান করা নয়, বরং পুরোপুরিভাবে সময়ের বাইরে থাকা বোঝায়।

আমার বোন ক্রিস্টিন এর মৃত্যুর মাধ্যমে ব্যপারটা আরো পরিস্কার হলো। হাসপাতালে তার মৃতদেহ দেখার পর পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলার জন্য বাইরে আসলাম। ক্রিস্টিনের স্বামী ‘এড’ ভীষণভাবে কাঁদতে শুরু করল। কিছুক্ষণের জন্য আমি অনুভব করলাম যেন আমি সময়ের সীমানা অতিক্রম করছি। আমি বিশ ওয়াট শক্তি এবং সেই পরীক্ষানিরীক্ষা গুলোর কথা চিন্তা করছিলাম যেখানে একটি একক বস্তুকণা একই সময়ে দুটি হোল পার হতে পারে।

সময়কে বিবেচনা না করে ক্রিস্টিন একইসাথে বেঁচে আছে এবং মরে গেছে-এই উপসংহারকে আমি উড়িয়ে দিতে পারলাম না। ক্রিস্টিন খুব কঠিন জীবন যাপন করত। অবশেষে সে এমন একজন মানুষ কে খুঁজে পেল যাকে সে খুব ভালবাসতো। কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি কার্ড খেলার সিডিউল ছিল বলে আমার ছোট বোন তার এই সম্পর্ককে বিয়েতে পরিণত করতে পারছিল না। আমার মায়ের ও এল্ক ক্লাবে একটা জরুরী কাজ থাকায় এই বিয়ে দিতে পারছিল না।

বিয়ের দিনটি ছিল ক্রিস্টিনের জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন। যেহেতু আমাদের পরিবারের দিকের আর কাউকে দেখা যাচ্ছিল না, ক্রিস্টিন আমাকে তার সাথে করিডোরে হেঁটে তাকে বিদায় জানাতে বলল। বিয়ের পরপরই ক্রিস্টিন এবং এড যখন তাদের সদ্যকেনা স্বপ্নের বাড়ির দিকে ড্রাইভ করে যাচ্ছিল তখনই তাদের গাড়ি একটুকরো অদৃশ্য বরফের সাথে ধাক্কা খেল। ক্রিস্টিন গাড়ি থেকে ছিটকে রাস্তার ধারের তুষারের উপর পড়ল। সে বললো “ এড,আমি আমার পায়ের কোন বোধ পাচ্ছি না।

“ সে কখনোই জানতে পারলো না যে তার লিভার কেটে অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল এবং প্রবল বেগে রক্ত পেরিটোনিয়ামের ভেতরে আসছিল। এমারসন তার ছেলের মৃত্যুর পর লিখেছিল, “আমাদের বোধ আমাদের জীবনের চেয়ে বেশি হুমকির সম্মুখীন। আমার দুঃখ এটাই যে শোক আমাকে কিছুই শেখায় নি, না আমাকে আসল প্রকৃতির দিকে এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে”। ‘সায়েন্স’ এর পরীক্ষার জন্য সুইচকে অন বা অফ করা হোক বা গাড়ির ড্রাইভিং হুইলকে অদৃশ্য বরফের এদিকে বা ওইদিকে ঘুরানো হোক না কেন,এটা সেই ২০ ওয়াট শক্তি যা এর ফলাফল ভোগ করবে। কোন কোন ক্ষেত্রে গাড়ি পথ থেকে ছিটকে যাবে ঠিকই, কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে গাড়িটি ঠিক আমার বোনের স্বপ্নের বাড়ির দিকে চলতে থাকবে।

সম্প্রতি ক্রিস্টিনের ওজন একশ পাউন্ড কমেছে,এবং তাকে চমকে দিতে এড এক জোড়া হীরার কানের দুল কিনেছে। অপেক্ষা করা অনেক কষ্টের কিন্তু আমি জানি পরের বার আমি যখন ক্রিস্টিনকে দেখব তখন দুলজোড়ায় ওকে অসাধারণ লাগবে। বিঃদ্রঃ--এটি আমার প্রথম অনুবাদকর্ম ছোটখাট ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন আশা করছি। মূল লেখা-- Click This Link ।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.