আমি আঁধারে তামাসায় ঘেরা জীবন দেখেছি, আমার বুকের ভেতর শূন্যতা থেকে শূন্যরা এসে বাসা বেঁধেছে, আমি খুঁজেছি তোমাকে সেই আঁধারে আমার মনের যত রঙলীলা; আজ সাঙ্গ হতেছে এই ভবের বাজারে। উৎসর্গ – ১৬ ই ডিসেম্বর
প্রথম পর্ব Click This Link
ইহুদীধর্ম পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীনতম ধর্ম যা এখনো অনেক মানুষ পালন করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলিদের আদি নিবাস ছিল। তবে তারা এখন যে জায়গা চিহ্নিত করছে তা নিয়ে বিতর্ক আছে। আল্লার নবী মুসা (আঃ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই সম্প্রদায়ের সবচেয়ে সুন্দর সময় গিয়েছে খৃষ্টপূর্ব এক হাজার বছর আগে হযরত দাউদ (আঃ) এর সময়।
দাবি করা হয় বর্তমান সময়ের লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান ও মিশরের বড় অংশই ছিল তখনকার কিংডম অব ইসরাইলের অংশ। দাউদ (আঃ) ছেলে হজরত সলোমন বা সোলাইমান (আঃ) এর সময়ও তাদের অবস্থা ভালো ছিল।
কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর এ-জাতি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এ-সময় আসিরিয়ানরা ধীরে ধীরে এই অঞ্চলে ঢুকে পড়ে ও দখল করে নেয়। এরপর বিভিন্ন সময় ব্যাবিলনিয়ান, পার্সিয়ান, হেলেনেষ্টিক, রোমান, বাইজেনটাইন, অটোম্যান, বৃটিশ শাসনসহ বিভিন্ন পর্যায় পাড়ি দেয় এই অঞ্চল।
আর এর প্রায় অনেকটা সময় জুড়েই ইহুদীদের তাড়া খেতে হয়।
ঈজিপশিয়ান ফারাওদের সময় থেকে শুরু করে জার্মানির হিটলারের সময় পর্যন্ত তাদের বিতাড়িত হতে হয়েছে বিভিন্ন দেশ থেকে। তবে এখন যেমন ইহুদীদের সাথে মুসলমানদের সংঘাত চলছে এক সময় তা ছিল কৃশ্চিয়ান ও ইহুদী সংঘাত। স্পেনে মুসলমানদের রাজত্বে ইহুদীরা খুবই ভালো ছিল। তারা এ-সময় তাদের বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা করার ব্যাপক সুযোগ পান
শুরু থেকেই বিভিন্ন সমাজে ইহুদীদের ঘৃণিত, অবহেলিত ও খারাপভাবে দেখা হতো।
প্রায় প্রতিটি জায়গায় তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকতো। উগ্র কৃশ্চিয়ানরা তাদের কখনোই সহ্য করতে পারেনি। এদের অনেকেই যিশুর হত্যাকারী হিসেবে ইহুদীদের চিত্রিত করেছে। অনেকেই তাদের অভিশপ্ত জাতি মনে করে।
এতোগুলো বছর তাদের ঐক্য ধরে রাখার বড়া শক্তি ছিল ধর্ম।
বিশ্বের বহু দেশে ছড়িয়ে পড়লেও ইহুদী সম্প্রদায়ের সব সময় স্বপ্ন ছিল তারা তাদের নিজ দেশ ইসরাইলে ফিরে যাবে যদিও তখনো এর কোনো ভৌগলিক অস্তিত্ব ছিল না। ইসরাইল তাদের মাতৃভূমি ও ধর্মভূমিই শুধু নয়, তাদের স্বপ্ন ভূমিও বটে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্বপ্ন দেখেছে ইসরাইল নামের দেশের। ইসরাইলের জন্য তারা সাধ্যমতো দান করেছে, ধর্ম ও বিশ্বাস দিয়ে নিজেদের এক করে রেখেছে। সংখ্যায় অত্যন্ত কম হওয়ার পরও ক্ষুরধার বুদ্ধি, কৌশল ও মেধার বিকাশ ঘটিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে নিজেদের বসিয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধাওয়া খেয়ে ইহুদিরা বহু দেশে ছড়িয়ে পড়লেও তাদের স্বপ্নভূমির কথা কখনো ভোলোনি। এক্ষেত্রে তারা কট্টর ও চরমপন্থি। কারণ মিডল ইস্টের কোনো এক জায়গায় তাদের জন্মভূমি ছিলো তিন হাজার বছর আগে সেই যুক্তিতে একটি জায়গার দখল নেয়া একটি অবাস্তব বিষয়। কেননা এর কোনো সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। কিন্তু ইহুদীরা তা তৈরি করে নিয়েছে।
তারা বিশ্ব শক্তিকে তাদের পক্ষে কাজে লাগিয়েছে। ইরাক যখন কুয়েত দখল করে নেয় তখন সাদ্দাম হোসেন বলেছিলেন, কুয়েত ঐতিহাসিকভাবে ইরাকের অংশ। কিন্তু সে যুক্তি বাতিল হলেও ইহুদিদের যুক্তি বাতিল হয়নি। এ-কারণে ইসরেল রাষ্ট্রটির জন্ম হলো ১৯৪৮ সালে তখন একসঙ্গে আরব দেশগুলো আক্রমন চালিয়ে চরমভাবে ব্যর্থ হয়।
মুসলমান অধ্যুষিত মিডল ইস্টে ছোট একটি রাষ্ট্র হলেও ইসরাইলকে স্পর্শ করতে পারে না কেউ।
ইসরাইল প্রতিষ্টার সময় ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫৬, ১৯৬৭ এবং ১৯৭৩ সালে আরবদের সঙ্গে ইসরাইলের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধগুলোতে ইসরাইল এগিয়ে যায়। আরবরা কিছুই করতে পারেনি বরং অনেক সময় নিজেদের জায়গা হারিয়েছে। প্যালেষ্টিনিয়ানদের নিজ আবাস ভূমি থেকে উৎখাত করে জুইশ কমিউনিটি বা ইহুদী সম্প্রদায়ের নিজস্ব আবাসভূমি ইসরাইল সৃষ্টি ও তাকে রক্ষা করার প্রতিটি পর্যায়ে পশ্চিমা শক্তি, বিশেষ করে আমেরিকা, সবসময়ই সর্বাত্মক সমর্থন যুগিয়ে এসেছে।
বিশ্বের নিয়ন্ত্রক আমেরিকার সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যাক্তি আমেরিকার প্রেসিডেন্টগণ বিশেষ করে জর্জ বুশ বরাবরই প্রকাশ্যে ইহুদীদের সমর্থন করে এসেছেন।
প্রশাসনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদেই বসে আছেন জুইশ কমিউনিটির সদস্যরা। এরা আছেন ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইজার, চীফ পলিসি ডিরেক্টর, পলিটিক্যাল মিলিটারি এফেয়ার্স কর্মকর্তা, বাজেট ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা, ফরেন সার্ভিস ডিরেক্টর, হোয়াইট হাউজের স্পিচ রাইটারসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ এবং পলিসি নির্ধারণের পদগুলোতে। শুধু ভূমিতে নয়, মহাশূন্যে কাজ করার প্রতিষ্ঠান নাসার এডমিনিষ্ট্রেটর হিসেবে ডেনিয়েল গোল্ডিন ইসরাইলের স্যাটেলাইট পাঠানোতে অনেক ছাড় দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।
ফলে আমেরিকার কেউ চাইলেও এদের কিছু করতে পারবে না। বরং জুইশ কমিউনিটি বা ইহুদী সম্প্রদাকে হাতে না-রাখলে ক্ষমতায় টেকা যাবে না।
এসব কারণে শুধু জুইশ কমিইনিটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসেডেন্টের প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে যেতে হয় ।
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর সারা ও হাজেরা নাম্নী দু’জন স্ত্রী ছিলেন। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী ইহুদীদের ধারণা এই যে, সারা ছিলেন ইব্রাহীম (আঃ)-এর স্বাধীন স্ত্রী আর হাজেরা ছিলেন তাঁর বাঁদী। উল্লেখ্য যে ইহুদীরা সারার মাধ্যমে এবং আরবরা হাজেরার মাধ্যমে ইব্রাহীম (আঃ) এর বংশধর। কাজে কাজেই ইহুদী-খৃস্টানদের বদ্ধমূল ধারণা এই যে, স্বাধীন স্ত্রীর ছেলে হযরত ইসহাক (আঃ) এর বংশধর "ইয়াহুদীরা" হল উৎকৃষ্টতর আর বাঁদীর ছেলে ইসমাইলের বংশধর "আরবরা" নিকৃষ্টতর।
প্রকৃতপক্ষে, হাজেরার বংশগত আভিজাত্য কম নয়। তিনি ছিলেন মিশরের সম্রাটের কন্যা। সম্রাট নম্রতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে স্বীয় কন্যাকে খাদেমা বলে হজরত সারার হাতে তুলে দিলেও পরে তো তিনি ইব্রাহীম (আঃ)-এর স্বাধীন স্ত্রী হয়েছিলেন।
ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলে তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্য তোমাদের সামনে জাতির পর জাতিকে পতন ঘটিয়ে দেবে। তোমরা তোমাদের চাইতে সংখ্যায় বৃহত্তর জাতিকে পদানত করবে, পৃথিবীর যে যে স্থানে তোমাদের পদচিহ্ন পড়বে, তোমরা সে সব স্থানের মালিকানা প্রাপ্ত হবে।
তোমাদের ভূমিটির সীমানা হবে লেবাননের বনাঞ্চল হতে এবং নদী হতে ইয়োফ্রেতিশ (ইরাক) নদী পর্যন্ত। কোন জাতি তোমাদের সামনে দাড়াবে না, তোমাদের প্রভু জগৎবাসীর মনে তোমাদের সম্পর্কে ভীতি সৃষ্টি করে দেবেনপ্রায় তিন হাজার বছর যাবৎ ইহুদিরা তাদের আরব ভাইদের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞার ভাব পোষণ করে আসছে; বিশেষ করে ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থগুলোতে উল্লিখিত প্রতিশ্রুত নবী মোহাম্মদ (সাঃ) ইহুদী বংশ হতে না-এসে আরব জাতির মধ্য হতে আসায় ইহুদী-খৃস্টানদের বৈরী মনোভাব চরমে পৌঁছে গেল। তাই ইসমাইল (আঃ) এবং তাঁর বংশধর মোহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কিত বিষয় সমূহ বিকৃত করে, আর না-হয় মুছে ফেলে বাইবেল রদবদল করতে শুরু করে দিল। তারা ষড়যন্ত্রের পর ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে। সর্বশেষ ষড়যন্ত্র হয় খাইবারে নবী মোহাম্মদ (সাঃ)-কে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে।
হযরত বিশর (রাঃ) ও মোহাম্মদ (সাঃ) এক সাথেই খাবার মুখে দেন। কামড় দেয়ার সাথে সাথেই বিশর (রাঃ) মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নবী মোহাম্মদ (সাঃ) মুখ হতে খাবার ফেলে দেন। যদিও আল্লাহ তাঁকে (সাঃ) বিষাক্ততা থেকে বাঁচিয়েছন - তবু মৃত্যু অবধি এই বিষের ক্রিয়া তাঁকে (সাঃ) বহন করতে হয় যা তিনি (সাঃ) মুসলমান জাতির কাছে একটি আপীল হিসেবে রেখে যান- “ হে আমার জাতি! জেনে রেখো! খাইবারে ইহুদিদের দেয়া বিষ যেন আমার হৃদয়-শিরাকে কেটে দিচ্ছে মৃত্যু শয্যায়”।
বনি ইসরাঈল পৃথিবীতে দু’টি বড় আকারের ফ্যাসাদ সৃষ্টি করবে - এ বিষয়ে পূর্বেই তাদেরকে সাবধান করা হয়েছিলো যেন তারা সতর্কতার সঙ্গে ক্ষতি পরিহার করার সুঝোগ পায়।
এর একটি ছিলো তৌরাত ব্যাপক পরিবর্তন সাধন ও তৌরাতকে পরিবর্তন করার মাধ্যমে তাদের নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধি এবং ফলশ্রুতিতে মূলত মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও একটি নতুন ধর্মের উন্মেষ “ইহুদীবাদ”। হযরত সুলায়মান (আঃ)-এর মৃত্যুর পর তাঁর দুই সন্তান জেরিবোয়া ও রেহবোয়া ইসরাঈল সাম্রাজ্যকে জুডা ও ইসরাঈল এই দু’ই ভাগে বিভক্ত করে ফেলে। জুডার অন্তর্ভূক্ত হয় জেরুজালেম।
জেরুজালেম ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। এতে ইসরাঈল সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় নগর ‘সীচেম’কে খ্যাতি ও গুরুত্ব প্রদান করা ধর্মীয় খৃষ্টদের এক গুরুতর দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়।
তজ্জন্য তারা নিজ হস্তে তৌরাত পরিবর্তন শুরু করে এবং নকল তৌরাত বিধি অনুসারে ধর্ম ও রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ শুরু করে। এই ঘটনায় জুডা তথা জেরুজালেমকেন্দ্রিক রাবাইগণও তাদের গুরুত্ব বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় আত্মনিয়োগ করে। দুইদলে তৌরাত পরিবর্তনের চলে ব্যাপক প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় খোদায়ী আইন মুছে যায় এবং মানুষের লিখিত আইন দ্বারা সমাজ, ধর্ম ও পৃথিবী ব্যাপকভাবে প্রভাবিত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মূলত আজকের ইরাক দখল ও অন্যান্য ঘটনা সেদিনের সেই নকল তৌরাত মানুষের হাতে পরিবর্তন সাধনেরই এক বাস্তব ফসলের ক্ষেত্র চিত্র।
যখন স্রষ্ট্রার কল্যাণময় আইন মানুষ কর্তৃক অবলুপ্ত করা হয় এবং মানবীয় আইন ও বিধান দ্বারা তা প্রতিস্থাপিত হয় - তখন এ ঘটনাগুলোকে কোরআনের ভাষায় বলা হয় ফ্যাসাদ। ফ্যাসাদ মূলত খোদায়ী আইনকে প্রতিরোধই করে না- বরং খোদার অস্তিত্বকে সৃষ্টি হতে মুছে ফেলার যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও প্রয়োগ করে।
বনি ইসরাঈল কর্তৃক দ্বিতীয় ফ্যাসাদটি সংঘটিত হয় হজরত ঈসা (আঃ)-কে অমান্যকরণ ও তাঁকে হত্যা করার ষড়যান্ত্রিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে। এই ঘটনার ফলাফল হিসেবে জন্ম নেয় একটি শির্কবাদী ব্যবস্থা - খৃষ্টানবাদ। মূলত ইহুদী ও খৃষ্টান উভয়ের সীমামন্ডল ইসলাম ভিন্ন অন্য কিছুই হবার কথা ছিল না।
যতদিন পর্যন্ত তারা তৌরাত অবলম্বন করেছিলো - তারা ছিল মুসলমান। নকল তৌরাত আবিষ্কারের মাধ্যমে তারা নতুন ধর্মের জন্ম দিয়েছে -যা হলো ইহুদিবাদ। এটি ছিলো প্রথম ফ্যাসাদ। পরবর্তী ফ্যাসাদ ছিলো তাদেরই অকল্যানের স্রোত প্রবাহে সৃষ্ট খৃষ্টানবাদ। উভয়বাদই মূলত ইসলামের সাক্ষাৎ বিরুদ্ধাচারণ এবং উভয়বাদের সর্বশেষ লক্ষ্য হলো পৃথিবী হতে আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর আইনের অস্তিত্ব, তাঁর বাণীর অস্তিত্বকে পূর্ণভাবে অবলুপ্ত করে তাদের নিজ হাতে তৈরি করা আইনে পৃথিবী শাষন করা।
আর এই উভয়বাদের বিরুদ্ধেই হলো কোরআনের আগমন।
কোরআনের বাস্তব প্রায়োগিক পদ্ধতি একজন রাসুল (সাঃ)-এর দ্বারা ব্যবহারিক বলয়ে সাধারণ মানুষের জীবন ব্যবস্থায় কিভাবে যোগ্যতা ও কৃতকার্যতার সাথে কাজ করে, তার উদাহরণ সেই রাসুল (সাঃ) ইসলামকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করতে কোন অতিপ্রাকৃতিক ব্যবস্থার আশ্রয় নেন নি। তিনি ছিলেন একজন রাসুল (সাঃ) যাঁর জীবন ছিল অন্যান্য সাধারণ মানুষেরই মত, ক্ষুধা, দুঃখ, যন্ত্রণা, অসুস্থতা, ব্যর্থতা, যুদ্ধ, শান্তি, জ্ঞান, শিক্ষা, বিনয় ইত্যাদি যা কিছু কল্পনা করা যায় অপরাপর মানুষের জীবনের জন্য- সেই সমস্ত ব্যবহারের সমষ্টিতেই। এমনি স্বাভাবিক ব্যবহার, প্রয়োজন ও সীমাবদ্ধতাকে বিবেচনা করেই উৎসারিত হয়েছিল ইসলামের জীবন ব্যবস্থা। তারপর অর্ধ বিশ্ব বিজয় করেছিলো মুসলমান তাঁরই শেখানো পদ্ধতিতে।
বিজয় যখন অর্ধেক- তখন মুসলমান পথচ্যুত হল, পরিণামে পদচ্যুত হল। যদি বিপর্যয় আসে, মুক্তি কোন পথে তারও পদ্ধতি দেয়া হলো- ‘জিহাদ’। কিন্তু মুসলমান আর আল্লাহর সৈনিক হিসেবে নিজ অবস্থান রক্ষায় সমর্থ হলো না। যখন মুসলমান ব্যর্থ হলো- তখন দায়িত্ব চলে আসে স্বয়ং আল্লাহর; তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পূর্ণ বিজয়ের। যদি মুসলমান ব্যর্থ হয়ে যায়, তবে পরিণতিটির গতি প্রকৃতি কী হবে, তা-ও কোরআন ও হাদীছে বর্ণিত রয়েছে নিখুঁতভাবে।
তারই ক্রমধারায় নেমে আসবে দু’টি ঘটনা বা ‘ফেনোম্যানন’ বা প্রপঞ্চ যার একটি দাজ্জাল এবং অপরটি ইয়াজুজ মা’জুজ। পৃথিবী দাজ্জালের ফিৎনায় ভেসে যাবে, ইসলাম ইয়াজুজ মা’জুজের হাতে মার খাবে। ইসলাম হতে জিহাদী চেতনা যখনই বিদায় নেবে, তখনই ইসলাম আক্রান্ত হবে এ দু’টি প্রপঞ্চ দ্বারা। মানুষ উদাসীন হতে হতে চরম সীমালংঘনকারী হয়ে যাবে- যা আজকের নিত্যদিনের দৃশ্য। আর দূর্ভাগ্যজনকভাবে সীমালংঘন উৎসবে যোগ দেবে মুসলমান।
প্রকৃতপক্ষে ইসলাম ও অনৈসলাম এ দুয়ের পার্থক্য বিলীন হয়ে পড়বে এ দু’টি আঘাতে। স্রষ্টার অস্তিত্ব, প্রত্যাবর্তন, স্মরণ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, আনুগত্য, ভয় ইত্যাদি বিলুপ্ত হবে। ইসলাম যতটুকু বেঁচে থাকবে - ইসলাম হিসেবে নয়, একটি স্মৃতি হিসেবে। ইসলামের মৌলিকতা হারিয়ে গিয়ে অমৌলিক বিবেচনা সমূহ হবে ঘোরতর বিবেব্য বিষয়। ইসলামের প্রকৃতি প্রাকৃতিক গতিতে হারিয়ে বসবে মুসলমান, তাকে ধরে রাখতে প্রয়াসী হবে না আর।
আল্লাহ পাক স্বয়ং তাতে হস্তক্ষেপ করবেন। মুসলমানদের পরিণাম যখন অতি সংকটজনক হবে, আবির্ভাব হবে ইমাম মাহদী (আঃ) এবং তারপর হযরত ঈসা (আঃ) যিনি অকাতরে শেষনবী (সাঃ) উম্মত হবার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। হযরত ঈসা (আঃ) এর আগমন ও তাঁর পরবর্তী ঘটনার ফলাফল হবে যে পৃথিবীতে ইসলাম ব্যতীত আর কোন মতবাদ থাকবে না। আল্লাহ পাকের প্রতিশ্রুতি পরিপূর্ণ হবে। হযরত ঈসা (আঃ) পর শত বছর কিংবা আরো অনেক বছর পার হয়ে যাবে - ততদিনে মানুষ আবার পূর্ণ গোমরাহীতে ফিরে যাবে।
সে সময়টি দ্রুত ধাবিত হবে মহাঘটনার দিকে - কিয়ামত বা কারিয়া। ধ্বংস হয়ে যাবে এই সুন্দর পৃথিবী। ইতিহাস শেষ হবে এখানেই।
( চলবে............ )
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।