হ্যালো মৃদুল বলছো, আমি স্বাতি-চিনতে পেরেছো?
বৃহস্পতিবার। সন্ধ্যা হয়ে গেছে, ঘরে ফেরার ব্যস্ততা নেই মৃদুলের। কেনো জানি আজ বাসায় ফিরতে ইচ্ছে করছিলোনা, কি করবে ভাবতে ভাবতেই এই ফোন। খুব চমকে গেছে মৃদুল। ভাবছে, স্বাতি! কিন্তু কেন ? নামটা ভুল শুনলোনাতো !
মৃদুলের সাড়া না পেয়ে ওপার থেকে স্বাতি আবারো বলে উঠলো হ্যালো মৃদুল, আমি স্বাতি, চিনতে পারছোনা? আরে বাবা আমি তোমার ক্লাসমেট স্বাতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় বছরের বন্ধু স্বাতি।
এবার বুঝলে নাকি আরো পরিচয় দিতে হবে...
ঘোর কেটে গেলে যেমনটা হ্য় মৃদুলের অবস্থাটা সেরকম। ও হ্যা স্বাতি, তুমি ! আমি না এতটাই অবাক হয়েছি কি বলব ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম। তা বলো, কি ব্যাপার, কেমন আছো, কোথায় তুমি?
আমি তো দেশে এসেছি মাস খানেক, দেখোতো তোমার নম্বরটা পেতে আমার এক মাস সময় লেগে গেলো ! তুমি ব্যস্ত নও তো... বাসায় না অন্য কোথাও?
মৃদুল একটু হেসে বললো নাহ্, অফিসে বসে আছি। কি করবো ভাবছিলাম।
কেনো বাসায় যাবেনা-স্বাতির প্রশ্ন ।
আজ বাসায় যেতে ইচ্ছে করছেনা, তুমি কোথায় উঠেছো বলো । ভাই এর ওখানে নাকি অন্য কোথাও ?
এবার আর কারো বাসায় উঠিনি। সরাসরি হোটেলে। কেনো যে এত দেরি করে তোমার নম্বরটা পেলাম!
আরে পেলে তো ! কেন একমাস আগে পেলে কি হতো? কি করতে?
জানিনা কি করতাম তবে তোমার সাথে দেখা তো হতো...
এখন সম্ভব নয় কেন- মৃদুলের গম্ভীর প্রশ্ন।
আমি যে আজ রাতেই চলে যাচ্ছি মৃদুল।
আচ্ছা তুমি কি একটু আসতে পারবে আমার হোটেলে? কতদিন তোমার সাথে দেখা হ্য়নি, কথা হয়না। তোমাকে দেখতাম।
আমাকে দেখতে ইচ্ছে হয় তাহলে তোমার.... একটু শ্লেষ মাখানো কণ্ঠেই বলে উঠলো মৃদুল।
কেনো করবেনা? তোমার ইচ্ছে করেনা?
সত্যি বললে কি তুমি কষ্ট পাবে?
না, পাবোনা, তুমি বলো।
আসলে তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করতে করতে আমার পুরো ইচ্ছেটাই মরে গেছে।
এখন কিছুতেই আর কিছু যায় আসেনা। তুমি কেমন আছ স্বাতি? খুব ভালো? তোমার তো ভালো থাকাটাই উচিৎ। তবু জানতে ইচ্ছে হলো, কিছু মনে করোনা।
ভালো থাকতেই তো তোমাকে ছেড়েছিলাম,ভালো আছি আবার নেই। যদি তোমাকে পুরোটা ভুলতে পারতাম তবে হ্য়ত সাহস করে বলতে পারতাম খুব ভালো আছি।
বাদ দাও ওসব কথা, তোমার কি অবস্হা বলো, কেমন আছো?
কেমন আছি বা থাকি এটা নিয়ে খুব একটা ভাবিনা। সময়টা পার করে দিই। মাঝে মাঝে উটকো ভাবনা আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। এখনো আমার একটা অভ্যাস টিকে আছে। ভরা পূর্ণিমায় সমুদ্র দর্শন।
পুরোমাসে ঐ একবারই আমার বিলাসিতা। তোমার কি মনে আছে আমরা একবার জোছনা উৎসব পালন করেছিলাম সমুদ্রে। তোমার কি ভয়! আমি অবাক হই সেই ভীতু মেয়েটা কিভাবে এরকম সাহসী হয়ে গেলো ! একটা স্কলারশীপ কিভাবে দু'জনকে বদলে দিলো। তুমি জোছনার মায়া ভুললে স্কলারশীপের মোহে। হ্য়তো ভালোই করেছো।
আমি তো দেশেই পড়ে আছি। সেই বিশ্বাষটা যদিও এখনও আছে -দেশ ছাড়বোনা, যাই করি এদেশেই মিলেমিশে করবো, তবু মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে ঠিক করেছি তো? তোমার সাথে গেলেই পারতাম, কিন্তু যাওয়া হলোনা। সেদিন গেলে আমাদের গল্পটা অন্যরকম হতে পারতো;তাইনা?
স্বাতির হঠাৎ শ্বাষ বন্ধ হয়ে আসে, অশ্রু সংবরণ করতে পারেনা। কথা আটকে যায়, শুধু বলে-মৃদুল প্লিজ একটু আসো, আমি বসে আছি তোমার অপেক্ষায়; আমার অপেক্ষার পালাটা ভেঙে দাও, আমাকে মিথ্যে প্রমাণ করে দাও, প্লিজ............।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।