যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে. ১।
ভোর থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। কয়েকদিন খরা রোদের পর আজকে বৃষ্টি হচ্ছে বেশ ভালভাবেই। ওদিকে জয়দের বাসার সামনে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। মাঝে মাঝে পানি ১ তলায় উঠে যায়।
গতবারের আগের বছর তো পানি উঠে সব আসবাবপত্র নষ্ট করে দিয়েছিল। এইবার পানি উঠতে হয়ত পারবে না বাসার ভিতরে। কারণ জয় এর বাবা দরজার কাছের অংশটা উচু করেছেন খানিকটা। পানি একবার রাস্তায় উঠলে তা নামতে নামতেই প্রায় ১ সপ্তাহ লাগে। আর তাই এখান দিয়ে অনেকে বাড়তি আয়ের জন্য নৌকা নামিয়ে ফেলে।
এইবারও হয়ত এর ব্যতিক্রম হবে না।
এদিকে ক্লাসের সময় হয়ে যাচ্ছে। কোনভাবেই বাসা থেকে বের হতে পারছে না জয়। বাসার গাড়িটাও আজ নেই। গত ২ সপ্তাহ ধরে গাড়ি মেরামতের জন্য গ্যারেজে দেওয়া হয়েছে।
ঠিক হওয়ার কোন নাম গন্ধ নেই। কি করে ইউনিভার্সিটি যাবে সেটাই চিন্তা করতে লাগলো জয়। তৈরি হয়ে নিচে নেমে পানি কতটুকু উঠেছে তাই দেখতে লাগলো জয়। পানি কিছুটা উঠলেও বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত যেতে খুব একটা অসুবিধা হবে না। তাই সে কোনদিকে না তাকিয়ে হাঁটা শুরু করলো।
জয়দের বাসা থেকে বাস স্ট্যান্ড এর দূরত্ব ১০ মিনিটের। কিন্তু আজকে মনে হচ্ছে যেন অনন্তকাল ধরে হেটেই চলছে জয়। পথ যেন আর ফুরুচ্ছেই না।
হঠাৎ জয়ের পাশ দিয়ে একটা গাড়ি চলে গেল। বেশ জোরেই।
এতে জয়ের জামা কাপড় কিছু ভিজে গেল। শুধু জয় নয় রাস্তায় আরো বেশ কিছু সংখ্যক পথচারীর কাপড় নষ্ট হল। এতে সবাই বেশ ক্ষীপ্ত হল। জয় রাগ সামালাতে না পেরে জোরে ডাক দিল - “ঐ, কোন শালা রে!!! রাস্তা কি তোমার নিজের সম্পত্তি??” এ কথা শুনে গাড়িতে বসা চালক একটু পিছন ফিরে তাকালো যেন লুকিং গ্লাস দিয়ে। কিন্তু নামলো না।
দূর থেকে জয়ের তা দৃষ্টি এড়িয়ে গেল।
২।
পরের দিন বেশ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গেল জয়। আজ তার একটা প্রেজ়েন্টেশন আছে। তাই একটু তারাতারি যেতে হবে ক্যাম্পাসে।
জামা কাপড় ইন করে টাই পড়ে রেডি হল। নতুন কেনা জুতোটাও আজকে প্রথম বের করে পড়লো জয়। তারপর বাসার গেইট থেকে যেই না দু কদম আগালো ওমনি কোথা থেকে জানি বাড়ির সব ময়লা এসে পড়লো জয় এর মাথায়। অবাক হয়ে কিছুক্ষণ এদিক ওদিক তাকিয়ে কাউকে পেল না জয়।
কি আর করবে? কপালই খারাপ আজকে তার।
বাসায় জেয়ে আবার নতুন কাপড় পড়ে বের হল জয়। কোন মতে জয় আজ ইউনিভার্সিটি পৌছালো।
৩।
সন্ধার পর বাসায় ফিরছিল জয়। বাস থেকে নেমে হেটেই বাসায় যাচ্ছিল সে।
কিছু দূর যাওয়ার পর হঠাৎ করে একটা রিকশা তার ডান হাতে খানিকটা আঘাত করে চলে গেল। কিছুক্ষণ চেচিয়েও কোন লাভ হল না। সব তার কপালের দোষ মেনে নিয়ে বাসায় যেয়ে বরফ দিল জয়। ফ্রেশ হয়ে এসে নিজের রুমে বসে সে গত ২ দিনের অঘটন গুলো নিয়ে ভাবতে বসলো। কেন এরকম হচ্ছে তা কিছুতেই সে বুঝতে পারছে না।
তারাহুড়োর সময়ই এই অঘটন গুলো ঘটছে।
জয় ভাবতে ভাবতে জানালার কাছে এসে দাঁড়ালো। এমন সময় মোবাইলে কল আসায় তার চিন্তায় বেশ ছেদ পড়লো। মোবাইল স্ক্রীণ এ দেখে নিল যে কে ফোন করেছে। কিন্তু নম্বরটা অপরিচিত হওয়াতে বুঝতে পারলো না কে করেছে।
সাধারণত অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসলে ধরে না জয়। এবারও সে না ধরে ফোন রেখে দিল। পরে কাজের ব্যস্ততায় সেই অপরিচিত ফোনের কথা আর মনেই ছিল না জয়ের।
৪।
রাত ৩ টা।
জয় ঘুমিয়ে ছিল সেই সময়। চারিদিকে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে যেন। এই নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে হঠাৎ জয়ের মোবাইল বেজে উঠলো। প্রথম কয়েকবার রিং এর পর জয়ের আধো ঘুম ভাগলো। এত রাতে কে ফোন করেছে এটা চিন্তা করেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেল তার।
ফোন রিসিভ করে হেলো বলতেই -
ওপাশ থেকেঃ আপনি কেমন মানুষ!! বলুন তো??
জয়ঃ কে আপনি? এত রাতে ফোন করেছেন কেন?
ওপাশেঃ আপনার ঘুম ভাঙ্গাতে।
জয়ঃ (মেজাজ চরমে উঠে গেল) কি? যত্তসব ফাযলামী!!
বলেই ফোন রেখে দিল জয়। রাগে গজ গজ করতে করতে আবার ঘুমিয়ে গেল সে।
সকালে উঠে মোবাইলটা ধরতেই একটা মেসেজ পেল সে। সময় ৩ টা বেজে ৩০ মিনিট।
মেসেজ খুলেই সে বেশ অবাক হল। সেই অপরিচিত নম্বর থেকে এসেছে। আর লিখেছে
“জয়,
আমি আপনার সাথেই আছি। কিন্তু আপনি তা বুঝতে পারছেন না। আর আমি আপনাকে সব সময় ফলো করি।
আপনার সবকিছু আমার জানা। গত দুদিন আপনার উপর দিয়ে যে কিছু কিছু অঘটন ঘটে গিয়েছে তা আমি নিজেই করেছি। হা হা হা । আপনাকে আমি দেখা দেবো না। আপনার আশেপাশেই আমার বিচরণ।
এখন থেকে আপনি প্রতিদিন এই নম্বর থেকে একটা করে মেসেজ পাবেন। আর সে অনুযায়ী কাজ করবেন। আর যদি না করেন তাহলে আপনার জীবনে এর থেকেও বড় অঘটন ঘটে যেতে পারে। ”
জয় শত চেষ্টা করেও সেই নম্বরে ফোন দিয়েও খোলা পেল না। তাই সে একটু অবাক হল।
কে হতে পারে!!!
৫।
রাত আড়াইটা
যথারীতি কয়েকদিনের মত আবারো জয়ের মোবাইলে একটা মেসেজ আসলো। সে দেখলো ঐ নম্বর থেকেই দিয়েছে। সাথে সাথে জয় ফোন করলো নম্বরে। এইবার রিং হল।
ওপাশ থেকেঃ হেলো, আমি জানতাম তুমি করবে। কেমন আছো?
জয়ঃ আপনি কে? আমার পিছে কেন লেগেছেন?
ওপাশ থেকেঃ (হাসির শব্দ) পিছে লাগতে যাবো কেন?
জয়ঃ হেয়ালী ছাড়ুন। আর সোজাসোজি কথা বলুন।
ওপাশ থেকেঃ জয়, তুমি যাই করো না কেন, আমাকে তুমি খুজে পাবে না।
শোন যা বলি, আগামীদিন সকালবেলা একটা লাল গোলাপ তোমার বাসার গেইটের এর সামনে থাকবে।
নিয়ে আইসো। ওটা তোমার জন্য।
এই বলেই লাইন কেটে দিল মেয়েটা।
৬।
ভোর ৭ টা।
ঘুম থেকে তারাতারি উঠেই জয় নিচে নেমে একটা গোলাপ আর একটা খাম পড়ে থাকতে দেখলো গেইটের সামনে। খাম খুলেই সে দেখলো তাতে লেখা আছে -
“শুভ জন্মদিন জয়”।
“আর এই গোলাপটি তোমার জন্য। লাল গোলাপ দিলাম কারণ তোমাকে ভালবাসি। তোমার ভাল না বাসলেও চলবে।
আমি নীরবে ভালবেসে যাবো তোমাকে সারাজীবন। আমাকে খুজতে যেয়ো না কখনও। তাহলে হতাশ হবে। আমি সব সময় তোমার পাশেই আছি এবং থাকবো। ”
চিঠিটা কিছুক্ষণ হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করে দেখলো জয়।
কিন্তু এই রহস্যের কোনরূপ কুলকিনারা করতে পারলো না সে।
এভাবেই রহস্য যেন আরো ঘনীভুত হতে লাগলো প্রতিনিয়ত। কি এক সম্মোহনে জয় সেই রহস্যময়ীর কোন কথাই ফেলে দিতে পারে না কখনও। এটা জয় নিজে ভেবেও অবাক হয়। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।