আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার মূলক পোস্টঃ বাসর রাতে কিভাবে বিড়াল মারিবেন?

যে মুখ নিয়ত পালায়......। । অনেকদিন পোস্টাইতে না পারায় কিছুটা চিন্তিত ছিলাম। মনে হচ্ছিল এই বছরেও আর কিছু লেখতে পারব না। কিন্তু আজ হঠাৎ মধ্যরাতে আইডিয়া আসল,একটা পোস্ট পড়ে।

সাথে সাথেই এই লেখা। একটা কথার সাথে আমরা সবাই পরিচিত। সেটা হচ্ছে বাসর রাতে বিড়াল মারা। এই কথাটি আমি প্রথম শুনি জাহিদ হাসানের একটা ঈদের নাটকে। নাটকের নাম মনে না থাকলেও মনে আছে সেটি খুব ফানি ছিল।

কিন্তু বিড়াল মারা জনিত ঘটনার পূর্ন ব্যাখ্যা পাই শিবরাম চক্রবর্তীর(যার গল্প পড়ে এখনো শব্দ করে হাসি) একটা গল্পে। গল্পটার মূলভাব এরকম, এক মহিলা সম্ভবত রাজকন্যা খুব রাগী ছিল। শেক্সপিয়রের টেমিং অফ দি শ্রু এর ক্যথারিন এর মত। বিয়ের রাতে স্বামীরা ভয়ে ছেড়ে যেত। এক বুদ্ধিমান গরীব লোক একবার তাকে নিয়ে করল।

বাসর ঘরে সে কায়দা করে একটা বিড়াল লুকিয়ে রাখল। তারপর ঘরে ঢুকেই বিড়াল দেখে ভাব দেখিয়ে তরবারির এক কোপে বিড়ালটাকে মেরে সে বোঝালো বিড়াল দেখে সে খুব রাগান্বিত হয়েছে। আর মারার সময় ওমরসানী স্টাইলে বলেছিল বলেছিল, বিইইইইইড়াল বেয়াদবী আমি সহ্য করি নায়াআআ। যে ইইইইইই বেয়াদবী করুক এক কোপে মাথা আলগাইয়া ফেলব। এরকম ই ছিল গল্পের মূলভাব।

এ থেকে মোটামোটি ধারনা নেয়া যায় বিড়াল মারা টা মানে হল ব্যাক্তিত্ব জাহির করা। কিন্তু এই কম্পিউটার ইন্টারনেটের যুগে তো কেউ আর বিড়াল কে মারতে পারবেন না। আবার অনেকে আছেন নিরীহ প্রানী মারতে কষ্ঠ পান,অনেকে ভয়ও পাইতে পারেন। একবার একটা কাল বিড়াল আমি ধমক দিয়েছিলাম,কিন্তু সে ঘড় ঘড় শব্দ করে এমন চাহনী দিয়েছিল যে আমি সত্যি অত্যি ভয় পেয়ে যাই। সেই থেকে আমার ধারনা কাল বিড়াল কিছুটা ডেঞ্জারাস।

তবে কাল হোক আর শাদা হোক বিড়াল একটা নিরীহ প্রানী। একে মারা ঠিক না। এমনিতেই এস এস সি পরীক্ষার সময় মরা কত শত হাজার হাজার নিরীহ ব্যাঙ মারি। এই ব্যাঙ মেরে যে কোন মহাজ্ঞান টা আমরা অর্জন করি অথবা আমাদের কোন মহাজ্ঞান পরীক্ষা করা হয় তা অনলি স্বয়ং বিধাতা বলতে পারবেন। আর কেউ নয়।

আমরা বিড়ালের পরিবর্তে হতি ঘোড়া কুকুর ইত্যাদি মেরেও ভাব নিতে পারতাম। আমি ব্যাক্তিত্ব দেখানোটাকে এখানে ভাব বলেই সম্বোধন করছি। আগেকার বীরেরা সিংহ বাঘ এসব মেরে প্রেমিকার মন জয় করত। তবে মনে হয় না এখন আর এসব সম্ভব হবে। আর বউ এসব মারতে দেখলে আপনাকে ব্যাক্তিত্বসম্পন্ন না ভেবে সদ্য পাবনা ফেরত ও ভাবতে পারে।

তাই পশু পাখি মারার চিন্তা বাদ। এখন আনতে হবে ডিজিটাল চিন্তা। কিছুটা চিন্তা করেছি আমি। সেগুলোই দিলাম, প্রথম পদ্বতি>> পাগড়ি ছোড়াঃ বাসর ঘরে প্রথমে ঢুকলেন। বাসর ঘরে ঢোকার একটা দোয়া আছে।

সংগ্রহ করে পরে নিবেন মনে মনে। সাহস পাবেন। তারপর বউকে দেখিয়ে মাথার পাগরী টা ছুড়ে ফেলে দিবেন মাটিতে, আর জোড়ে জোড়ে বলবেন, ধুর! যা গরম পড়ছে! দুনিয়াটা তামা তামা হয়ে গেল। মনে হয় উষ্টাইয়া.............................................এ পর্যন্ত বলে থামবেন। ভাব এমন আপনি মনের ভূলে বলে ফেলেছেন।

কারন গালি টালি দিয়ে ফেললে বঊ আপনাকে খারাপ ভাববে। সেটা হিতে বিপরীত। দ্বিতীয় পদ্ধতি>>সাহিত্যালোচনাঃ ঘরে ঢোকে সোজা বউয়ের সামনে গিয়ে বসবেন। বেশ জ্ঞানী জ্ঞানী ভাব নিয়ে প্রশ্ন করবেন, আচ্ছা, ইয়ে তোমার নামটা যেন কি? ধরেন বউ উত্তর দিল, মালিহা। হুম।

ভাল নাম। আন্তন চেখভের নাম শুনেছ? বউ ধরেন শুনে নাই। সে কিছু বলবে না। শুনলেও কিছুটা আশ্চর্য হয়ে তাকাবে। আপনি তখন আরেকটু ভাব নিয়া বলবেন, আন্তন চেখভ রাশিয়ান গল্পকার।

রাইটার। তার একটা গল্পের অনুবাদ নাম দাঁড়ায় রূপের নেশা। সেখানে এক বৃদ্ধ আর তার নাতির একটা মেয়েরে দেখে ঘোর লাগছিল। আমার আজ লাগতেছে তোমারে দেখে। (এটা একদিকে প্রশংসা ও হয়ে গেল আবার ভাব মারাও হয়ে গেল।

আন্তন চেখভের গল্পটার নাম মনে না পরলে অন্য কারো নাম দিয়ে চালিয়ে দিবেন। তবে লক্ষ্য রাখবেন নাম যেন আনকমন হয়) সতর্কতাঃ বউ যদি পন্ডিত টাইপের হয় তাহলে এই প্রশ্ন হিতে বিপরীত হইতে পারে। তখন শেক্সপিয়ার, মিল্টন,তলস্তয়,আহমদ ছফাদের সাহিত্য আলোচনা করেই আপনার বাসর রাইত কাইত হয়ে যাবে। তৃতীয় পদ্বতি>>সামু মেথডঃ তৃতীয় পদ্ধতির নিয়মটা হল আপনি প্রথমে ঢুকবেন ঘরে। তারপর বউয়ের পাশে বসে হাই হেলো হাউয়ার ইউ বলে সোজা ল্যাপী টা নিয়ে বসবেন।

এমন ভাব দেখাবেন যেন মহাগুরুত্বপূর্ন কাজ করতে শুরু করেছেন। বউয়ের দিকে আর না তাকিয়ে সোজা সামু খোলে সামুর দিকে তাকাবেন। তারপর গভীর মনযোগের সাথে স্ক্রিণের সাথে তাকিয়ে থাকবেন। মাঝে মাঝে বউকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলবে, আরে! আসিফ ভাইয়ের পোস্ট দেখি “রসদঃ মুক্তচিন্তা, অবিশ্বাস, সন্দেহবাদীতা, যুক্তিবাদীতা এবং বিজ্ঞানবিষয়ক পোস্ট সংকলন। সবগুলা এখনি পড়তে হবে।

একটু পর বলবেন, নাস্তানাবুদ নাস্তিকতা : নাস্তিকতার অসারতা প্রমাণকারী ব্লগ পোষ্ট সঙ্কলন পোস্টটা একটু পইড়া দেখি তো। একটু পর হু হু হা হা হা হি হি করে হেসে উঠবেন। ভাব দেখাবেন বিরাট হাসির কোন জিনিশ পড়ে ফেলেছেন। হেসে হেসে বলবেন হা হা প গে, হা হা চে প গে । একটু পর বলবেন ধুমাইয়া প্লাস।

স্টিকি হওয়া দরকার। ( বাট বালছাল পোস্ট বলবেন না। প্রথমদিনেই এরকম শব্দ মুখে শোনলে বউ বেশী টাশকী খেয়ে ফেলবে। টাশকী এমন জিনিশ যা কম খাওয়া এবং খাওয়ানো ভাল। বেশী হলে সমস্যা।

) বউ আপনার এই কথাগুলো শুনে নিশ্চিত আশ্চর্য হবে। ভাববে আরে জিনিশটা তো ব্যাপক চিজ। বউ ফালাইয়া এইসব কি করে!একটু বুঝে চলতে হবে। তবে এখানেও সতর্কতার অবকাশ আছে। যদি বউ ও ব্লগার হয় তাইলে কিন্তু আপনার খবর আছে।

গদাম সহকারে মাইনাস খাবেন। হয়ত চিনে ফেলতে পারে। কারণ ব্লগে সাধারনত এক্টিভ নিক গুলো অচেনা থাকে না। আর বউ যদি দেখে যে নিকটা কয়দিন আগে লুলামিতে ধরা খাইছিল সেইটাই আপনার নিক তাইলে অবস্থা কি হবে বুঝে নেন! ডিজিটাল বিড়াল মারতে গিয়ে, উল্টা বিড়ালের হাতেই মাইর খাবেন। ডিজিটাল বিড়াল মারার এই তিনটা পদ্ধতি ই এখন মনে আসছে।

আপনি কোন নিউ মেথড আবিষ্কার করে থাকলে কমেন্টে পোস্টাইতে পারেন। আর এটা নিতান্তই ফান পোস্ট, বুঝতে পারছেন সবাই আশা করছি। তবুও যারা বুঝেন নি তাদের জন্য বলছি, এটা একটা ফান পোস্ট.......। পূর্বের একটি লেখাঃ ব্লগার স্বামী স্ত্রীর সংসারঃ একটি ব্লগীয় সুখী সংসারের গল্প ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.