মুশতাহির কল্পবাবু
বেলী, তুমি সাগর পাড়ে বৃষ্টি দেখেছ কখনো?আজ বারান্দয় সস্তা সিগারেট খেতে খেতে সে কথাই ভাবছিলাম। তুমি আর আমি-সাগরপাড়ে, বৃষ্টিতে।
লোকজন তখন পালিয়ে যায়। তাদের মাথা বাঁচানো যেন বড় জরুরি। বৃষ্টির ছাটে যেন তাদের বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে।
অবশ্য সেটা আমাদের জন্য ভালো হত। যখন দুজন হাত ধরে পাড় ঘেঁষে হেঁটে যেতাম, কেউ ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকত না।
তখন তোমাকে খুব কাছে রাখতাম আমি। সারাক্ষাণ হাত ধরে। তোমার নরম ঠান্ডা হাত।
তোমার সরু আঙুল গুলো আমার আঙুলের মাঝে সেঁটে থাকত। সাগরের হাওয়ায় তোমার চুল উড়ত। এলোমেলো চুল।
লোকজন যখন মাথা বাঁচাতে দৌড়াত আমি আর তুমি সাগরের স্রোতে পা ভাসিয়ে হেঁটে যেতাম। খালি পায়ে।
তোমার ছোট ছোট পায়ে আমি মাঝে মাঝে গুঁতো দিতাম। যেন একটু হোঁচট খাও। উলটে পড়ে যাওয়ার ভয়ে শক্ত করে আমার হাত চেপে ধরো। নিজে থেকেই।
প্রতিবার নিশ্চয়ই তুমি হেসে উঠতে।
চুল ঠিক করতে একটু পরপর। জানো, চুলঠিক থাকবেনা। মাতাল হাওয়া তোমার চুল ঠিক রাখতে দেবেনা। তবু তুমি রাখবেই। যখন হাল ছেড়ে দিবে তখন আমি চেষ্টা শুরু করব।
মিছেই তোমার চুল সরিয়ে দেবো মুখ থেকে। তোমার কানের সাথে পেঁচানো ভেজা চুল।
আমি চাই সেদিন ঝুম বৃষ্টি নামুক। ঢাকার মত শেয়াল মামার বিয়ে টাইপ বৃষ্টি না। ঝুম ঝুম ঝুম ঝুম।
তুমি কিন্তু একটা লাল শাড়ি পড়ে থেকো। আঁচল সামলানো কষ্ট হলে দরকার পড়লে আমি সাহায্য করবো। তোমার পিঠের উপর দিয়ে পেঁচিয়ে আমার বাহুর সাথে চেপে রাখব। তবু শাড়ি পরো সেদিন। বৃষ্টিতে একদিন তোমাকে দেখেছিলাম শাড়ি পড়ে রিক্শা করে যাচ্ছ।
রিকশায় হুড তুলে মুগ্ধ হয়ে বৃষ্টি দেখছিলে। বাজি রেখে বলতে পারি সেদিন রিকশার হুড ফেলে বৃষ্টি তে ভিজতে ইচ্ছা করছিল তোমার। এখানে মানুষ রূপবতী মেয়ে দেখলেই হা করে তাকিয়ে থাকে। তারওপর তোমার এ কান্ড দেখলে যে কি করবে সেটা ভেবেই বোধ হয় নিজেকে ভাঙতে পারনি।
সেদিন নিজেকে তুমি ভাঙবে।
লোক যা বলার বলুক আমি আর তুমি সেদিন বৃষ্টির মাঝে জড়সড় হয় পাড় ঘেঁষে হাটব। শামুক ঝিনুক কুড়োবে? বৃষ্টিতে এদের পাওয়া যাবে নাকি জানিনা, কিন্তু পাওয়া গেলে কয়েকটি কুড়িয়ে ফেলা যায়।
আচ্ছা তুমি যদি ঠাণ্ডায় কাঁপো তাহলে তোমার কোমর জড়িয়ে আরও কাছে ধরে থাকি তুমি রাগ করবে?লোক দেখবেনাতো ! ওরাতো মাথা বাঁচাতে ব্যস্ত। সাগরের থেকে তাদের কাছে সাগর পাড়ের দোকান হতে জিনিসপাতি কেনা তাদের কাছে জরুরি। কেনাকিনি যদি কম দামে করা যায় তাহলতো সাগর ভ্রমণ বাজিমাত।
আমার তোমার এমনটা হলে কি হবে বলো?
তোমার জানিনা। আমি তোমাকে সারাক্ষণ কাছে ধরে রাখব। প্রথমে হাত ধরে। আর তাতে তুমি অভ্যস্ত হয়ে গেলে তোমার কোমর ধরে ফেলব। এটা ঠিক, একটু উত্তেজিত হয়ে বড় বড় শ্বাস নিতে পারি কিন্তু জোর খাটাবোনা।
সত্যি।
জানি কোমর জড়িয়ে ধরার সাথে সাথে তুমি ভয়ানক চমকে উঠবে। হঠাৎ দুজনে থেমে যাব। এক ধরনে শঙ্কা নিয়ে তুমি তাকিয়ে থাকবে। 'ও এরপর কি করতে যাচ্ছে, ও এভাবে তাকিয়ে আছে আছে কেন? ওর ঠোঁট এগিয়ে আসছে কেন? ইয়া আল্লা পাগলটা যাতে এমন কিছু না করে।
মানুষ কি বলবে?'
তুমি এমনই কিছু ভাববে, তাই না? আমি তোমাকে অপ্রস্তুত করার মত কিছুই করবনা। শুধু একটু কাছে ধরে রেখে, চোখের পাঁপড়ি থেকে বৃষ্টির ফোঁটা মুছে দেব। হালকা করে তোমার গালে আমার বুড়ো আঙুল বুলাবো । একটু বুলাবো তোমার ঠোঁটের উপর দিয়ে যেন ঠোঁটদুটোকে কিছুর জন্য প্রস্তুত করছি! তখন তোমার ভয়ার্ত মুখ দেখে মজা যে পাব তাও নিশ্চিত। কিন্তু ব্যস অতটুকুই।
তুমি সবসময় আমার কাছাকাছি থাকো-এর বেশি কখনো আমি কিছুই চাইনি।
বেলী, আজ তুমি আমার সাথে নেই কিন্তু দেখেছো দুজনের ভাবনাগুলো এখনো কি সুন্দর বুকে পুরে রেখেছি?
মাঝে মাঝে বারান্দায় সস্তা সিগারেট দিয়ে এদের পোড়াতে চেষ্টা করি। বুক হালকাবোধ হয়। অবসাদ নেমে আসে। মনে হয়-যাক ভুলে গেছি সব।
ভোলা আর হয়না। আমি বোধহয় দুজনের স্বপ্নগুলোকে কোন এক অজানা দ্বীপে পাঠিয়ে দিয়েছি। ওরা কোথাও পালাতে পারেনা। সাগরে ধার ঘেঁষে ছুটে যায়, দিশা আর পায়না।
মাঝে মাঝে ওরা বৃ্ষ্টির জলে জড়াজড়ি করে কাঁদে।
-----------------------------------------------------------------------------------
-২য় জীবনানন্দ
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।