আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আমার শৈশবের একটি মজার কাহিনী

আমি সব কিছু সহজভাবে চিন্তা করতে চেষ্টা করি।

ছোটবেলার কত সৃতি আছে। সেসব মাঝে মাঝে মনে পরে খুব হাসি পায়। তার-ই একটি আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি। তখন আমি খুব সম্ভবত ক্লাস সেভেন-এ পরি।

খালাতো ভাইদের সাথে নানা বাড়ি গিয়েছিলাম। তার পর দিন ছিল পহেলা বৈশাখ। গ্রামের একমাত্র ডিগ্রি কলেজে এ উপলক্ষে এক বিশাল অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। আমাদের ছোট মামা ছিলেন সেই কলেজের সাবেক ছাত্র। তাছাড়া নানার পরিবারের সবাইকে আমাদের গ্রামের সবাই খুব শ্রদ্ধা করত।

উত্তরাধিকার সুত্রে আমার মামারাও বহুত সুনাম-দুর্নাম কামাই করে ফেলেছিল। সুতরাং সাবেক ছাত্র হিসেবে সহজেই আমার মামা সেই অনুষ্ঠানের দাওয়াত পেয়েছিল। তো ছোট মামা তার যোগ্য গুনিধর তিন ভাগ্নেকে সাথে নিয়ে গেল অনুষ্ঠান দেখতে। খালাতো ভাইদের মধ্যে আমি-ই ছিলাম সবচেয়ে ছোট। তবে, লুইচ্চামির দিক থেকে কোন অংশে বাকি দুই খালাতো ভাইদের চেয়ে কম ছিলাম না।

আর মামার কথা কি বলব, তখন বিয়ে হয়নি; ওদিকে কলেজের মেয়েরা নাচ-গান করবে, মামা কি আর না গিয়ে পারে সেখানে!! তবে, আমরা অনুষ্ঠানে যেতে বড্ড বেশি দেরি করে ফেলেছিলাম। আগের রাত নির্ঘুম থেকে সকালে পান্তা ভাত এত বেশি খেয়ে ফেলেছিলাম যে মাতালের মত সারা দুপুর আর বিছানা থেকে উঠতেই পারিনি। তো বিকালে যখন কলেজে পৌঁছলাম,তখন অনুষ্ঠানের প্রায় শেষ পর্যায়। আমরা যাওয়া মাত্রই কলেজের অধ্যক্ষ স্যার মামাকে বিভিন্ন প্রশংসামূলক উপাধিতে ভূষিত করে সরাসরি মঞ্চে বসতে অনুরোধ করল। মঞ্চে তখন পুরস্কার বিতরণীর জন্য গুনি মানুষরা মঞ্চের চেয়ারে বসে ছিল।

মামাকে অধ্যক্ষ স্যার মঞ্চে আমন্ত্রন জানানো মাত্রই চেয়ারে বসা কয়েকজন শিক্ষক আমাদের চারজনের জন্য চেয়ার ছেড়ে দিল। শিক্ষকদের সম্মান দেয়ার জন্য আমরা প্রথমে উপর দিয়ে অনিচ্ছা ভাব দেখালেও তাদের অনুরোধে একসময় মঞ্চে বসলাম। মঞ্চে বসেই নিজেকে অনেক বড় বড় মানুষ ভাবতে শুরু করলাম আর ভাব নিয়ে বসেছিলাম। আমাদের সৌজনে অধ্যক্ষ স্যার আবার কয়েকজনকে দুই একটি গান শোনাবার আহ্বান জানাল। দুইটি মেয়ে গান গেয়ে শোনালো আমাদের।

খুব মজা করে আমরা এত আদর-যত্ন উপভোগ করছিলাম। এরপর অধ্যক্ষ স্যার আমাদের চারজনকে কিছু একটা হলেও বলার অনুরোধ করল। এ কথা শুনে তো আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পরল। আমি জীবনেও মঞ্চে দাড়িয়ে কিছু বলিনি। বুকের ভিতর হার্টটা আমার দিগুন বেগে লাফাতে থাকল।

প্রথমেই সিরিয়াল পরল আমার ছোট মামার। মামা ধরল একটা গান, মেলায় যাই-রে....। আমার মন তখন গাইছিল পালায়ে যাই-রে....। যাই-হোক, এত দুঃখের মধ্যেও মামার কণ্ঠে প্রথম গান শুনে আমার কেন জানি হাসি পাচ্ছিল। তুমুল করতালির মধ্যে দিয়ে মামার গান শেষ হল।

এরপর আসল, আমার এক খালাতো ভাইয়ের সিরিয়াল। সে ধরল একটি কৌতুক। তখন, আমি চিন্তা করতে লাগলাম, কি বলা যায়! গান যদি গাই তাহলে তো সবাই চোখ বন্ধ করে উল্টা দিকে দৌড় দিবে। আর যাও কয়েকটি কৌতুক পারতাম, তাও ভুলে গেলাম ভয়ের চোটে। তারপর সিরিয়াল আসল আমার বাকি খালাতো ভাইটির, সেও কৌতুক বলল।

এরপর আসল সেই বহু অপ্রতিক্ষিত মুহূর্তটি, আমার ডাক পড়ল। আমি চেয়ারে বসেই ইশারায় কাকুতি-মিনতি করতে লাগলাম অধ্যক্ষ স্যারের প্রতি যাতে আমাকে মুক্তি দেয়। কিন্তু, উনি নাছোড়বান্দা, অনুষ্ঠানের খাতিরে আমাকে যে কোন কিছু একটা বলতেই হবে! কি আর করা....চেয়ার থেকে আস্তে-আস্তে উঠলাম, আর হার্ট তিনগুন বেগে লাফাতে লাগল, আমার দুই কান স্পষ্টভাবে সেই বিটের আওয়াজ পাচ্ছিল! মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে ১০ সেকেন্ডের মত এদিক-ওদিক তাকালাম, দেখলাম সব উৎসুক চোখগুলোর দৃষ্টি আমার ভয়ার্ত মুখের দিকে বন্দুকের মত তাক করা আছে। ক্যানও জানি সবচেয়ে বেশি বিদঘুটে লাগছিল মেয়েদের দৃষ্টিগুলা। এরপর আমি অনেক সাহস সঞ্চয় করে বলা শুরু করলামঃ "আ...আপনাদের কাছে দুই হাত তুলে ক্ষমা চাচ্ছি যে আমি কিছুই বলতে পারছি না, এই ক্ষমাটুকু চাইতেও আমার খুব খারাপ লাগছে; কিন্তু, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত, আমার কিছুই করার নেই।

আপনাদের উদ্দেশে আমার আর কিছুই বলার নেই!!!" এ কথা শুনে প্রথমে সবাই অবাক হয়ে বুঝতে চেষ্টা করল আসলে কি হচ্ছে, দুই সেকেন্ড পরেই সবাই এমনভাবে উচ্চসরে হো হো, হা হা করে হেসে উঠল যে, মনে হচ্ছিল আমি একটি বাম্পার হিট কৌতুক বলে ফেলেছি!! যাই-হোক, সবার হাসি তখনো থামেনি, আমি ষ্টেজ থেকে নামতে লাগলাম আর এত হাসি সত্ত্বেও নির্লজ্জের মত ভাবতে লাগলাম যে, অধ্যক্ষ স্যার, কিছু একটা হলেও বলতে বলেছিল, আর আমি সব ভয়-ভীতি, বারবার হার্টের তীব্র ইলেকট্রিক শক খাবার অনুভিতিকে উপেক্ষা করে বীরের মত সাহস সঞ্চয় করে কিছু একটা হলেও তো বলেছি!!!

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।