" ভালো ভাববেন, ভালো রাখবেন আর ভালো থাকবেন, দেখবেন সুখী হতে এর চেয়ে বেশী কিছু লাগবে না "
যেদিন থেকে আমি গোঁফ রাখা শুরু করলাম সেদিন থেকেই এই নিয়ে কতো প্রশ্নের যে সম্মুখীন হয়েছি তার কোন ইয়ত্তা নেই। আমার ছোট বোনটার বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই কোন এক অজানা ভালো লাগা থেকেই আমার এই গোঁফ রাখা। সেই থেকেই কতো মানুষের আমার এই গোঁফ রাখার রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা দেখে আসছি ।
প্রথম প্রথম কেউ বলতো, যে ছোট বোনের বিয়ে দিয়েছিস তাই একটু বয়স্ক সাজার ভান ধরেছিস, তাই না ? আবার বলতো দোস্ত বড় সড় ছ্যাকা খাইছস নাকি? কিন্তু আমি তাদের প্রশ্নের কোনই সদুত্তর দিতে পারতাম না, কেবল মুচকি হাসি দিয়ে যেতাম। অনেকদিন ভার্সিটি বন্ধ থাকার পর যখন এই গোঁফ নিয়ে ভার্সিটিতে গেলাম সেদিন তো পুরা ভার্সিটি সুদ্ধ আমার গোঁফ এর দিকে হাঁ করে উৎসুক ভাবে তাকায় ছিল, তাদের সবার চোখেই যে আমার এহেন গোঁফ রাখার উদ্দেশ্য জানার কৌতুহল উপচে পড়ছিল সেটা আমার বুঝতে বাকি ছিল না।
সবার একই প্রশ্ন এই নতুন ভেশাল ধরার কারন কি ?! সবার একই প্রশ্নের উত্তর হাসি দিয়ে পার করে যখন ক্লাসে ঢুকলাম তখন সেখানে কাহিনী তো আরেক নতুন মোড় নিলো। সেই সেমিস্টার এ দুই জন ম্যাডামের ক্লাস পরছিল, তারা তো ক্লাসে ঢুকেই আমার দিকে যে দৃষ্টিতে তাকাল দেখে তো মনে হচ্ছিল যে আমি কোন জেল পলাতক কয়েদী। যাই হোক তাদের এহেন দৃষ্টিকোণের জন্য আমার উপর সাভাবিক ভাবেই তাদের নজরদারি থাকতো, এমনকি ক্লাসে অন্য কেউ কথা বললেও আমাকে সন্দেহ করে ঝারি দেওয়া হত।
এরপর এই গোঁফ নিয়ে একে একে ৩ টি মাস পার করলাম, যেখানেই যাই সবার একই প্রশ্ন আমার গোঁফ রাখার কারন কি ?
এমন কি আমার প্রেমিকার কাছ থেকেও গাব্বার সিং নামক টাইটেল প্রাপ্ত হই। আর যখনই বাসায় আসতাম তখন ই আম্মার এই গোঁফ ত্যাগ করে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার বায়না/ঝাড়ি তো থাকতোই।
অবশেষে, প্রেমিকার অনুরোধ ও গোঁফ কাটার জন্য আম্মার ৫০০ টাকা উপহার ঘোষণার পর আমি গোঁফ রাখা থেকে বিরত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। গোঁফ কাটার পরে পড়লাম আরেক মুশকিলে, নিজেকে তখন ১৪ এর কোঠায় মনে হয়তে লাগলো আর সেই সাথে ঠোটের উপরের অংশ মুখের অন্যান্য স্থানের চেয়ে একটু বেশী ই ঝলমলে দেখাতো। যাই হোক প্রেমিকার মন রক্ষা আর আম্মার কাছ থেকে ৫০০ টাকা উপহার গ্রহন করার কারনে চুপচাপ গোঁফ হারানোর দুঃখ সয়ে গেলাম। এর পর ৬ মাস বহু কষ্টে আমার গোঁফ ছাড়া অতিবাহিত করলাম। আমার ব্যাক্তিত্বের সাথে গোঁফ রাখার কোন মিল আছে কিনা জানি না, কিন্তু গোঁফ এর প্রতি যে আমার এক গভীর দুর্বলতা আছে সেটা আমি হাড়ে হাড়ে টের পেতে থাকলাম।
অবশেষে বহু মাস পরে আবার সেই গোঁফ জীবনে ফিরে আসলাম।
এখন ও গোঁফ নিয়ে আমি নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হই, এবং এর উত্তর স্বরূপ আমার মিছকি হাসি ছাড়া আর কোন কিছুই দিতে পারি না। কিন্তু এবার এর সাথে যোগ হয়েছে নানান টাইটেল। কেউ ডাকে রাফি পাণ্ডে, কেউ ডাকে রাফি মির্জা আবার কী ডাকে রাফি রাথর। দাবাং ছবিতে সালমান খানের গোঁফের সাথে আমার গোঁফের কোন মিল নেই, না আছে ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন মুম্বাই এ অজয় দেভগানের সাথে আর না আছে রওডি রাথরে অক্ষয় কুমারের সাথে।
আমি কোন সেলেব্রিটিকে দেখে অথবা তাদের মতো হবার জন্য গোঁফ রাখি নাই। আমার পরিচয় আমি নিজে আমার নিজের গোঁফ
এই গোঁফ এখন আমার অন্যরকম একটা পরিচয় দিয়েছে। ভালোই আছি আমি গোঁফ নিয়ে। বয়সটা একটু বেশী বেশী লাগে এই আর কি , আর এই জন্যই হয়তো আমার ব্লগে আমার ছবি দেখার পরে অনেক ব্লগারই আমাকে সিনিয়র ভাবে আর সেই ভাবে সম্বোধন করে কমেন্ট করে।
স্থায়িভাবে গোঁফ রেখে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
যত কিছুই হোক আর গোঁফ কে হারিয়ে যেতে দিবো না। পারলে সবাই আমার আর আমার গোঁফের জন্য দোয়া করবেন
[ এই লেখাটা অনেকের না ও পছন্দ হতে পারে, কাজ নাই বসে আছি তাই ভাবলাম যে লিখি, খারাপ হলে মাফ করে দিয়েন ] ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।