সাংবাদিকতার ছাত্র,আপাতত প্রবাসে আছি। মানুষ হিসেবে জন্ম নেওয়ায় সব কিছু মেনে নেওয়ার সীমাহীন ক্ষমতা আমাদের। সব কিছু মেনে নিই। দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনাই বলি, এর পেছনে কারা দায়ী,কিভাবে দায়ী কারণ খুঁজতে যাই না।
তারপরও নির্লজ্জ কিছু লোকের নির্বোধ প্রলাপ মেনে নিতে পারি না।
খুব সম্প্রতি আমাদের নৌপরিবহণ মন্ত্রী বলেছেন,দেশে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনার জন্য নাকি চালকরা দায়ী নন!!
মাননীয় মন্ত্রী আপনার এই বুদ্ধিদীপ্ত বক্তব্যের সাথে আমি চুরান্তভাবে একমত। চালকরা দায়ী হবে কেন? দায়ীতো আপনি!! কিংবা আপনার মত আরও কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন দেশ চালকেরা। খুব ভাল হতো, যদি আপনি এবং আপনার পুরো গং কে তলা ফুটো হয়ে যাওয়া কোন একটা ফিটনেসবিহীন লঞ্চে একবার যদি উঠিয়ে দিতে পারতাম!!
সেটাতো আর সম্ভব নয়। আপনারা হলেন কঠিন প্রান। সতেরো কোটি মানুষের জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তাটুকু, বিধাতা খুব নির্মমভাবে কেড়ে নিয়ে সব আপনাদের দিয়ে দিয়েছেন।
আপনারা খুব বাড়াবাড়ি রকমের নিরাপদ। আপনাদের টিকির নাগালটিও পাবার ক্ষমতা আমাদের নেই। তাই আমাদের মত ‘সব মেনে নেওয়া মানুষেরা’ আপনাদের কল্পনায় শাস্তি দিয়ে আনন্দ পাই। বিশ্বাস করুন, খুব আনন্দ পাই।
একটি কাল্পনিক শাস্তিঃ
শহরের সবচে উঁচু যে ভবনটা,তার নিচে আজ অনেক ভিড়।
দূর থেকে দেখলে মনে হয়,নিচে মেলা লেগেছে। হাসি হাসি মুখে অনেক মানুষ। অনেক বলতে প্রায় অগণিত। বলতে গেলে এই শহরের সবাই। তারা খুব আগ্রহভরে অপেক্ষা করছে।
কখন চারটা বাজবে?কখন??
সবার চোখ উপর দিকে। উপরে ভবনটির ছাদে বিন্দুর মত কয়েকজন মানুষ। একেবারে ছাদের কিনারায়। আজ বিকেল চারটায়,এই লোকগুলোকে উপর থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হবে। স্বাভাবিক নিয়মে এ ধরনের মৃত্যু কার্যকর করার আগে,দণ্ডপ্রাপ্তের শেষ ইচ্ছা পূরণের একটা ব্যাপার থাকে।
এই লোক গুলোর ক্ষেত্রে সে সুযোগটুকুও রাখা হইনি। কেন রাখা হয়নি, তারও অবশ্য একটা ব্যাখ্যা আছে। এটা এই শহরের জঘন্যতম একটি অপরাধের শাস্তি। এই অপরাধে যারা অপরাধী, তাদের উলঙ্গ করে-সবচে উঁচু এই ভবনের ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়ার নিয়ম। আমি নিচ থেকে এই মানুষগুলোর মুখ দেখার চেষ্টা করি।
অত উপরে আমার চোখ যায় না। তারপরও যতটুকু বুঝলাম, বিশেষ কোনও লজ্জার ছাপ এই লোকগুলোর চেহারায় নেই। অথচও এদের করা জঘন্যতম কাজটি শহরের সবাইকে ভীষণভাবে লজ্জিত করেছে। স্বাভাবিক ভাবেই, ধাক্কা দেওয়ার আগে এদের লজ্জা দেওয়ার একটা চেষ্টা করা হচ্ছে। খুব অবাক হয়ে আমরা নিচ থেকে দেখছি, এরা একদমই লজ্জা পাচ্ছে না!! একদমই না!!!
একটা সময়ে আমাদের খুব রাগ হয়।
খুব। । সীমাহীন ক্রোধভরা দৃষ্টি নিয়ে আমরা উপর দিকে চেয়ে থাকি। আর অপেক্ষা করি,কখন এই নির্লজ্জ জানোয়ারগুলোকে উপর থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হবে!! কখন?
(শাস্তি প্রক্রিয়ার এই ধরনটা আমার খুবই প্রিয়। ইতি পূর্বেও অনেককে দিয়েছি।
আজকে আবার দিলাম। অনিরাপদ বাংলাদেশের সমস্ত দেশ চালক এবং চালিকাদের। ) ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।