সূচক ঊর্ধ্বমুখী
ব্যাংক বীমা ও আর্থিক খাতের শেয়ারে দরপতন
এখানে ক্লিক করুন
সাধারণ সূচকের ঊর্ধ্বগতির মধ্য দিয়ে গতকাল দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন শেষ হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতন হয়েছে। তবে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে। অবশ্য গ্রামীণফোনের শেয়ার লেনদেনের ওপর ভিত্তি করে সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৪৬ পয়েন্ট বেড়ে ৮ হাজার ১৮৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সপ্তাহের শেষদিন ডিএসইতে গ্রামীণফোনের প্রতিটি শেয়ার আগের দিনের চেয়ে ১৫ টাকা ২০ পয়সা বেড়ে ২৩৫ টাকা ৭০ পয়সায় সর্বশেষ লেনদেন হয়।
এদিন শুধু গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম বাড়ায় সাধারণ সূচক বেড়েছে ৫৪ দশমিক ৭২ পয়েন্ট। বর্তমানে গ্রামীণফোন শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বড় তালিকাভুক্ত কোম্পানি হওয়ার কারণে এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম ১ টাকা বাড়লে সূচক বাড়ে ৩ দশমিক ৬ পয়েন্ট। আর এ কারণে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে দাম কমলেও সাধারণ মূল্যসূচক বেড়ে যায়।
জানা যায়, বুধবার থেকে বাজারে গুজব ছিল সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) মার্জিন ঋণ বন্ধ করে দেবে। আর এ কারণে এদিন লেনদেন চলাকালে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করেছে।
যদিও এ ধরনের খবরের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে এসইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মার্জিন ঋণ বন্ধ করার বিষয়ে কমিশন এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। সংসদীয় কমিটির সুপারিশ লিখিত আকারে পাওয়ার পর এসইসির কমিশন সভায় আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এখনই এসইসি বিষয়টি নিয়ে ভাবছে না।
গতকাল ডিএসইতে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমলেও সিরামিকস, প্রকৌশল, টেক্সটাইল, খাদ্য ও জ্বালানি খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে।
অন্যদিকে এদিন বাজার মার্জিন লোন বন্ধের খবরে বাজারে নন-মার্জিন শেয়ারের দাম তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়।
বৃহস্পতিবার ডিএসইতে ২৩২টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৫টির, কমেছে ১০১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬টি কোম্পানির শেয়ার।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ২৩২টি কোম্পানির ১০ কোটি ৩২ লাখ ৬০ হাজার ৪৪৪টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। যার পরিমাণ ২২৫২ কোটি ৭১ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৩২৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা কম।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৪৬.০৮ পয়েন্ট বেড়ে ৮১৮৭.৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ডিএসই-২০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৬৭.৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৪৮৮১.৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) প্রধান ১০টি কোম্পানি হলোÑ সাউথইস্ট ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, এবি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, পিপলস লিজিং ফিন্যান্স এন্ড সার্ভিসেস লিমিটেড, পাওয়ার গ্রিড, পূবালী ব্যাংক, বেক্সিমকো লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংক। অন্যদিকে দর বৃদ্ধিতে প্রধান ১০টি কো¤পনি হলোÑ ইমাম বাটন, বঙ্গজ লিমিটেড, মেঘনা কনডেন্স মিল্ক, দুলা মিয়া কটন, সায়হাম টেক্সটাইল, মিথুন নিটিং, সোনালী আঁশ, যমুনা ব্যাংক, মুন্নু স্টাফলার ও ফু-ওয়াং সিরামিকস। দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি হলোÑ জেমিনি সি ফুডস, রহিম টেক্সটাইল, এইমস ১ম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, এপেক্স স্পিনিং, ১ম বিএসআরএস, ফাইন ফুডস, রেকিট বেঙ্কাইজার, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, ৪র্থ আইসিবি ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।
গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন- ৩৪৫২২৭১৬২৪০৮৮.০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বাটা সু’র ১৪৫ শতাংশ মধ্যবর্তী লভ্যাংশ ঘোষণা
বাটা সু চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া অর্থবছরের জন্য ১৪৫ শতাংশ (১০ টাকার প্রতিটি শেয়ারে ১৪.৫০ টাকা) মধ্যবর্তী লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির অর্ধবার্ষিক লাভ পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর বিষয়টি কার্যকর হবে। ঘোষিত মধ্যকালীন লভ্যাংশের রেকর্ড ডেট আগামী ৮ ডিসেম্বর। ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ত্রৈমাসিক অনিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী বাটা সু’র কর-পরবর্তী মোট লাভ ২১ কোটি ৫১ লাখ ১০ হাজার টাকা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১৫.৭২ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল যথাক্রমে ২০ কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও ১৪.৭৪ টাকা।
তাল্লো স্পিনিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ গত ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী ১৯ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠানটির রেকর্ড ডেট আগামী ২ ডিসেম্বর। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ৩০ জুন পর্যন্ত শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ১২১.৪৭ টাকা ও শেয়ার প্রতি নিট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ২৪.২৬ টাকা ঘোষণা করেছে।
মিথুন নিটিংয়ের লভ্যাংশ ঘোষণা: মিথুন নিটিং জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ গত ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারের মূল্য ও মার্কেট লট পরিবর্তন করা নিয়ে আলোচনা করা হবে কোম্পানি সূত্র জানিয়েছে। যার প্রতিটি শেয়ারের মূল্য হবে ১০ টাকা, যা আগে ছিল ১০০ টাকা এবং মার্কেট লট হবে ১০০টি, যা আগে ছিল ২০টি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত মূলধন পাঁচ কোটি থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি করা হবে।
মেট্রো স্পিনিংয়ের ত্রৈমাসিক লভ্যাংশ: মেট্রো স্পিনিং জানিয়েছে, গত ৩০ জুন করা ত্রৈমাসিক (১০ জুলাই থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) অনিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির কর-পরবর্তী মোট লাভ ছিল ৩৬,০৪,০০০ টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় ছিল (ইপিএস) ১.০৪ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল যথাক্রমে ২,৩৯,০০০ টাকা ও ০.৩৫ টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বোনাস শেয়ার ধরা হয়েছে ২০ শতাংশ।
৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি আয় হবে ০.৮৭ ও ০.০৬ টাকা।
ফনিক্স ফিন্যান্সের বার্ষিক সাধারণ সভা: ফনিক্স ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড জানিয়েছে, ২১ নভেম্বর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড ডেট আগামী ৩০ নভেম্বর।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।