আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

একটি নক্ষত্র ও একটি গ্রহাণু

যখন এগিয়ে যাবো, কেউ থামাতে পারবে না.। “হুমায়ুন আহমেদ, বাংলাদেশের সাহিত্যের রাজপুত্র আর নেই। তার লেখায় উঠে আসতো জীবনের বাস্তবতা। সহজ ভাষায় কঠিন কথা লিখে ফেলা ছিল যার বৈশিষ্ট্য। ” না এগুলো আমার কথা না।

বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ছাপানো প্রিয় লেখকের মৃত্যু নিয়ে লেখা কথা এগুলো। শুধু কথাই, কোন আবেগ খুঁজে পাই না এর মধ্যে। বুঝে নেই এগুলো নিজেদের স্বার্থে লেখা, বলা। হুমায়ুন আহমেদের মৃত্যু ও জীবন নিয়ে সবচেয়ে সুন্দর কথা লিখেছে অমুক পত্রিকা- এই বানি তাদের জন্য কম কিশে? উনি মারা যান ১৯ জুলাই ২০১২, বাংলাদেশ সময় রাত ১১ টা। আমি তখন শুয়ে আছি নিজের রুমে।

পরপর ৪ জন আমাকে ফোন করে জানায় তার মৃত্যু খবর। চতুর্থজন, আমার বন্ধুর ফোন ধরার সাথে সাথেই বলে উঠে, মামা হুমায়ুন আহমেদ তো আর নাই। আমি ওকে জিজ্ঞেশ করি আমাকেই কেন বলছিস? ও বলে তুই-ই একজন আছিস যে এই ঘটনার মর্ম বুঝতে পারবে। না আমি পারি নি এর মর্ম বুঝতে। কারন আমি তার বই পরেছি খুব বেশি হলে ৬০ থেকে ৭০ টা।

যেখানে তার লেখা বই-এর সংখ্যা দুই শতাধিক। তখনি তাকে হারানোর বেদনাটা বুঝব যখন তার সব বই পরা শেষ করে ফেলে হতাশ হয়ে ভাববো, এখন কি? কই পাব আরও হিমু, ভারি চশমার শুভ্র বা রহস্যের জট খোলা সেই মিছির আলি? তার মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যের কোন ক্ষতি হবে নাকি জানি না। কারন অনেকেই তাকে বলেন বাজারি বা সস্তা লেখক। মনে পরে এন্টার ফার্স্ট ইয়ারের এক বাংলা পরিক্ষায় একটি প্রশ্নের অনুচ্ছেদ ছিল এমন, “হারুন আহমেদ বাংলাদেশের একজন অতি জনপ্রিয় লেখক। প্রতি বইমেলায় তার বই কেনার জন্য স্টলের সামনে তরুণ-তরুণীরা হুমড়ি খেয়ে পরে।

পথে ঘাটে, রাস্তায় বসে তরুণ-তরুণীরা তার বই পড়ে। কিন্তু এতে করে বাংলা সাহিত্যের কোন উন্নতি হচ্ছে না। উলটো আরও ক্ষতি হচ্ছে...” ইত্যাদি ইত্যাদি । তাকে নিয়ে তামাশা আমাদের স্কুল-কলেজেও হচ্ছে, এটা দেখলে হয়তো তিনি শান্তিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হতে পারতেন ! তার মৃত্যুতে অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন। অনেকেই হয়েছে আনন্দিত! তারা বিভিন্ন জায়গায় তাদের আনন্দ প্রকাশ করছেন।

ফেসবুকে অনেকেই কমেন্ট করছেন, ভালো হইছে সে মারা গেছেন, দেশ থেকে একটা লুচ্চা কমলো এবং আরও অনেক কিছু। একজন আস্তিক তার আস্তিকতার প্রমান দিয়ে বললেন, এই রোজার মাসে একজন নাস্তিকের মৃত্যু নিয়ে এত কথা কেন? আসলে আমি বলতে কি চাচ্ছি? কেন এগুলা বলছি? কেন বলছি এমন কথা যা হুমায়ুন আহমেদ স্যারের ভক্তদের কষ্ট দিবে, রাগান্বিত করে তুলবে? হ্যাঁ, আমি তাদের রাগান্বিত করে দেওয়ার জন্যই কথাগুলো বলছি। যেন তারা নিজেরা বুঝতে পারে তারা হুমায়ুন স্যারকে কতটা ভালবাসে। যেন তারা বুঝতে পারে যে তাকে নিয়ে একটা বক্র কথা আমরা যারা হুমায়ুন প্রেমী, আমাদের পছন্দ হবে না। উনি কেমন লিখতেন তা নিয়ে কিছু বলতে চাই না, ঐটা নিয়ে অনেক কথা হয়ে গেছে।

অনেকেই আমার চেয়ে ভালো ব্যাখ্যা করতে পারবেন। তবে উনি বিশাল একটা পাঠকগোষ্ঠী তৈরি করে গিয়েছেন। সাহিত্যের আকাশে উনি এমন একজন নক্ষত্র যাকে ঘিরে লক্ষ লক্ষ গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণু ঘুরছে। উনি সাহিত্যের উন্নতি করুক আর না করুক, উনি তার তরুণ পাঠকদের শিখিয়েছেন জীবনকে কীভাবে উপলব্ধি করতে হয়, কীভাবে বাঁচতে হয়। এবং এটা অস্বীকার করবে এমন মানব আপাতত জন্মায়নি।

কেউ করলে তার প্রাপ্ত শিক্ষা নিয়ে আমি সন্দিহান। আমি গর্ববোধ করি এমন একটি নক্ষত্রকে আবর্তনকারী গ্রহাণু হতে পেরে! ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.