আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সমাজ বনাম মেয়ে হিসেবে সকলের কাছে একটি মানবিক আবেদন.....

এই ব্যস্ত শহরে কিছু একাকী পথচারি রাতের আ্ধাঁরে নিভৃতে হেঁটে বেড়ায় মানবতার খোঁজে,বিবেকের তাড়নায়। আমি তাদের একজন হিসেবে নিজেকে ভাবি। বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে সমাজ যে কতটা রূঢ় একটি মেয়ের জন্যে তা খুব কম মানুষই উপলব্দ্ধি করতে পারে। এখানে সমাজ একটি মেয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে না অথচ তার পদে পদে খুঁত তাদের নজর এড়ায় না। সমাজ যেখানে একটি মেয়ের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ অথচ কোনো অঘটন ঘটলেও সেই মেয়েটির চরিত্রের ওপর আঙ্গুল তুলতে করোর এতটুকু বাঁধে না।

এই সমাজে একটা মেয়ে ধর্ষিত হয় ৫ বার। ১ম বার__ধর্ষক হয় কোনো নরপিশাচ। হতে পারে এক বা একাধিক। ২য় বার__বিচারপ্রার্থী হয়ে পুলিশ তথা বিচার-বিভাগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে। ৩য় বার__ফরেনসিক টেস্ট।

এখানে ধর্ষক খোদ ডাক্তার নিজে। ৪র্থ বার___এই খবর কোনোভাবে মিডিয়াতে প্রকাশ পেলেই হল!!!আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা এমন কোনো প্রশ্নের ত্রুটি রাখবেন না যাতে করে একটি মেয়ে শেষমেশ এটা বলতে বাধ্য হবে যে সে স্বেছায় ধর্ষিত হয়েছে! ৫ম বার___সমাজ ও এর কতিপয় সাধু ব্যক্তিরা যারা শুধু একটি মেয়ের চরিত্রের যতপ্রকার বলাৎকার সম্ভব তার সব করার কোনো ত্রুটি রাখবে না। কারন,মেয়ে মানুষ বলে কথা!এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষের কোনো দোষই সমাজের চোঁখে পড়ে না। পুরুষ মাত্রই সাধু মানুষ বটে! এই সমাজে একটি মেয়ের দৈনন্দিন জীবন,জীবিকা নির্বাহ বা শিক্ষার্জণ ইত্যাদি বিভিন্ন তাগিদেও অনেক সময় একা চলতে হয়। সেখানেও হতে হয় ইভ-টিজিংয়ের শিকার।

যদি বাসে উঠে,হেল্পার তাকে টিজ করতে ভুলে না,কখনো কখনো গায়ে টাচ করাটাও তো স্বাভাবিক। শপিংমল,বাজার,কর্মক্ষেত্র,এমন কি শিক্ষাঙ্গন,সব জায়গায় একটা মেয়েকে কোনো না কোনোভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। যেন মেয়ে হয়ে জন্মানোটাই তার সবচাইতে বড় অপরাধ! আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে কন্যা-সন্তান হলে জ্যান্ত পুঁতে ফেলা হত। এখনো অনেক মেয়ের শ্বশুরালয় কিংবা তার স্বামী radiography তে কন্যা-ভ্রুণ ধরা পড়লে বাধ্য করে গর্ভপাত ঘটাতে। মেয়ে হওয়াটা কি এতই অবমাননাকর???তাহলে এই পুরুষদের গর্ভে ধারণ করলো কারা??!!?? এই সমাজে একটি ৬ বছরের অবুঝ শিশুও ধর্ষনের শিকার হয় আর, বাকিদের ইতিহাস তো সবারই জানা আর পেপার খুললে প্রতিদিনই এমন কোনো না কোনো ধর্ষনের ঘটনা চোঁখে পড়ে।

কিন্তু এখন সবই আমাদের গা-সওয়া হয়ে গেছে যেন! এই সমাজ কাউকেই রেহাই দেয়না। আমরা যারা সমাজের অন্ধকার দিকটা কিছুটা কম অনুভব করি তাদের আবার অন্য জ্বালা!!!আজকাল Relationship-Culture এত প্রবল যে কোনো মেয়ের Relationship status SINGLE হলেও প্রবলেম!!!তখন আবার তাকে নিয়ে শুরু হবে অন্য EQUATION!তার সম্ভাব্য BOY-Friend দের লিস্ট তৈরী করা হবে,তার কারোর সাথে সদ্ভাব থাকা মানেই তাকে কতিপয় ব্যক্তিবিশেষ নিয়ে pain দেওয়া শুরু। আরে,একটা মেয়ে কি একটা ছেলে ছাড়া এতই অসহায়?!? আমি জানিনা কবে এই সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তণ হবে,তবে এই আশায় বুক বাঁধি যে,আমাদের new generation এমন কোনো Change আনবে যা মানুষকে ন্যায়-অন্যায়ের তফাৎ বুঝতে শিখাবে। আর,এর জন্য চাই সু-শিক্ষা এবং স্ব-শিক্ষায় শিক্ষিত একটি জাতি। আমাদের উচিৎ আমাদের চারপাশের সম্পর্কগুলোর মাঝে শ্রদ্ধাবোধ বাড়িয়ে তোলা অথবা তৈরী করা যেন আমার ভাই অথবা আমার বন্ধুটি একটি মেয়ের প্রতি যথাযথ সম্মান পোষণ করে।

কেননা,একটি সুস্থ্য সমাজ একটি সুস্থ্য জাতির ধারক। আর,একটি সুস্থ্য জাতিই পারে দেশের সমৃদ্ধি আনয়ন করতে। অন্যথায়,আমরা যে সমাজে বর্তমানে আছি এভাবে চলতে থাকলে এই সমাজ একটি দূষিত জাতিরই ধারক হবে। আর,আমাদের প্রতিটি generation একেকজন rapist ও eveteaser তৈরীতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.