জীবন গঠনে নিজেস্ব প্রতিক্রিয়ার দায় বেশি, ঘটে যাওয়া ঘটনার ভূমিকা সামান্য।
এ বিউটিফুল মাইন্ড, পারস্যুট অফ হ্যাপিনেস আর চন্দ্রকথা দেখলাম কত ক'দিনে।
সব কিছু মিলিয়ে ঝিলিয়ে কিছু জগাখিচুরি ভাবনা হচ্ছে।
পারস্যুট অফ হ্যাপিনেসে, লোকটা ক্রমাগত হেরে যাচ্ছিল। বউকে হাত জোর করে বলেছিল, আমাকে আরেকটু সময় দাও।
ওর হার দেখতে দেখতে ক্লান্ত, বিরক্ত বউ শেষ মেষ চলে গিয়েছিল। লোকটা দীর্ঘ সংগ্রামের পরে বিজয়ী হলো। ওর সুখ অর্জিত হলো। কিন্তু অর্জনটায় ওর বউয়ের কোন হাত ছিল না। ছিল ছোট্ট ছেলেটার মায়াময় হাত।
এ বিউটিফূল মাইন্ড... স্কিজোফ্রেনিক এক নোবেল প্রাইজ বিজয়ীর জীবন কথা। কলেজ জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু, গর্ভমেন্টের ভয়াবহ গোপনীয় এক প্রোজেক্টে দিন রাত একাকার করে কাজ করে যাওয়া, এসব কিছুই ওকে ব্যস্ত রাখতো। অনেকগুলো বছর পরে ও জানতে পারে, এগুলো আসলে সত্য না। সব ওর মাথার খেলা। মাথাটাই আস্ত মানুষ, তাদের জীবন ওকে দেখিয়ে বেড়ায়, ওকে খেলিয়ে বেড়ায়।
জীবনের অর্ধেকের বেশি পার করে তারপরে টের পাওয়া... এতদিন যাদের খুব কাছের ভেবে এতটা কাল পার করেছে, ওরা আসলে সত্য না....!
এই 'সত্য' না তেও বিশ্বাস করতে সময় লেগেছে। অনেক পরে বুঝতে পেরেছে, আসলে ওর কল্পনার মানুষগুলোর বয়স বাড়ে না। সুতরাং ওরা সত্য হতে পারে না।
ভয়াবহ জীবন সংগ্রাম করে, সত্য আর মিথ্যা, কল্পনা আর বাস্তবতাকে চেনার সার্বক্ষনিক সংগ্রাম শুরু হয় ওর। একদিন বউকে ধাক্কা দেয়, আরেকদিন ছোট শিশুটাকে বাথটাব ভর্তি পানিতে রেখে ভুলে চলে যায়।
জান বাঁচানোর জন্য সবাই বউকে ছোট্ট শিশু সন্তান নিয়ে পালানোর পরামর্শ দেয়।
কিন্তু বউটা যায় নি। ওকে বিশ্বাস করে থেকে যায়। ওকে সময় দেয়। তাই নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পরে হাজার মানুষের সামনে অশ্রু ভেজা চোখে প্রফেসর ন্যাশ ঘোষনা দেয়, আমার আজ এখানে আসা, সব 'তোমার' জন্য।
চন্দ্রকথা... হুমায়ূনের খুব ভালো সৃষ্টিগুলোর একটা। সাইকোটিক জমিদারটা রক্ত জল করে দেয়। সোশ্যাল ল্যাডারকে অনেক দূরের মনে হয়। এক ঝাঁক অসুখী মানুষ। মানুষগুলো এত্ত অসুখী কেন? ওরা চিনতে পারে নি নিজেদের, যাদের ভরসা করা যায় তাদের।
আচ্ছা, সত্যিকারের লুজার আর একটু খানি মাটি পেলেই তীব্র বেগে ছুটে চলবে... এ দু'ধরণের মানুষের মধ্যে পার্থক্য করার উপায় কি? কি করে বুঝা যায় কে সব সময় হারে আর কাকে একটু খানি বিশ্বাস আর আস্থা ধার দিলে আকাশের চাঁদে পৌঁছাতে পারে, সুখের তরে ছুটে সোনার হরিণ বাগিয়ে আনতে পারে? আকাশ ছুঁতে পারে?
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।