আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে কি?



সাফল্য অর্জন করতে কার না ভাল লাগে। আর সেই সাফল্য যদি হয় নিজের পরিশ্রমে অর্জিত তাহলে নিশ্চয়ই খুশির বাধ ভেঙ্গে যাওয়ার যোগার হয়। বহু উপায়ে অনেক বিষয়ে মানুষ সাফল্যকে উপভোগ করে। শিক্ষা প্রতিটি সাফল্যের সাথে অত্প্রত ভাবে জড়িয়ে থাকে, সেটা পুথিগতই হোক বা কায়ীক-ই হোক। তবে পুথিগত বিদ্যা বর্তমান প্রজন্ম ও আগামি প্রজন্মরে জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়।

শিক্ষা নিয়েই আমার লেখাটা হয়ত প্রাধান্য পাবে। বলতে গেলে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে আমাদের জন্মের পরই শিক্ষাগ্রহন শুরু হয়। এরপর বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে যেতে হয় স্কুল কলেজে। শুরু হয় পুথিগত বিদ্যা অন্বেষণ। বহুদিন আগে থেকেই মানুষ শুধু মাত্র স্কুল কলেজের উপর নির্ভর করে ভাল সাফল্য অর্জনের উপর বিশ্বাসি নয়।

যার দরূন যেতে হয়ে কোচিং সেন্টার অথবা ব্যবস্থা করতে হয় প্রাইভেট শিক্ষকের। এটা বর্তমানে হয়ত দেশের সংস্কৃতির সাথে মিশে গেছে। একটি স্কুল বিশেষ করে গ্রামের স্কুলগুলোর শিক্ষার মান কেমন তা হয়ত অনেকেই ভাবেন না। যে সকল সরকারী বেসরকারী স্কুল রয়েছে তা হয়ত শিক্ষকদের অর্থ উপার্জনের একটি প্রতিষ্ঠান মাত্র। শিক্ষকগণ নিয়মতি সরকার কতৃক প্রদ্ত্ত বেতন নিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ বলে মনে করেন।

আবার এমন কিছু শিক্ষক রয়েছেন তারা স্কুলের সর্ব উৎকৃষ্ট শিক্ষা জ্ঞান সম্মন্য শিক্ষক হিসাবে খ্যাতি অর্জনে ব্যস্ত থাকেন, যার ফলে তাদের কে প্রাইভেট পড়াতে হয়। মজার ব্যপারটা এখানেই যে, ঐ সকল শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে জ্ঞান অর্জন করা যায় না, কারণ যারা তাদের নিকট প্রাইভেট পড়ে না তারা নিশ্চিত স্কুল পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। যার দরুন এটাই বোধগম্য হয় যে শিক্ষকদের কাছ থেকে তারা জ্ঞান অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। নাকি এটা বলব যে শিক্ষকগণ ছাত্র ছাত্রীদের সঠিক জ্ঞান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তা যাই হোক কথা হচ্ছে এটাই যে, স্কুলের শিক্ষক স্কুলে নিয়মিত পাঠদান করেন, আবার সেই শিক্ষকই প্রাইভেট এ পাঠ দান করেন তার পরে ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়।

তাহলে আমরা যদি ক্লাসেই দুইবার শিক্ষার্থীদের একই বিষয়ে পাঠ দান করি তাহলে অবধারিত সবাই কৃতকার্য হবে (যদিও ১০০% পাশ নিশ্চিত করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার)। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় গণিত এবং ইংরেজী প্রাইভেট না পড়লে পাশ করা যায় না। শহরে হয়ত এটা কম হতে পারে। মাত্র দুই বিষয়ের জন্য প্রায় অধিকাংশ স্কুলের শিক্ষার্থীরা অকৃতকার্য হয়। আর এই সুযোগটাই হয়ত অর্থলোভী শিক্ষকেরা গ্রহন করেন নির্দ্বিধায়।

মাসিক একটা পারিশ্রমিক এর বিনিময়ে অভিভাবকেরা ঐ সকল শিক্ষকদের হাতে তুলে দেন তাদের কোমলমতি সন্তানদের। কখনও কি এটা ভেবে দেখেছেন আপনি নিজে যদি আপনার সন্তানের শিক্ষক হতেন তবে কি আপনার সন্তান বিদ্যা অর্জন থেকে বঞ্ঝিত হত। আর এ জন্য অভিভাবকদের হতে হবে শিক্ষিত। আপনার সন্তানকে আপনি কিভাবে গড়ে তুলবেন তার প্রথম সিদ্ধান্ত হবে আপনার মতের ভিত্তিতে। এমনটাও দেখা যায় অনেক শিক্ষার্থী দশম শ্রেণীতে পড়ে কিন্তু সে তার নিজের নামটি ব্যতিত আর কোন বাক্য সঠিক ভাবে লিখতে পারে না এমনকি পড়তেও পাড়ে না।

তাহলে কিভাবে সে দশম শ্রেণীর বই হাতে তুলে নিল। নিশ্চয়ই কোন কারচুপির মাধ্যমে এটা সম্ভব হয়েছে। আর এধরনের কাজ গুলি হয়ত ঐ সকল শিক্ষকদের দ্বারা সম্ভব হয়েছে যারা প্রাইভেট পড়ানোর নামে শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে মাতামাতি করছে। অর্থাৎ উক্ত শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়েছে এবং পরীক্ষায় শিক্ষক তাকে ফেল করলেই পাশ নম্বর দিয়ে দিয়েছেন। আমরা যদি এভাকে শিক্ষাকে নিয়ে জুয়া খেলি তাহলে শিক্ষার মান উন্নয়ন কতখানি সম্ভব হবে তা নিয়ে প্রশ্নের কোন শেষ থাকবে না।

যথাযথ কতৃপক্ষ নিশ্চুপ না থেকে ব্যবস্থা গ্রহন করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। আসুন আমরা সবাই শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে একসাথে কাজ করি, নিজেদের দেশকে নিজেরাই গড়ে তুলি। আর অন্যে কাছে সাহায্যের হাত বাড়াবো না, দেশের মান ক্ষুন্য করবো না। সেই সকল শিক্ষদের বলি আপনার নিজেদের মান নিজেরা এভাবে নষ্ট করবেন না। শিক্ষক হলেন মানুষ গড়ার করীগর, শিক্ষকের সম্মান সর্ব শীর্ষে।

তাই এই সম্মান ধরে রাখতে শিক্ষকদেরকেউ উদ্যোগী হতে হবে। তবেই হয়ত গড়তে পারবো একটি উন্নত দেশ ও জাতি। ---- -একটি সাধারণ চিন্তাধারা থেকে লেখা, কাউকে উদ্দেশ্য করে লেখা নয়।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.