আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নিজের জন্য সমবেদনা

............................................ খুঁজলে দেখা যাবে আমার শোনা অধিকাংশ গানই ন্যাকা ন্যাকা। কিন্তু বাপ্পা মজুমদারের গান কেন জানিনা সহ্য হয় না আমার। এই ভদ্রলোকের গান শুনলেই মনে হয়, এই লোক এতো ন্যাকামি কিভাবে করে! তার গানের টাইটেল শুনলেই মেজাজ খারাপ হয়… . হুকুম দিলে . আমায় তুমি শাসন করলে . ভালোবেসে মরি . বিশাল আকাশ হবো . কিসে করি জোর . সত্যি মরে যাবো… . আজ তোমার মন খারাপ মেয়ে আমার কলেজের একটা বান্ধবী আবার তার পাংখা ছিল। একদিন সকালবেলায় খুবই মন খারাপ করে বললো, চানা খুবই দু:খজনক একটা ব্যাপার হয়েছে আমি ভাবলাম কি না জানি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বললাম, কি হয়েছে? কি হয়েছে? সে বললো, মডেল চাঁদনীকে বাপ্পা মজুমদার বিয়ে করেছে! আমি বললাম, তাতে তোমার কি? সে অবাক হয়ে বললো, তুমি চিন্তা করতে পারো কিরকম একটা মেয়ে! বাপ্পা কি আর মেয়ে পেল না! তোমার একটুও খারাপ লাগছে না? আমি বললাম, তার গান আমি শুনিনা।

তাকে আমার ভালোও লাগে না আবার খারাপও লাগেনা। সেকি করলো না মরলো তা নিয়ে আমার কিছু যায় আসেনা। কিন্তু সে ঘুরছিল ফিরছিল আর মন খারাপ করে বলছিল… ইশ! বাপ্পা কি কাজটা করলো! ‘আজ তোমার মন খারাপ মেয়ে’ এই গানটা কলেজে পড়াকালীন সময়ে একটা ছেলে অন্য গান তুলনায় একটু ভালো গাইতে পারতো। ছেলেটা আবার লিকুইড ক্যারেক্টারের অধিকারী ছিল। প্রায়ই দেখা যেত সে মেয়েদেরকে এই গান শোনাচ্ছে।

মনেহয় সে পপুলার হতে চাইতো এই গান গেয়ে! তার মেয়েদের কাছে বিখ্যাত একটা ডায়লগ ছিল…আরে তোমার তো আমার মতো অবস্থা! আমারও না… একদিন সে আমাকে এসে বলে, এই তোমার কি মন খারাপ? আমি তো বুঝছিলাম ঘটনা কি! বললাম, নাহ্ তো! সে বললো, উহু তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তোমার মন খারাপ! আমি বললাম, আমার মন খারাপ কেন হবে?! সে বললো, কি হয়েছে বলো তো! (সে জোর করেই স্বীকার করাতে চাইছিল আমার মন খারাপ যাতে করে সে ঐ ন্যাকা গানটা শুনাতে পারে) আমি্ চুপ থাকলাম। সে বললো, গান শুনবা? আচ্ছা বাপ্পা মজুমদারের গান তোমার কেমন লাগে? আমি বললাম, অসহ্য! সে বললো, কি বলো! বুঝছি তোমার অর্ণব পছন্দ, তাইনা? আরে তোমার তো একবারেই আমার মতো অবস্থা! আমি বললাম, ওকেও অসহ্য লাগে (অর্ণব অনেক পছন্দ ছিল। অর্ণবের ভাবনা আমার শিমুল ডালে ঐ ছেলে গাইতে পারতো কিন্তু তা শুনলে হাসতে হাসতে মরে যাওয়া লাগতো কারণ মনে হতো একটা গরু ভ্যা ভ্যা করছে) সে খুবই অবাক হয়ে বললো, তুমি আসলে কার গান পছন্দ করো? এরপর সে কতগুলো শিল্পীর নাম বললো। আমি সব বাদ দিয়ে বললাম, সলিমুল্লাহ্ তমালের গান ভালো লাগে। সে একটা ম্লান হাসি দিয়ে বললো, আরে তোমার তো আমার মতো অবস্থা! আমারও না সলিমুল্লাহ্ তমালের গান খুব ভালো লাগে! আমি বললাম, একটা শুনাও না! সে ‘মুখস্থ নাই’ বলে উঠে গেল।

সলিমুল্লাহ তমাল ছিল আমাদেরই আরেকটা ক্লাসমেট যাকে সবাই তমাল নামে চিনতো! আমার হলে কিছু ফাজিল প্রকৃতির বিড়াল আছে। বাংলাদেশে ক্যাটরিনার লাক্সের একটা এডে দেখলাম জিঙ্গেলটা বাপ্পা মজুমদারের করা। ভালোই লেগেছে। ক্যাটরিনাকে বাপ্পা মজুমদারের থেকেও অসহ্য লাগে। কিন্তু তারপরও ঐ গানটা শুনতেই ক্যাটরিনাকে দেখতে হয়।

হলে একদিন এক আপুকে দেখি একটা বিড়ালকে ‘ক্যাটরিনা লুইচ্চা কোথাকার’ বলে গালি দিয়ে রাগ দেখাচ্ছে! আমার খুব ভালো লাগলো। আমার সাথে কারো পছন্দ মিলে গেলে যতোটা খুশি হই তার থেকে বেশি খুশি হই আমার সাথে কারও অপছন্দের ব্যাপার মিলে গেলে। আমার এক ছোট ভাই আছে। বিড়ালের মতো করে কথা বলে। কিন্তু বিড়াল করে ম্যাও ম্যাও আর ও কথা বললে চ্যাঁও চ্যাঁও শব্দ বের হয়।

তার সাথে দিনে অনেকবারই কথা হয়। আমি সবসময়ই বকবক করি আর থেমে গেলে ও বলে, আপু তারপর? আমি একদিন বললাম, বারবার তারপর তারপর করবি না! এরপর থেকে সে বলে, আপু এন্টি তারপর? এই ফাজিলটা আবার কবিতা লেখে। ওকে আমি সামুব্লগের কথা অনেক বলেছি। আমার নিক চানাচুর এটা আমি একদিন মুখ ফসকে বলে ফেলেছি। তার ধারণা আমি অনেক ভালো লিখবো।

এজন্য সে আমার লেখা পড়তে ব্লগে ঢুকবে। কিন্তু হতাশই হতে হবে। সে নিক নিবে, সিডাক্সিন বা ঘুমের বড়ি টাইপের কিছু! আজকে মনটা ভয়াবহ ধরনের খারাপ। মন খারাপের কথা কাউকে বলা যায় না সে যেমন কারণই হোক। অনেকের ধারণা মন খারাপ তারাই বলে যারা অন্যদের কাছে সিমপ্যাথী পেতে চায়।

আমি নিজেও ভাবি। আমার মনেহয় এটা এক ধরনের ন্যাকামি। কোনোভাবে এটা কারও কাছে প্রকাশ করে ফেললে পরে খুব পস্তানি লাগে। নিজেকে বহুত সমবেদনা দিলাম। দেয়ার পর পোস্টটা লিখলাম।

কেমন হয়েছে? ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.