আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তুচ্ছ একটা জীবনের মুল্য

প্রিয় বিষয় মিউজিক ও সাইকোলজি । সব কিছু নিজে নিজে বিশ্লেষণ করতে ভালো লাগে প্রায়ই রিপোর্ট আসে , বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী দেশ । রিপোর্টগুলো অনেকক্ষেত্রেই আভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবহারের উপর অনেক বেশি ওয়েট দিয়ে থাকে । সেই জন্য দেখা যায় মাথাপিছু গড় আয় অনেক কম হয়েও বাংলাদেশ তালিকার অনেক উপরে অবস্থান করছে । তাহলে বাংলাদেশ কি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী দেশ না ? আমার চোখে অবশ্যই ।

কেন ? আসেন কারণগুলো দেখি । পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে আপনার ধারণা যত কম হবে , আপনার উচ্চাশা তত কম হবে, চাহিদা তত কম হবে । আপনি খুব সহজেই আপনার যা আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে পারবেন । আপনি যদি বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের কোনো এক চাষীর পরিবারের দিকে তাকান, অবস্থা অনেকটা সেরকমই । ঢাকার কোনো এক রিকশাচালকের পরিবারের দিকে তাকান, এখানেও অবস্থাটা সেরকম ।

লোকটি পহেলা বৈশাখে তার স্ত্রী এবং চার বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে, তারা টিএসসি এলাকায় যায়, বৈশাখী মেলায় যায় । মানুষের ভীড়ের চোটে হাঁটা দায় হয়ে পড়ে , গরমের চোটে টপটপ করে ঘাম পড়তে থাকে বাবাটির মাথা বেয়ে, কিন্তু তার দুঃখ নেই , তার কাধে বসে থাকা পুত্রের হাস্যোজ্জল চেহারা হয়ত সে হয়ত তার মুখের দিকে না তাকিয়েই টের পায় । কোথাও একটু ফাঁকা যায়গা পেলে হয়ত বাবাটি শিশুটিকে কোল থেকে নামায় , মা’টি শিশুটির কপাল মুছে দেয় , হাতে থাকা কাগজের পাখা দিয়ে বাতাস করে , তারা ঝালমুড়ি কিনে খায় । সেই রিকশাচালকটি , যাকে আমরা এখন রিকশাচালক না বলে বাবা বলে উল্লেখ করব, তার কথা ভাবুন। আপনার কি মনে হয় , সুখ কি তা কি সে জানে ? জানলে কি আপনার আমার থেকে বেশি জানে না ? আমি আপনি কিন্তু এদেরকে টিএসসিতে দেখে বেশ বিরক্ত হই ।

কি দরকার এত ভীড় করে মিরপুর দশ থেকে এখানে আসার ? নিজের এলাকায় কি আমোদ প্রমোদের ব্যবস্থা নেই ? যাবার সময় তো আবার ঠিকই বাসে সিট না পেয়ে প্যাঁ প্যাঁ বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে সহযাত্রীদের বিরক্ত করতে করতে যাবে ! আমার আপনার সাথে কিন্তু পরিচয় নেই , এরকমই সুখের সন্ধ্যান পেয়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা দেশের ৭০% । এদের প্রায় সবাই ই ধর্মপরায়ণ । ধর্ম তাদেরকে শিখিয়েছে নৈতিকতা , শ্রদ্ধাবোধ , তাদেরকে শিখিয়েছে লোভী না হতে । দেশে আপনার এলাকায় অনেক অভাবীকে আপনি বিপদে আপদে অর্থ দিয়ে সাহায্য করেন , আপনাকেও এরা অনেক সম্মান দেয় । আপনি তাদেরকে বেশি হলে এভাবে চেনেন ।

আমরা চিনি তাদেরকে , কিন্তু তাদের ভিতরের দৈনন্দিন সুখের বিষয়টি আমরা জানি না । তাদের শক্তিশালী পারিবারিক বন্ধনের বিষয়টি আমরা জানি না । তাদের ও একটা সুখের জীবন আছে ,আমাদের থেকে অনেক বেশি সুখে ভরা একটা জীবন আছে তাদের । আমার আপনার মত পদোন্নতি বা উন্নতির তাগিদ কিন্তু তাদের নেই , কিন্তু তাদের জীবনেরও মূল্য আছে । এভাবে জীবনের মুল্য নিয়ে কেন কথা বলছি ? বিষয়টি অনেক খারাপ দেখাচ্ছে ।

আসেন এবার একটা উদ্ভট কথা শুনি – বাংলাদেশ কিন্তু একটা আজব একটা দেশ, এখানে আপনি একটু মাথা খাটালেই মানুষের প্রভু হয়ে যেতে পারবেন , মনে করার চেষ্টা করেন আপনার এলাকার সেই মানুষটির কথা , যাকে আপনি অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন । এখানে আপনি দুইশত টাকা খরচ করবেন, এরকমই একটা সুখী মানুষকে নিয়ে যাবেন আপনার মিছিলে, লোকটা মরলো না বাচলো তা আপনার দেখার বিষয় না। এরা গরু ছাগল, আজাইরা শহরটাতে পড়ে আছে, রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে ,বিড়ি টিড়ি টানতেসে । সেই লোকটার মত কোনো এক লোকের ছেলে এটি , একে আপনি একদিনের মিছিল মিটিং এর জন্য ভাড়া করলেন, দরকার লাগলে পরপর কয়েকদিনের জন্যই ভাড়া করলেন । রিকশাওয়ালার ছেলেটিরও কয়েকদিনের জন্য অর্থসংস্থান হয়ে গেলো ।

ভালো তো ! ভালো না ? তো , কি ভাবছেন ? আপনি এদের প্রভু হয়ে গেছেন? দাঁড়ান , হন নাই । আপনি যেমন এদেরকে টাকা দিয়ে টেনেছেন একসময় , ধরেন টাকার জন্য না, অন্য কেউ টানলে তারা কি নিজের মন থেকে যাবে না ? যেতে পারে না ? টেকনিক বদলান, আপনি এবার আধ্যাতিক নেতা হয়ে যান । জড়িয়ে পড়ুন ওই মানুষের জীবনের নীতি-নিয়মের সাথে , সেই সকল নীতি-নিয়ম যেগুলো দ্বারা লোকগুলো শিশুকাল থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে । ধর্মের সম্মানের বিষয়ের সাথে সাথে আপনার সম্মানের বিষয়টিও এখন যুক্ত হয়ে গেলো । এখন আপনি শুধু বলবেন আপনাকে চান্দ-সূর্যে দেখা গিয়েছে , দেখবেন আপনার জন্য কতজন মানুষ ঝাপিয়ে পড়ে ।

আপনি এখন ছোট একটা অর্ডার দিবেন , সেটা মান্য করতে সে এখন অর্থসাহায্যকারী বা অন্য কেউ যাকে সে আগে মান্য করত তার ধার ধারবেনা , দরকার হলে ঘাড় থেকে গলাও নামিয়ে দিবে অন্য কারো। ধর্মে বলে নাই ? আরে বলছে তো ! তোহ, ধরেন আপনার এই অনুসারী এখন গুলি খেয়ে মরল । এরকম যে হতেই পারতো তা আপনি ভালো করেই জানতেন । আপনাকে এখন ভাবতে হবেনা লোকটার সেই সুখী জীবনটার কথা । আরে, এগুলো তো গরু–ছাগোল ।

এগুলো জন্মায় , মরে , আবার জন্মায় । এগুলোর জীবনের কোনো মুল্য আছে নাকি ? শহীদ হইসে, জান্নাতে গিয়া ফুলবনে ফুর্তিফারতা করুক গিয়া । বেচে থাকার দরকার কী ! শুধু আমিই বাচুম হেহেহে । আসেন এবার ভাবি , অজ্ঞানতা বড় পাপ । কিন্তু এই অজ্ঞানতার একটা দিকই আজ পর্যন্ত তাদেরকে অল্পের ভিতর সুখি থাকতে শিখিয়েছে ।

তারা শিক্ষিত না , তাই এটার অবর্তমানে বিকল্পপ কোনো নৈতিকতা শেখার মাধ্যম তাদের কাছে অনুপস্থিত । ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।