আনাড়ী রন্ধন শিল্পীর ব্লগ B-)। ব্লগের বাজে-মানহীন লেখাগুলোর মাস্টার পিস দেখতে চাইলে এই ব্লগারের পোষ্ট গুলো পড়ে দেখতে পারেন। কথা দিচ্ছি, নিরাশ হবেন না। B-) ১। ছোট্টবেলার খুব পছন্দের একটা খেলা ছিলো সিড়ি থেকে লাফিয়ে নিচে পড়া।
কে কত ধাপ উপর থেকে লাফিয়ে পড়তে পারে সেই প্রতিযোগীতা ছিলো। প্রথমে দুই...তিন...চার এভাবে সাত ধাপ উপর থেকেও লাফিয়ে পড়তাম। অনেক মজা ছিলো খেলাটাতে।
২। আরকটা মজার খেলা ছিলো সেটা হলো কারেন্টের খাম্বা থেকে পিছলে পড়া।
গেট বেয়ে দেয়ালের উপর উঠে খাম্বা ধরে শরীরটা ছেড়ে দিলে পিছলে নিচে চলে আসতাম। এই অনেক মজার হলেও আমি খুব একটা পারতাম না।
৩। বাসার সামনে একটা ছোট্ট দেয়াল ছিলো। প্রতিযোগীতা হতো কে কিছু না ধরে দেয়ালের উপর দিয়ে কতদূর হেটে যেতে পারে।
আমি আর বেলীই বেশী খেলতাম এসব খেলা। আবার সবচেয়ে বেশী ঝগড়াটাও ওর সাথেই হতো!
======================================
কারেন্ট নেই। অন্ধকারেই বারান্দায় বসে সেমাই-চা খেলাম। বসে আছি চুপচাপ। মনটা খুব বিশ্রী রকম খারাপ।
এর মাঝেই কানে এলো সেই গল্পবলা পিচ্চির কথা। বারান্দায় অনেক মানুষ এবং একটি ছোট্ট বাচ্চাও আছে বোঝা গেলো। দুজন মিলে হইচই করছে আর মনের মতন কথা বলছে। ইয়া...হুঊউ...ইঊউ....ঈঈঈ...য়া.....। এক পিচ্চি বললো তুমি ডোরিমোন দেখো?....কি সব বলে যেনো বললো "ডোরেমন তুম বাহার যাও, নোবিতাআআ মে আআগায়া"।
আরো কি কি বললো ছাইপাশ বুঝিনা। এর মাঝেই শুনলাম সব চুপচাপ। বলা শুরু করলো ওয়ান...টু....থ্রী.....এভাবে হান্ড্রেড পর্যন্ত গুনলো। বলছে, "আমার মুখে বাধে কিন্তু আমি সব লিখতি পারি বানান কইরে" ঐটুকুন পিচ্চি হান্ড্রেট পর্যন্ত বানান লিখতে পারে!
কিছুক্ষন পর আবার শুরু হলো এ...বি....সি...ডি....কিছুদূর পর আটকে গেলে নিজেই চেষ্টা করছে মনে করার জন্যে। পাশ থেকে কে যেনো বলে দিলো।
সাথে সাথে চিৎকার দিয়ে উঠলো "বইলোনা"। আবার রিভাইস করে নিজেই কিছুদূর যাওয়ার পর আটকে গেলো দেখে আবার কে যেনো বলে দিলো। এবার রেগে গেলো। "এই বলতিছো কেন?"
কিছুক্ষণ পর এবার শুরু হলো কালার দিয়ে কবিতা বলা। সব বলা শেষ আবার শুরু হলো হৈহুল্লোড়।
পিচ্চির গোনা শুনে নিজেই গুনতে বসলাম ওয়ান্টি-ওয়ান(১১) ওয়ান্টু-টু(১২) ওয়ান্টি-থ্রী(১৩).............................নিজে নিজেই হাসা শুরু করলাম গোনার বহর দেখে। সত্যিই পিচ্চিটা কিছুটা সময়ের জন্যে হলেও মন ভাল করে দিয়েছিলো।
ছোট্টবেলাটাই অনেক ভাল ছিলো। চাওয়াগুলো ছিলো ছোট্ট ছোট্ট। অল্পতেই সুখী থাকা যেতো।
এখন কেমন যেন....চাওয়া পাওয়ার সাথে কোন মিল নেই। তখন খারাপ থাকার কারন খুজে পেতাম না। মন খারাপ কি জিনিস বুঝতাম না। ভাবতাম মানুষের মন আবার খারাপ হয় কি করে। আর এখন কখনো কখনো ভাল থাকাটাই কষ্ট কর।
কখনো কখনো চেষ্টা করেও থাকা যায় না। কোন হিসেব-নিকেষ ঠিক-ঠাক মেলাতে পারিনা....! ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।