জীবন আসলে চিল্লাপাল্লা ছাড়া কিছুই না। সেটাই করতে চাই, মনের সুখে, ইচ্ছা মতন। প্রিয় অনিক ও খাইরুল ভাই,
আমাকে চিনতে পারছেন? না চেনার তো কথা না। আর এই ভয় ও নেই যে চিঠি ঠিক জায়গায় পৌঁছাবেনা। আমি নিশ্চিত এই চিঠি আপনাদের কাছে ঠিক ঠিক পৌঁছে যাবে।
কারণ আপনারা তো ভাই এখন নির্ভুল সব দেখা, জানা, বুজা, অনুধাবন করতে পারার জগতে চলে গেছেন। যাক, তাও আমার একটু পরিচয় দেই, ঐ যে খাইরুল ভাই, আপনার পাশের মেসে থাকতাম। মাথার চুল কখনও আঁচড়াইনা। এখন তো পুরা ক্লিয়ার, নাকি?
আসলে আমি পরীক্ষা ছাড়া কখনও ( প্রকাশে/গোপনে) চিঠি লিখিনি, আর বাংলা! তাও কম্পুটার এ!! এই কাজ যে জীবনে কতবার করেছি, তা আমার লেখার ভাষা, বানান এবং ধরন দেখেই বুজতে পারছ!!!
যাক সে কথা, এখন তোমাকে কিছু খবর জানাই, যদিও সবই দেখছ উপর থেকে, তবুও বলি,
বিশ্বাস কর!!! তোমরা চলে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাস এ কোন মানুষ, ভূত, জিন, পরী, গাছপালা বা অন্য কোন প্রাণীর মুখে হাসি দেখি নি। আমি ১-২ জন বন্ধু-বান্ধব সহ ক্যাম্পাস এ গভীর অমবশ্যার রাতেও গিয়েছি, কিন্তু গতকাল (১৭.১২.১১) দুপুরে যে ভৌতিক দম ধরা আবহ সৃষ্টি হয়েছিল, তার সাথে তুলনা করার মত কোন স্মৃতি আমার নাই।
সবাই কেমন যেন গম্বির কান্না কান্না ভাব নিয়ে দৌড়াদৌড়ি ও ভাংচুর করছিল। কত নাটক, কত আশ্বাস!!
এই গুমট পরিবেশ আর ভাল লাগছে না ভাই।
এইসব এখন বাদ রাখি, একটু অন্য রখম খবর দেই, নিচে একটা ছবি দিলাম দেখ... ... ..
এই যা, তুমি তুমি বলা শুরু করলাম নাকি আবার, অবশ্য এতে তোমাদের আর কিছুই আসে যায় না, তুমি বলাটাই এখন ঠিক!!!
এটা আমার ফেসবুক এর হোম পেজ এ ছিল Snipe করে দিলাম। বুজতে পারছ এইটা কিসের কি?
কাল একটা বিষয় নিয়ে মনটা খারাপ হয়েছিল, তোমরা দুজন চলে গেছ আর এই বিষয়টা নিয়ে কত মানুষ যে কত ভাবে রাজনীতি করার চেষ্টা করল তার ইয়ত্তা নেই, অবশ্য তাদের কেও এই পাত্তা পায় নি। ক্যাম্পাস এর পুলাপাইন তো পুড়াই ক্ষ্যাপা।
এখন শুন কি কি হচ্ছে এখানে, হাসাহাসি করবানা কিন্তু এটা নিয়ে,
১. ৩ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে ক্যাম্পাসে।
২. মেয়র সহ সিলেট তে সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসছিল, তারা হত্যাকারী দের ধরার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় নিয়েছে।
৩. কাল দেখলাম তোমাদের ব্যাচ এর ভাই বোনেরা মোম বাতি মিছিল করেছে।
৪. যারা পত্রিকায় তোমাদের মৃত্যুকে নৌকা ডুবি হিসাবে চালাতে চাইছিল সেই সাংবাদিকরা ব্যাপক দাব্রানি খাইছে। হিহিহিহি......।
৫। বিশ্ববিদ্যালয়য় থেকে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটন করা হইছে।
৬. যে স্যাররা হাজার দুই টাকা খরচ হবে বলে ডুবুরি পাঠায়নি, তারা বলছে যে তোমরা তাদের সন্তান।
৭. ভিসি স্যার কান্না কান্না কণ্ঠে ( গ্লিসারিন দিয়ে মনে হয় চোখে পানি আনছে) বিভিন্ন টিভি চ্যানেল এ সাক্ষাৎকার দিচ্ছে।
৮. যে স্যার তোমাদের লাসের সামনে দাড়িয়ে বিড়ি খাইছিল তার অবস্থা তো দেখার মত।
৯. প্রোক্টর স্যার এর অবস্থাও দফারফা ( প্রথমে তোমাদের হারিয়ে যাওয়াটাকে গুরুত্ব না দেয়ার জন্য, আর লাস আনতে তাফালিং করার জন্য)।
১০. আজ আমি কমপক্ষে ১৫-২০ টা সংবাদ সংস্থার ওয়েবসাইট এ গেছি, প্রতিটার লিড স্টোরি তোমরা, ( ভাই স্টার হয়ে গেলা তো, এখন হাসঃ)
সরি ভাই, একটু গ্যাপ পরে গেল, আমি আবার শোক মিছিলে গেছিলাম মাত্র, এসে আবার লেখা শুরু করলাম।
একটা পরিসংখ্যান দেই, ইঞ্জিনিয়ার মানুষ যেহেতু সহজেই বুজবা,
একটা ১ কিলো রাস্তার ২ টা লেন, প্রতি লেন এ ২ টা করে সারি, একজন থেকে আর একজনের দূরত্ব যদি ১ মিটার হয় সেখানে ৪০০০ লোক ছিল, তাই না? আমরা ছাত্র মানুষ যেহেতু বুজই, ১ মিটার ফাঁক রাখা আমাদের পক্ষে অসম্ভব। এই হিসাবে মিছিলের লোক সংখ্যা ৫৫০০ এর কম হবে না মুটেই। তার পর আবার বিভিন্ন জায়গায় জটলা পাকিয়ে ছিল অনেকে, গোল চত্বর এ ছিল অনেক মানুষ, এখন বুজ অবস্থা! আর আমাদের ছাত্রই তো মাত্র ৭৫০০ এর মত।
তাই বলা যায় খুব বেশি বাদ যায়নি।
আর একটা ছবি দেখাচ্ছি, এটাও ফেসবুক থেকে নেয়া.....
এখন এই হচ্ছে অবস্থা, তোমাদের হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন করার প্লান করছি, চিন্তা করোনা, এই শূয়রের বাচ্চারা ( সরি মুখ খারাপ করলাম) আর একদিনের জন্যও শান্তি পাবেনা। ওদের বিচি দিয়ে ভর্তা বানিয়ে খাওয়ার ভাঁজ হচ্ছে, দেখে যাও শুধু। আমরা শুধু SUSTian রা না, সারা দেশের মানুষ আজ এক জুট, এই ছাত্র হত্যা বন্ধ করতেই হবে, তোমরা উপর থেকে দুয়া কর ভাই।
আর ভাই, আমাদের মাফ করে দাও, যতটুকু করার ছিল তার সিকিভাগও করতে পারি নি, দুইটা জীবনের মূল্য পরিমাপ করার কোন যন্ত্র এখনো আবিষ্কার হয়নি।
আমরা তো ঠিকেই ভাত খাচ্ছি, হাঁটছি, ব্লগ লিখছি, সব নরমাল ভাবে চলছে। শুধু তোমরা নেই, কোন কিছুতেই নেই। আজ থেকে দেখলাম রাস্তায় গাড়ি ঘুড়া চলছে আগের মতই। সব আগের মতই হয়ে যাচ্ছে দিঢ়ে দিঢ়ে।
ও, তোমরা তো শুনলাম বাবা মায়ের এক মাত্র সন্তান দুজনেই, অবশ্য খাইরুল ভাইয়ের একটা ছোট বোন আছে, কিন্তু তোমার আবার বাবা নেই, তোমার পরিবারের শেষ ভরসা ছিলে তুমিই।
তোমাদের পরিবারের অবস্থা চিন্তা করার মত সাহস আমার নেই, শুধু একটাই প্রার্থনা, সৃষ্টিকর্তা যেন তাদের Patient দেন এই দুঃখ সহ্য করার। তারা তোমাদের মানুষ হতে পাঠিয়ে ছিল, মরতে না!!!
আমি হৃদয় থেকে একটা কথা বলতে চাই, “ তোমাদের রক্তের বিচার এই দুনিয়াতেই হবে, সেই দিনটির জন্য বেশী দিন অপেক্ষায় থাকতে হবেনা আশাকরি। “
এখন শেষ করলাম তাহলে, আমার আবার একটু বাইরে বের হতে হবে, দুয়া করো আমাদের সবার জন্য, আর কারো যাতে তোমাদের কাছে এতো তাড়াতাড়ি আসতে না হয়, তোমাদের জন্যও দুয়া রইল সবার পক্ষ থেকে।
ইতি,
তোমাদের প্রিয় একজন ছোট ভাই। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।