...
১৮৩৬ সাল পর্যন্ত কোতোয়ালি থানা ছিল এখানে। এই জেলের ক্ষমতা ছিল ৮০০ জন। যদিও প্রতিদিন গড়ে সেখানে রাখা হতো ৫২৬ জন। পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কয়েদিদের আনা হতো এখানে। জেলের কাছাকাছি জেল হাসপাতালও গড়ে উঠেছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কারাগার একটি গুরুত্বপুর্ণ নিউজ স্পট হিসেবে বিবেচিত । গত দুই বছরের ‘বিশেষ সরকার’ শত শত বিখ্যাত ব্যক্তিকে কারাগারে প্রেরণ করেছিল। কারাগারে গেছেন বড় বড় রাজনীতিবিদ। সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্রীয় কারাগারে যেতে না হলেও সাবজেলে থাকতে হয়েছে। কারাগারের ডিআইজি পদের একজন ব্যক্তি রীতিমতো তারকা খ্যাতি পেয়েছিলেন।
রোজ তিনি বিশেষ পোশাক পরিহিত অবস্থায় টেলিভিশনের পর্দায় উপস্থিত হতেন। তাঁর স্ত্রীর ইন্টারভিউ পর্যন্ত পত্রিকায় বা টিভি চ্যানেলে দেখা গেছে। যদিও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তিনি এখন প্রায় ভিলেনে পরিণত হতে যাচ্ছেন। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। প্রিয় পাঠক আজ কেন্দ্রীয় কারাগার সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরছি : ঢাকা জেল যা এখন পরিচিত কেন্দ্রীয় জেল হিসেবে, প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কোম্পানি আমলে।
আরো আগে এখানেই ছিল মুঘল দুর্গ টাকশাল। উনিশ শতকের গোড়ার দিকেই তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সময় ঢাকা শহরে একমাত্র পূর্ত কর্মকা- ছিল পুরনো মুঘল দুর্গটিকে একটি জেলে পরিণত করা। ১৮৩৬ সাল পর্যন্ত কোতোয়ালি থানা ছিল এখানে। এই জেলের ক্ষমতা ছিল ৮০০ জন।
যদিও প্রতিদিন গড়ে সেখানে রাখা হতো ৫২৬ জন। পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কয়েদিদের আনা হতো এখানে। জেলের কাছাকাছি জেল হাসপাতালও গড়ে উঠেছিল। কোতোয়ালি থানা এখান থেকে সরিয়ে নিলে তা পরিণত করা হয়েছিল জেল হাসপাতালে। ১৮৬৪ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য একটি কেন্দ্রীয় জেল গঠনের প্রয়োজন হলে বাকল্যান্ড কুমিল্লায় তা স্থাপনের প্রস্তাব করেছিলেন।
অবশ্য তা কার্যকর হয়নি। ১৮৭৯ সালে ঢাকা জেল রূপান্তর হয়েছিল কেন্দ্রীয় জেলে। আগে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে একজন জেলরক্ষক জেলের দৈনন্দিন কার্য পরিচালনা করতেন। যিনি প্রায়ই হতেন একজন আর্মেনিয়ান বা ইউরেশিয়ান তবে ১৮৭৯ থেকে নিয়োগ করা হয়েছিল একজন জেল তত্ত্বাবধায়ক।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।