আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

উবুন্টুর সাথে খুন্টুমুন্টু

বাংলাদেশ লিনাক্স ইউজার্স এলায়েন্স (বিএলইউএ) হচ্ছে বাংলাদেশের লিনাক্স ব্যবহারকারীদের জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন। বর্তমানে এ সংগঠনটি বিশ্বব্যাপী লিনাক্স কমিউনিটিগুলোর মধ্যে বাংলা ভাষার এবং বাংলাদেশের লিনাক্স ব্যবহারকারীদের প্রতিনিধিত্ব করে চলেছে। পাশাপাশি ক্রিয়েটিভ কমন্সের বাংলাদেশী অ্যাফিলিয়েট হিসেবে কাজ করছে এবং বিভিন্ন ওপেনসোর্স প্রজেক্টের সাথে জড়িত। http://www.linux.org.bd  

উবুন্টু ৭.০৪ সংস্করণ ইনস্টল করে তারপর কীভাবে যেনো সব ডাটা হারিয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, এই জীবনে আর উবুন্টু না। কিন্তু চোখের সামনে দিয়ে ফেরিওয়ালা 'কাঁচা আম' 'কাঁচা আম' ডাকতে ডাকতে গেলে জিহ্বার রস কতোক্ষণ আর ধরে রাখা যায়! তাও যদি ফেরিওয়ালা আবার বলে দেয়- কাঁচা আম কিনলে রেসিপি ফ্রি! বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক বা বিডিওএসএন প্রায়ই উবুন্টু নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করে।

ইন্টারনেটে ও পত্রিকায় ফেরিওয়ালার মতো তাদের অব্যাহত ডাকাডাকিতে একদিন হাজির হয়ে পেছনের সারিতে বসে বসে উবুন্টু নিয়ে কথাবার্তা শুনলাম। আবার অনেক কিছুই শুনলাম না। পাশে এক 'আপা' বসেছিলেন, তাঁর সাথেই মূলত গল্পগুজব করলাম। উদ্দেশ্য আর কিছুই না- বিডিওএসএন-ই যদি সবকিছু শিখিয়ে দেয়, তাহলে আমি নিজে নিজে কী নিয়ে গুতোগুতি করবো? এক ফাঁকে আপাকে জানিয়ে দিলাম- উবুন্টুতে কাজ করা উইন্ডোজের চাইতেও সহজ! রাতে এসেই ল্যাপটপে চালিয়ে দিলাম উবুন্টু ৮.০৪ সিডি। এটি অবশ্য ইন্টারনেটে অর্ডার দিয়ে আগেই আনিয়ে রেখেছিলাম।

এবার আর কোনো ভুলচুক হলো না। দেখলাম ঠিকমতোই সব হয়ে গেলো। রাতে অবশ্য একবার উইন্ডোজে লগইন করে আবার হায় হায় শুরু করলাম- আমার চার গিগাবাইট স্পেস গেলো কই? তার পরের কাহিনীগুলো হচ্ছে ইতিহাস। প্রথমেই ঝাড়ি দিলাম আমার এক পরিচিতকে যে আবার উবুন্টুর মহা হাফেজ- ওই মিয়া, আমার ল্যাপটপের চার গিগা বাইর কইরা দাও। তোমাদের কথা শুইন্যা আমার খালি ক্ষতিই হইতাছে! সে হাসি হাসি মুখ করে ল্যাপটপের, উইন্ডোজের আর উবুন্টুর ইতিহাস জানতে চাইলো।

আমি ইতিহাস বললাম। এবার সে মুখ গম্ভীর করে বললো- এইটা কোনো সমস্যা না। চার গিগাবাইট আছে। ওইটা উবুন্টু সোয়াপ ফাইল.... আরো কী যেনো হ্যান...ত্যান...। যাওয়ার আগে টিপিক্যাল বাঙালীর মতো উপদেশ দিয়ে গেলো- গুগলে সার্চ দিয়ে একটু পড়াশুনা করো।

কাজে লাগবে। আমি মোটামুটি এক সেমিস্টারের পড়া পরবর্তী দশ দিনে পড়লাম। ল্যাপটপে উবুন্টু ইনস্টল করেছিলাম বৃহস্পতিবার রাতে। শুক্র ও শনিবার পুরোপুরি বিনোদনহীন জীবন কাটল আমার। যে ফাইলই চালাতে যাই না কেনো, ভিএলসি বা টোটেম বা রিদমবক্স বলে- কোডেক (এটার বাংলা নাম কোদক দেওয়া যায় না?) দাও।

তাছাড়া আরো ছোটখাটো কিছু সমস্যা তো আছেই। রবিবারে অফিসে এসেই প্রথম কাজটি করলাম ইন্টারনেটে কানেকশন দিয়ে সব আপডেট করে নিলাম। মোটামুটি সারাদিন লাগলো। এবার কিছুটা নিশ্চিন্ত। সুডকো খেলি, বড়দের (!) সিনেমা দেখি, ছোটদের টম অ্যান্ড জেরি দেখি, পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইড তৈরি করি ইত্যাদি ইত্যাদি।

আর প্রতিদিন এসেই একবার করে আপডেট করি। এর মধ্যেই এলো ইন্ট্রেপিড। আবার মানুষজনের অব্যাহত প্রচারণার শিকার হয়ে মোটামুটি দিনদুয়েক লাগিয়ে পুরোপুরি আপগ্রেড করে ফেললাম। দেখলাম অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে গেছে। একইভাবে গুতোগুতি করতে করতে উবুন্টুটাকে সাজিয়ে নিলাম নিজের মতো।

এখন আর বড় কোনো সমস্যা হয় না। ছোটখাটো কিছু সমস্যা আছে। যেমন- আমি এসপিএসএস এবং স্ট্যাটা নামক দুটো সফটওয়্যার ব্যবহার করি। উবুন্টুতে আসার পর সেগুলো দিয়ে কাজ করা যায় না। সার্চ দিয়ে দেখলাম সেখানে পিএসপিপি এবং আর নামক দুটো সফটওয়্যার আছে।

সিন্যাপটিক প্যাকেজ ম্যানেজার থেকে সেগুলো ইনস্টল করলাম ঠিকমতো। কিন্তু সেগুলো কোথায় ইনস্টল হলো আর খুঁজে পাচ্ছি না। অ্যাপ্লিকেশন, অ্যাড/রিমুভ ইত্যাদিতে খোঁজাখুজি করেও লাভ হয় নি। অথচ আমি নিশ্চিত যে সেগুলো যথাযথভাবেই ইনস্টল হয়েছে। একই সমস্যা গুগল আর্থেও।

যথাযথভাবে ইনস্টল করার পরও কাজ করছে না। সার্চ দিলে কোনো ইমেজই আসে না। ইন্টারনেটে সার্চ দিয়েও এগুলোর কোনো সমাধান পাচ্ছি না। আরেকটি বিষয় বুঝতে পারছি না। অনেকে বলেন উবুন্টুতে ভাইরাস নেই।

কিন্তু কী কারণে নেই? মানুষজন তো ইচ্ছে করলেই ভাইরাস তৈরি করতে পারে! এই বিষয়টি পরিষ্কার না। যাই হোক, সম্প্রতি নতুন ভার্সন উবুন্টু ৯.০৪-এও আপগ্রেড করেছি। উবুন্টু নামক এই নতুন বউ নিয়ে আমি খুশি। অন্যের সম্পত্তি চুরির দায়ে এতোদিন নিজের কাছেই অভিযুক্ত ছিলাম। এখনো অবশ্য আছি- কোনো কারণে বিজয় ব্যবহার করতে হলে উইন্ডোজে যেতেই হয়।

কিন্তু সেটা তো নিরূপায় হয়ে! জান বাঁচানো যে ফরজ! তবে গত দশ দিনে আমি কোনো কারণেই উইন্ডোজে যাই নি। যেতে হয় নি। পাইরেটেড কপি ব্যবহারের কারণে যে মনোকষ্টে ভুগি, সেটার উপশম হয়েছে অনেকটাই। এই আনন্দেই আমার দিনগুলো এখন কেটে যায় উবুন্টুর সাথে খুন্টুমুন্টু করতে করতে।



এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.