আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ক্রসফায়ার কোনভাবেই আইন-শৃঙ্খলার উন্নতির স্থায়ী সমাধান নয়



প্রিয় ব্লগারদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি। আশা করি সবাই দুর্মূল্যের বাজারে ভাল আছেন। কিন্তু আমাদের দরিদ্র, গরীব, শ্রমিক-মেহনতি শ্রেণী ভাল নেই। তবুও অবশ্য কারও মুখে কোন কথা নেই। তাহলে ধরে নেয়া যায় বাজারে আগুন থাকলেও মনে আগুন নেই।

অথবা মনে আগুন থাকলেও জরুরি অবস্থার যে পানি তা সেই আগুনকে নিভিয়ে দিয়েছে। যাহোক, দারিদ্রতা আমার প্রসঙ্গ নয়। প্রসঙ্গ ক্রসফায়ার। শ্রদ্ধেয়-প্রিয় মিল্টন ভাই আমার নিজের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে গত ২৮ জুলাই আমার একটি লেখার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, সন্ত্রাসীরা যারা সমাজের কীট। এই কীটদেরকে ক্রসফায়ারে মারার পক্ষে তিনি মত দিয়েছেন।

এবং উনাকে সমর্থন করে আরও বেশ কয়েকজন বন্ধু তাঁদের মতামত তুলে ধরেছেন। আমি সবার মতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি। একজন সন্ত্রাসী কি নিজে নিজেই সন্ত্রাসী হয়, তারজন্য আমাদের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থা, বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা, নৈতিক অধপতন, সর্বোপরি শিক্ষিত তথাকথিত সুশিল সমাজ, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনকারী আমাদের রাজনৈতিক দল এমনকি বর্তমানের ফেরেস্তাতুল্য সরকার আপনি আমি সবাই দায়ী নই কি? আপনারাই বলুন, রাষ্ট্র যখন তার নাগরিকের মৌলিক অধিকারগুলো পূরণ করতে পারে না, রাষ্ট্র যখন সব মানুষের সাথে সমান আচরণ করে না, রাষ্ট্র যখন নিজেই সন্ত্রাস করে, রাষ্ট্র যখন বেকারদের কর্মসংস্থান করতে পারে না তখন একজন বেকার, না খাওয়া, অশিক্ষিত যুবক যদি সন্ত্রাস করে তার খাবার জোটায় তাহলে কি তাকে দায়ী করা যাবে? আর সন্ত্রাস দমন তথা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িদ্ব সুচারুপে পালন করার জন্যই তো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দেশের জনগণ পোষেন। সন্ত্রাসী বা যাদেরকে মিল্টন ভাইসহ অন্য বন্ধুরা কীট বলেছেন তাদেরকে কারা কীট বানালো তাদেরকে কি রাষ্ট্র ক্রসফায়ার দিচ্ছে? যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমি কাউকেই ক্রসফায়ারে মারার পক্ষপাতিদ নই। হোক সন্ত্রাসী কিংবা দুর্নীতিবাজ কিংবা কোন গডফাদার, যুদ্ধাপরাধী।

রাষ্ট্র যদি ক্রসফায়ার বা এনকাউন্টার করে সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী দমন করতে চায় তাহলে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকে বিলুপ্ত করে এই অঞ্চলটিকে জঙ্গলে পরিণত করলেই হয়! তাছাড়া সন্ত্রাসীদের অপরাধীদের যদি মেরেই ফেলা হবে ১০০ ভাগ মিথ্যা গল্প বানিয়ে ক্রসফায়ার বা এনকাউন্টারের নামে তাহলে দেশের বিচারক ও আদালতগুলো রাখার দরকারই বা কি? এসবের পেছনে জনগণের এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করার কি কোন যৌক্তিকতা আছে? কাজেই আসুন আমরা সবাই ক্রসফায়ারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই, আর সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসীদের বিচারের মুখোমুখি যাতে দাঁড় করানো যায়, এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যাতে জনগণ বা ক্ষতিগ্রস্তরা নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে সাক্ষী দিতে আদালতে যেতে পারেন, সাক্ষী দেয়ার পর যাতে তারা নিরাপদে বেঁচে থাকতে পারেন তার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারকে সহায়তা করি।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।