আমাদের বাসায় আগে প্রায়ই চড়ুই পাখি বাসা করত। একবার এক চড়ুই বারান্দার দরজার উপর বাসা করতে শুরু করল। সারা দিন ধরে একটু একটু করে বাসা বানায়, রাতে দরজা বন্ধ করার সময় সেটা ভেঙে যায়। একদিন দরজা লাগানোর সময় আম্মা ব্যাপারটা খেয়াল করে বাসাটা নিয়ে একটা বেতের ঝুড়ির মধ্যে রেখে বারান্দার লাইটের সাথে ঝুলিয়ে দিলেন। পরদিন চড়ুই এসে ঠিকই খুঁজে নিল তার বাসাটা।
এরপর ঐ ঝুড়িতেই বাসা তৈরী শেষ করল। শুরু হল এদের নতুন সংসার। ডিম দিল, বাচ্চা ফুটাল। সারাদিন কিচির মিচির চলছেই।
বাচ্চারা একটু বড় হয়ে উড়তে শিখতেই উড়ে চলে গেল।
মা চড়ুইয়ের তখন সে কি কান্না। কয়েকদিন ধরে কিচির মিচির করতে করতে বাচ্চাদের খোঁজে। এরপর হতাশ হয়ে চলে যায়। এরপর আসে আরেক চড়ুই পরিবার। ঐ একই বাসাতে তারা ডিম পাড়ে, বাচ্চা ফুটায়, আবার সেই একই কাহিনী।
মাঝে মাঝে এমন হয়, এক পরিবার বাসা খালি করে দেয়ার পর একসাথে দুই পরিবার এই বাসা দখল করতে চায়। শুরু হয় তাদের ঝগড়া। এই সময় ওদের কিচির-মিচিরের যন্ত্রণায় টেকা দায়। অবশেষে ঝগড়ায় এক পরিবারের জিৎ হয়, বাসা দখল করে নেয় তারা।
অন্য বারান্দায়ও দেখা গেল এরকম একটা বাসা বানিয়ে নিল চড়ুই পাখির দল, তারপর একের পর এক বাসিন্দা বদলাতে থাকল।
একবার এক পরিবার আসল যাদের বাচ্চা ফুটানোর পর মা চড়ুই আর বাবা চড়ুই পালা করে বাচ্চাদের কাকের আক্রমণ থেকে পাহাড়া দেয় আর খাবার নিয়ে আসে। যখন মা খাবার আনতে যায়, তখন বাবা বসে পাহাড়া দেয়, মা খাবার নিয়ে এসে খাইয়ে পাহাড়ায় বসে, তখন বাবা যায় খাবার আনতে।
একবার মা চড়ুইয়ের খাবার আনতে দেরী হচ্ছিল। বাবা চড়ুই পাহাড়া দিতে দিতে অধৈর্য হয়ে উড়ে গেল খাবার আনতে। একটু পর মা চড়ুই এসে দেখে বাচ্চারা অরক্ষিত অবস্থায় আছে।
সে বাচ্চাদের খাইয়ে চুপচাপ অপেক্ষা করতে থাকল। একটু পর বাবা চড়ুই আসল খাবার নিয়ে, বাচ্চাদের খাওয়াল। মা চড়ুই আর খাবার আনতে গেল না। সে শুরু করল বকা-ঝকা। কিছুক্ষণ কিচির মিচির করে, এরপর ঠোঁট দিয়ে বাবা চড়ুইয়ের গায়ে দেয় একটা জোরসে খোঁচা।
আবার কিছুক্ষণ কিচির মিচির, আবার একটা খোঁচা। ওদিকে বাবা চড়ুই কাঁচুমাচু হয়ে চুপ করে বসে আছে। বেশ কিছুক্ষণ বকা-ঝকা খোঁচা-খুঁচির পর মা চড়ুই গেল খাবার আনতে। এরপর আর কখনও বাবা চড়ুই বাচ্চাদের একলা ফেলে যাবার সাহস করেনি।
আজকে সকালে আমার রুমে একটা চড়ুই দম্পতি বারবার ঘরে ঢুকছিল, ওদের দেখে সেই চড়ুই পরিবারটার কথা মনে পড়ল।
সেই সাথে মনে পড়ল এখানে একটা ঘুলঘুলির ভিতর একটা পায়রা পরিবার ছিল। প্রতিদিন তাদের কুব কুব শব্দ পাই, আজকে পাচ্ছি না কেন? হঠাৎ খেয়াল হল, গতকাল তো রুমের বাইরে দিয়ে চুনকাম করেছে, তারা বাসা ভেঙে ফেলেনি তো। ঘুলঘুলির কাছে গিয়ে দেখলাম পায়রাও নেই, ওদের বাসাটাও নেই। নিজের উপরই রাগ হচ্ছে, কেন মিস্ত্রীদের বলে রাখলাম না যেন এই পায়রার বাসাটা না ভাঙে। ঐ পায়রাগুলো কি কোনদিন আমাকে ক্ষমা করতে পারবে?
পুনশ্চ: ২৩ এপ্রিল, ২০১০, আজ সকালে হাত-মুখ ধোয়ার সময় বাক বাকুম শব্দে চমকে তাকিয়ে দেখি পায়রাগুলো ফিরে এসেছে, নতুন করে বাসা বাঁধছে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।