আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নুপুর (গল্প)

আমার আকাশ আর মেঘে মেঘে ছেয়ে যায়না.....। -ঐ ছেড়ি, তোর দেওয়ানা ফোন করছে, ধরস না ক্যা? -ধরি। এইডার জ্বালায় আর থাকতে পারলাম নারে... -হ হ বুজি বুজি, সব ই বুজি। সেদিন সুনলাম বলাকাত গেছিলি, সিনেমা দেখবের? -আমি যাইতে চাইনাই, না গেলে রাজ্ঞে গাল ফুলায় রাহে, তাই গেছিলাম। -আর চাপা মারিস নে, -যাঃ ছেড়ি... কথা হচ্ছিল শেফালি আর মুক্তির মাঝে।

ওরা কাজ করে গার্মেন্টস এ। সাত সকালে উঠেই রান্না ঘরে দৌড়াতে হচ্ছে। চুলার সিরিয়াল পাওয়া না গেলে আজ না খেয়েই গার্মেন্টসে যেতে হবে। -কত করে কইলাম আরেডা চুলা লাগাই দেন। দুই চুলায় হয় এক ফেলাটের সবার রান্না কেমনে হয়? বেডা হুনলোই না।

বেডা খালি মাস শেষে টাকা চিনে। গজগজ করতে লাগলো মুক্তি। এভাবেই রান্নাটা শেষ করতে হবে। সাতটার মাঝে বের হতে না পারলে বিপদ। অফিসে ঢুকতে দেরী হলে আর রক্ষা নাই।

বেতন তো কাটবেই, সাথে ফ্লোর সুপারভাইজারের কথা তো আছেই। -চল চল আর দেরী করিস না। -পিছন থেকে বলে উঠলো শেফালি। -দাড়ারে একটু। লাঞ্চটা বাটিতে তুইল্লা নেই।

জবাব দেয় মুক্তি। বাসা থেকে বের হয়ে বাসস্টপে দাঁড়ায় তারা। ওদের মত আরো অনেকে বাসস্টপে হাজির। -আল্লাহ জানে বাসে উঠবের পামু নাকি। -পাবো রে, আচ্ছা তোর একটা নাগর আছেনা? হেল্পার, ঐডারে কইস তো সারাদিন যেন এই রোডেই বাস নিয়াসে।

আমরা তাইলে সবার আগে উঠমু। হাসতে হাসতে কথাটা বললো শেফালি। -যাঃ মা**, ঐটা একটা বদ, শইল্লের দিক কেম্নে তাকায় দেহোস না? এগলারে আমার দেখলেই গাও জ্বলে। বাস এসে গেছে। হুরোহুরি করে দুইজনই উঠে গেল।

এর মাঝেই আবার শেফালির মোবাইল বেজে উঠে। শেফালি ফোন রিসিভ করে। -হ্যালো (অপর পাশ থেকে) -তখন ফোন ধরলা না যে। -আর কইয়োনা, রান্নাঘরে ছিলাম। তুমি কই? -আমি ফ্যাক্টরিতে আইয়া পরছি।

-এতো আগেই গেছো কেন? -এম্নি -এম্নি কেন? কারো সাথে লাইন মারতে? (খিল খিল করে হেসে উঠে শেফালি, মুক্তি কপট রাগের ভঙ্গি করে ওর দিকে তাকায়) -আমি যার সাথে লাইন মারতে চাই হেয় তো আমারে পাত্তাই দেয়না। -ফাও কতা বাদ দেও, আম্মারে ঢাকায় আনমু, গ্যাস্ট্রিকের অসুক। একটা ভালো ডাক্তারের খুজ নিয়োতো। -আচ্ছা। তাড়াতাড়ি আইনো।

-সামনের শুক্কুরবারে আলমে আম্মারে রাইখা যাবো। -আচ্ছা। -আচ্ছা এখন ফোন রাইখা দেও। -একটু আগে আসতে পারলে ফ্যাক্টরির ছাদে আইসোতো। -পামুনা (আবারও সেই খিল খিল হাসি) -না আইসো, কতা আছে।

-আচ্চা দেহি। ফোন রাখলাম। মোবাইলটা কাধের ব্যাগে রাখে শেফালি। -কি কয়রে? মুক্তি জিজ্ঞেস করে। -কিছুইনারে, খালি ফাও পেচাল পারে।

-যাই কস, ছেড়াডা কিন্তু মেলা ভালা। -জানি -ছাড়িস না, -চুপ থাক (মুখে লজ্জার আভা ফুটে কিছুটা) -হিহিহি বাস খানিক বাদেই গার্মেন্টসের সামনে এসে দাঁড়ায়। ওরা নেমে পরে। শেফালি ভেতরে ঢুকেই ছাদে চলে যায়। সেখানে মুকুল দাঁড়িয়ে আছে।

-কি কও? মুকুল একটা প্যাকেট বাড়িয়ে দেয়। -কি এটা? শেফালি জিজ্ঞেস করে। -খুলেই দেখো। -না তুমি বলো। -নুপুর -কি করমু এইটা দিয়া? -কি করবা মানে? পায়ে দিবা।

-আমি কি তুমার কাছে চাইছিলাম? -চাইতে হইবো কেন? -তাইলে আনলা কেন? -পছন্দ হইলো তাই আনলাম। -আর আনার দরকার নাই। -আনলে কি অইবো? -কিছু না, না করছি, আনবা না। -আচ্ছা -টাকা পয়সা নস্ট করোনা। -এতে কয় টাকাই আর নস্ট হইছে শুনি? -যে কয়টাকাই হোক, হিসেব করে খরচ করবা।

-বাদ দাও তো হিসাবের কথা। নুপুরটা পায়ে দাও দেখি কেমন লাগে। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১১ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.