সাম্য আর সাহসিকতার সাথে এগিয়ে যাবো আমরা গল্পের প্রথমেই কিছু কথা বলে রাখি। এই গল্পটি একটি সত্যি ঘটনার উপর লেখা। চট্রগ্রামের এম.এ.আজিজ আউটার স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা – ২০১০ এ আমরা দুর্বার বাংলার সদস্যরা প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চার্য নির্বাচনে সুন্দরবনকে জয়ী করার জন্য ভোট সংগ্রহ করি। অনেকেই বলবেন এটা নিয়ে গল্প লেখার কি আছে? হা আমরাও জানি এটা নিয়ে গল্প লেখার কিছু নেই। কিন্তু আমরা আপনাদেরকে আমাদের বর্তমান সমাজের কিছু চিত্র তুলে ধরতে চাই।
যে কারণে গল্পটি লেখা। আর একটি কারণে গল্পটা লেখা। তা হলো আমরা আমাদের সাফল্যটাকেই বড় করে দেখি। এর পেছনে কারা রয়েছে এবং কিভাবে এই সাফল্য এসেছে তা আমরা জানার চেষ্টা করি না। পর্দার পেছনের গল্পটা আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা মাত্র।
আমরা আমাদের এই ছোট্র পরিবারের সুখ-দুঃখও তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এখানে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম এসেছে। কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে নামগুলো ব্যবহার করা হয়নি। ঘটনার প্রেক্ষিতে তাদের নাম চলে এসেছে। আর আমরাও কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নয়।
আশা করি গল্পটি আপনাদের ভাল লাগবে।
আমরা প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চার্য নির্বাচনে সুন্দরবনের পক্ষে ভোট সংগ্রহ শুরু করি নভেম্বর মাসের শুরু থেকে। নভেম্বরের শেষ দিকে শাকিল ভাই ফোন করে বলেন একটা দিন সুন্দরবনের জন্য উৎসর্গ করতে চান। এবং আমাদেরকে বিজয় মেলাতে ভোট সংগ্রহ করার জন্য সুপারিশ করেন। তারপর এই বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বৈঠক শুরু করি।
এইভাবে চলে যায় কয়েকটি দিন। তারপর......
দিন- ১
০১.১২.২০১০
প্রথমবারের মতো আমরা বিজয় মেলা প্রাঙ্গণে যায়। সেখানে পরিচয় হয় মেলা লিজ নেওয়া কোম্পানি ব্র্যাভো ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা সুভাষ ভাইয়ের সাথে। সুভাষ ভাই ছিলেন অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ। আমাদের সফলতার পেছনে তার অনেক বড় অবদান রয়েছে।
আমরা আমাদের উদ্দেশ্যের কথা তাকে বললাম। বলার সাথে সাথেই তিনি ব্যাপারটা বুঝে ফেললেন। এটা একটা ভাল উদ্যোগ বলে আমাদেরকে উৎসাহ দিলেন এবং প্রয়োজনীয় সাহায্যের আশ্বাস দিলেন। এত অল্প কথায় তিনি যে আমাদেরকে বিনামূল্যে একটি স্টল দিয়ে দিবেন তা কল্পনাই করতে পারিনি। তারপর তিনি আশ্বাস দিলেন যে আমরা মেলায় সুন্দরবনের জন্য ভোট সংগ্রহ করতে পারব।
এটা শুনে আমরা তো খুব খুশি। বাসায় যাওয়ার পথে ফোন করলাম শাকিল ভাইকে। শাকিল ভাই আমাদের বড় ভাই এবং বন্ধুও বটে। এই কাজের পেছনে আমাদের চাইতে তার অবদান বেশি। বিশেষ করে বাংলালায়নকে স্পন্সর করার পেছনে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
শাকিল ভাইকে ফোনে খুশির কথাটা জানালাম। সেই সময় পৃথিবীর সবচাইতে সুখী মানুষ ছিলাম সম্ভবত আমরাই। শাকিল ভাই জানালেন তিনি বাংলালায়নের কর্মকর্তার সাথে কথা বলে আমাদেরকে জানাবেন।
দিন- ২
০২.১২.২০১০
শাকিল ভাই ফোন করে জানালেন মেলা কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া বাংলালায়ন স্পন্সর করবে না। কি আর করা।
আবার গেলাম মেলায়। সুভাষ ভাইয়ের সাথে দেখা করে অনুমতি পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়াটা জেনে নিলাম। তার কথা মতো দরখাস্ত লিখে তা জমা দেওয়ার জন্যে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের কার্য্যালয়ে যায়। সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমের কাছে আমাদের দরখাস্তটি হস্তান্তর করলাম। আর তখন থেকেই শুরু হল দুঃস্বপ্নের যাত্রা।
তিনি আমাদের দরখাস্তটি হাতে নিয়েই আমাদের উপর আগুন ঝরালেন। আমরা কিছু বুঝেই উঠতে পারছিলাম না।
তার বক্তব্য ছিল –
“সুন্দরবন কি হয়ছে? প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চার্য কি?”
আমাদের দরখাস্তের বিষয় ছিল বিনামুল্যে একটি স্টলের আবেদন। তিনি ‘বিনামুল্যে’ শব্দটি সম্ভবত সহ্য করতে পারেননি।
তাই পরের বক্তব্য ছিল এমন – “মেলায় কোন স্টল দেওয়া যাবে না।
একেকটা স্টলের দাম অনেক। আর এখানে স্টল হবে না। যথাযথ শব্দ ব্যবহার করো। ”
সেই যথাযথ শব্দটি কি হবে তা আজও জানতে পারলাম না। তিনিও তা আমাদেরকে বলতে পারলেন না।
আমাদের তিরস্কার করা হল কোন কারণ ছাড়াই। তার তিরস্কার শুনতে শুনতে মেলার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসলাম। শাকিল ভাইকে ফোনে সব খুলে বললাম। এসব শোনার পর তিনি আশায় ছেড়ে দিলেন। আগের দিনের সব হাসি খুশি মূখগুলোই নেমে এলো বিষণ্নতার কালো ছায়া! ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।