আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বিএনপির কোন্দল: হুদার বিএনএফএ পৌষ মাস, খালেদা জিয়ার বিএনপিতে সর্বনাশ

আল্লাহ মহান, যাহা বলিব সত্য বলিব। দেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে কোন্দল এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনসহ নীতি-নির্ধারণী প্রশ্নে ভিন্ন মতাবলম্বীদের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এর মূল কারন গুলো হলো : বিএনপি-জামায়াতের পারস্পরিক অবিশ্বাস। গোপন মিটিং ও কাজে আসল না বেগম জিয়ার মাত্রাহীন কথা বার্তা ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের জঙ্গী অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সঅবস্থান ও দলে মুক্তিযোদ্ধাদের কোন ঠাসা করা। পরিবার ও নেতা কর্মীদের দূর্নীতির কারনে চাপে দলীয় সন্মানহানী অন্যতম নীতিনির্ধারক সাইদ ইসকানদারের মৃত্যু একের পর এক ফ্লপ জনসভা (বিএনপি জামাতের সাথে পেরে উঠছে না) রাজনীতি থেকে পালীয়ে তারেক রহমান ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়ার বিফল চেস্টা আর আভ্যন্তরীন কোন্দল তো আছেই, সেই দিনইতো খালেদা জিয়াকে গ্রুপিং ও ফুল দিতে এসে মারামারি যেন বিএনপিতে এখন ট্রেন্ডে পরিনত হয়েছে।

বিস্তারিত তার সুযোগে, তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নানা জটিলতায় আক্রান্ত বিএনপি’র নেতাদেরকে টার্গেট করে আঁটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে বিএনপি থেকে পদত্যাগকারী কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট বিএনএফ। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিএনপির কোন্দলকে টার্গেট করে অঙ্ক কষে মাঠে সরব রয়েছেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। বিএনপির বিরোধকে কাজে লাগিয়ে এলাকার গ্রহণযোগ্য নেতা থেকে শুরু করে এক-এগারোর তথাকথিত সংস্কারপন্থী হিসেবে যারা বিএনপির মূলস্রোতের বাইরে সাইড লাইনে অবস্থান করছেন এবং যারা দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন তাদেরকেও দলে ভেড়ানোর জন্য জোর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অনেক শীর্ষ নেতার সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করে এগুচ্ছে নাজমুল হুদার নবগঠিত বিএনএফ। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিছু নেতা এ সংগঠনের নীতিনির্ধারণী ফোরামে সংশ্লিষ্ট থেকে দলকে গোছানোর জন্য সচেষ্ট রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দলের দায়িত্বশীল একাধিক ব্যক্তি।

হুদার বিএনএফ-এ যোগদান করতে যাচ্ছেন এমন নেতার মধ্যে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন: সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত, সাবেক স্পিকার আব্দুর রাজ্জাক এছাড়া বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আশরাফসহ সংস্কারপন্থী অনেক নেতার নামও শোনা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক জহির উদ্দিন স্বপন, চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল জেড এ খান (অব.), সৈয়দ শহিদুল হক জামালসহ সংস্কারপন্থী অনেক নেতার সঙ্গে বিএনএফ যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে বলে জানা যায়। সংগঠনের আহ্বায়ক ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে নতুন সংগঠনের ঘোষণা দিয়ে দীর্ঘদিন লন্ডনে থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। এখন তিনি সংগঠনকে সংগঠিত করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ৭ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিএনএফ-এর চিফ কো-অর্ডিনেটর আবুল কালাম আযাদ বলেন, আমরা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সংগঠন করছি। সুতরাং আমাদের প্রধান টার্গেট জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধে বিশ্বাসী লোকজন। তারপরও পরিবর্তিত রাজনীনিতে অন্য রাজনৈতিক মতধারায় বিশ্বাসী লোকদের জন্যও আমাদের দরজা খোলা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের এখন প্রধান কাজ নির্বাচন কমিশনে দলের নিবন্ধন করা। এ লক্ষ্যে আমরা খুব শিগগিরই অন্তত ১১ জনের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করব।

এছাড়া সারাদেশে কমিটি গঠনের লক্ষ্যে বৃহত্তর ১৯ জেলায় কাজ করছি। এ সব জেলার কোন্দলপূর্ণ বিএনপি নেতাদের সংগঠিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দলের অফিসের জন্য বিএনপির এক সংস্কারপন্থী নেতা রাজধানীর ধানমন্ডিতে তার বাসা দিতে রাজি হয়েছেন। দলের অঙ্গসংগঠন নিয়েও কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট ও বিএনপির ঢাকা মহানগরের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, ১৯৭৮’র রাষ্ট্রপতি জিয়ার নির্বাচনে প্রধান সমন্বয়কারী, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের রাজনীতি এবং জিয়ার অনুসৃত নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে ২০০৯ সালের ১৪ জুলাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট বিএনএফ নামে এ নতুন রাজনৈতিক দলটি গঠন করা হয়। বর্তমানে এ সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপি থেকে পদত্যাগকারী দলের ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। হেভিওয়েট এ নেতার যোগদানের পর থেকেই সংগঠনের নেতারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সতীর্থদের উপস্থিতিতে এক মহামিলন মেলায় পরিণত করার জোর চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের নেতাদের কাছেও সংগঠনকে নিয়ে যাবার প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে গত ৬ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে এ নিয়ে নাজমুল হুদা একটি প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রস্তাবে তিনি সরকারি ও বিরোধী দলসহ সবার সম্মতিতে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন ও ওই নির্বাচন কমিশনকে সব মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ক্ষমতা দেয়ার প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে তিনি সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার যে বিধান আগে সংবিধানে ছিল, তা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের আহ্বায়ক ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেন, নির্বাচনকালীন কী সরকার হবে, তা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। কোন সরকার ক্ষমতায়, তা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

বিএনপির সাবেক এই নেতা বলেন, এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, এ সরকার ব্যবস্থার দাবি মেনে নেয়া হলেও সমস্যার সমাধান হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন এ নিয়ে তখন বিতর্ক তৈরি হবে। এখন যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, এতে বিষয়টি নিয়ে অস্থিরতা ও হানাহানি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিএনএফ নিয়ে হৈচৈ, উদ্বিগ্ন খালেদা! এদিকে বিএনপির সাবেক প্রবীণ নেতা ও বর্তমান বিএনএফ’র আহ্বায়ক ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে কোণঠাসা অনেক নেতা বিএনএফ-এ যোগদান করার বিষয়ে রাজনৈতিক মাঠে সরব গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বিএনপি’র সাবেক নেতা অধ্যাপক জাহানারা বেগম এলডিপি থেকে পদত্যাগ করে সম্প্রতি নাজমুল হুদার বিএনএফ-এ যোগদান করেছেন।

পাশাপাশি বিএনপির সংস্কারপন্থী গ্রুপ ও বিদ্রোহীদের অনেকে দল ত্যাগ করার পাঁয়তারা করছেন বলে জোর আওয়াজ রয়েছে রাজনৈতিক মাঠে। বিএনপির ঘরে-বাইরের রাজনীতি সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল মনে করছেন, আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খালেদা পরিবারের বিরুদ্ধে নথিভুক্ত মামলাগুলো গুটি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে সরকার। ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগেই আদালতের রায়ে খালেদা পরিবারের অনেকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে অনুযায়ী উপরিউক্ত মামলায় খালেদা জিয়া, তারেক, কোকোসহ খালেদা পরিবারের অনেকের বিরুদ্ধেই সাজামূলক রায় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। ফলে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিতে শুরু হয়েছে নানামুখি হিসাব-নিকাশ, জল্পনা-কল্পনা।

খালেদা পরিবারের দুর্দিনে কে দলের হাল ধরবেন। কে কার নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এ নিয়ে দলে এখনই শুরু হয়েছে গ্রুপিং-লবিং এবং নানামুখি ষড়যন্ত্র। অনেকে দলের দুর্দিনে নতুন দল গঠনের প্রয়াস চালাচ্ছেন গোপনে। আবার দলের প্রভাবশালী অনেকের বিরুদ্ধেই রয়েছে সরকারের সাথে গোপনে আঁতাত করার গুরুতর অভিযোগ।

অনেকেই সরকারের হামলা-মামলার ভয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষে বিশেষ ভূমিকায় সুনিপুণভাবে অভিনয় করছেন। বিএনপির সম্ভাব্য ভাঙন, ঘরে-বাইরে নানামুখি ষড়যন্ত্রে আগামী নির্বাচনকে ঘিরে স্বয়ং খালেদা জিয়াই বেশ উদ্বিগ্ন। সুত্র স্বদেশ খবর  ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১২ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.