ভোরের তারা হয়ে একাকি পথ খুজি
প্রতিদিন খুব সকালে অন্ধকার থাকতে থাকতেই ঘুম থেকে উঠতে হয়। কারন অফিসের স্টাফ বাস ধরতে হবে। বাসা থেকে বাস স্টপে যাবার রাস্তাটুকু আগের দিন হলে রিক্সায় ৫/৬ টাকায়ই যাওয়া যেত। এখন ১০/১৫ টাকার কমে যাওয়াই যায় না। কেউ কেউতো ২০ টাকাও চায়।
আমাদের মত সাধারন মধ্যবিত্তদের কাছ থেকে এই অতি ভাড়া আদায় কখনও কখনও খুব বেদনা দায়ক হয়ে দাড়ায়। সিএনজি অটোরিক্সার জন্য যাইহোক সরকার একটা ভাড়া ফিক্সড করে দিয়েছে, যদিও সেই নিয়মের তারা ধার ধারে না। কিন্তু রিক্সা ভাড়ার কোন রীতিনীতি নাই। আসলে সিএনজি, রিক্সা দুইটাই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।
সিএনজি ড্রাইভাররাতো কনট্রাকটে যায়, কেন যে শুধু শুধু মিটারটা রেখেছে বুঝিনা! কখনো সখনো ছুটির দিন হলে, যাত্রী কম পেলে অতি কষ্টে তারা মিটারে যেতে রাজী হয় তাও ১০/২০ টাকা বাড়িয়ে দেবার শর্তে।
তার উপর সব সময় সিএনজি হাতের কাছে পাওয়াও যায়না। আমরা যেন এদের হাতে জিম্মি, ওরা উল্টা পাল্টা যা ভাড়া চাইবে তাতেই আমরা যেতে বাধ্য। কিছু বললে বলে এখন কি আর সেই দিন আছে গাড়ীর জমা এত এত টাকা দিতে হয় আর নয়ত বলবে জিনিস পত্রের যা দাম বাড়ছে। তারা কি বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষকে কোটিপতি ভাবে নাকি জিনিস পত্রের দাম কি আমাদের জন্যও বাড়ে না?
তারা খেটে খাওয়া গরীব মানুষ। তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি সবসময়ই কাজ করে কিন্তু এভাবে জোর পূর্বক টাকা আদায়, এতো পুরা ডাকাতি।
আমার পরিচিত এক সিএনজির ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম প্রতিদিন ৫০০টাকা থাকেতো? সে বলেছিল এর চেয়ে বেশীও থাকে। সেই হিসেবে যদি ধরে নেই ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা তার ডেইলি আয় হয় তবে মাসিক ১৫০০০ থেকে ৩০০০০টাকা তার উপার্জন ধরে নেয়া যায়। আমি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরি করেও এই পরিমান অর্থ উপার্জন করিনা। দেখা যাচ্ছে শুধু আমাদের রাজনিতীবিদ এবং আমলারাই নয় এরাও দূর্নীতিগ্রস্ত হয়ে গেছে।
রিকশাওয়ালাদের আচরনও কোন অংশে কম নয়, আমরা হলাম রিকশার নিয়মিত যাত্রী।
এরা ৫ টাকার ভাড়া ১০/১৫ টাকা এবং ১৫ টাকার ভাড়া ৩৫টাকা আদায় করে। একটু দূরের পথ হলে ৫০/৬০ টাকা আদায়তো মামুলি ব্যপার। চেহারা দেখলে মনে হয় এরা নিজেরাও বোঝে কিন্তু ভাব দেখায় তারা নিরুপায়। রিকশাওয়ালারাও সিএনজির ড্রাইভারদের তুলনায় কম কামায় না, শার্টের ভিতর থেকে বেজে উঠা মুঠোফোন তার স্বচ্ছলতার ইঙ্গিত দেয়।
সবকথার শেষ কথা কেউ কি আছেন?প্লিজ আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকান, প্রতিটি রুটের জন্য ভাড়া নির্ধারন করে দিন এবং নজরদারির ব্যবস্হা রাখুন।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।