ঢাকা শহরে এসেছি বেশ কয়েকবছর হল। বিয়ে করেছি, বাবাও হয়েছি। দ্রব্যমূল্যের উচ্চমূল্য এবং বাড়িওয়ালাদের তান্ডব ণৃত্য দেখতে দেখতে হাফিয়ে যাচ্ছি। ছোট্ট একটা চাকুরী আমার, তাও আবার প্রাইভেট ফার্মে। সরকারি চাকুরেদের কপালকে হাজার সালাম দিয়ে সকাল বেলা ঘুম ভাঙ্গে।
কোন টাইম সিডিউল নাই, নাই কোন পাওনা ছুটি কিংবা ওভারটাইম। রাজকাপালিদের আরেক দফা বেতন বাড়ার সংবাদে বুকের মাঝে হাতুড়ি পেটানো শব্দ যেন আরো বেড়ে গেল। বাড়বে তরিতরকারি সহ সব কিছুর দাম। বাড়িওয়ালারা ওৎ পেতে বসে আছেন জানুয়ারীর দিকে তাকিয়ে। কিন্তু আমিতো আর পারছি না কারো দিকে তাকিয়ে থাকতে।
মালিকের পরিষ্কার কথা, যাদের পোষাবে না তাদের জন্য দরজা খোলা আছে। ওনার খোলা দরজা দিয়ে বের হয়ে গেলে সহজে যে আমরা ঘরের দরজা খুঁজে পাব না এটা ওনারা হয়তো জেনে গেছেন।
ভুল করেছি জেনারেল লাইনে পড়াশুনা করে। তাই ছোট ভাইকে দেশ থেকে নিয়ে এসেছি ইঞ্জিনিয়ার বানাবো বলে। গ্রামে থেকে ভাল রেজাল্ট করতে পারে নাই তাই সরকারী পলিটেকনিকে চান্স হয় নি।
বাধ্য হয়ে বিআইএসটি (বাংলাদেশ ইনিষ্টিটিউট অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজি) তে ভর্তি করিয়ে দিলাম। প্রসপেকটাস দেখে মনে হয়েছিল এটা হয়তো ভাল মানের একটা আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নিজস্ব ক্যাম্পাস রয়েছে শান্তি নগর। তাছাড়া বাসারও বেশ কাছাকাছি হওয়ায় নিশ্চিন্তে ভর্তি করিয়ে দিলাম।
আস্তে আস্তে এর বাস্তবচিত্র ধরা পড়ল।
স্থায়ী কোন শিক্ষক নাই, সবাই ক্ষ্যাপ মারে পার্ট টাইম। এমন শিক্ষক ক্লাশ নিতে আসেন যে চেহারা ছাত্রদের থেকেও ছোট এবং কোন সাধারণ প্রশ্নের সহজ উত্তরটুকুও দিতে পারে না, জটিল প্রশ্নে কান লাল হয়ে যায়। ল্যাব আছে ঠিকই কিন্তু কোন সরঞ্জাম নাই যা দ্বারা ছাত্ররা প্রাকটিক্যাল জ্ঞান লাভ করতে পারে। প্রথম সেমিষ্টারে নিজের ক্যাম্পাসেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হল। ছাত্রদের কোন অসুবিধা হয়নি পাশ করতে কারন নিজেদের স্যার বলেই কথা।
সমস্যা হলো দ্বিতীয় সেমিষ্টারে, কেন্দ্র পড়েছে অন্যত্র। প্রাকটিক্যাল পরীক্ষায় পাশ করা সম্ভব নয় কোন ছাত্রের পক্ষে। স্যাররদের জন্য কোন চিন্তার বিষয় নয় কারন রেফার্ড পরীক্ষার জন্য বোর্ড নির্ধারিত ফিস ৮০-১০০ টাকা হলেও কলেজ আদায় করছে ৮০০ টাকা। এই অতিরিক্ত টাকা যাচ্ছে স্যার মহাশয়দের পকেটে। বেশ ভাল একটি ইনকাম; তানারা চান বেশী ছাত্র যেন ফেল করে।
প্রতি মাসে ছাত্রদের কাছ থেকে ১৪৫০ টাকা নির্ধাতিন বেতন কড়ায় গন্ডায় আদায় করে চলেছে। সাত তারিখ থেকে আট তারিখ হয়ে গেলেই ১০০ টাকা ফাইন ধার্য হয়ে যায়। এর কোন মাফ নেই, অথচ শিক্ষা দানের কোন উন্নতি চোখে পড়ে না। প্রিন্সিপালকে সচরচার দেখা যায় না যে ছাত্ররা তাদের দাবী/অভিযোগ করবে। কেউ প্রতিবাদ করলে প্রাকটিক্যাল পরীক্ষায় ফেল করাব বলে হুমকি দিয়ে থাকেন।
ভাবতে খুব কষ্ট লাগে যে অভাবের সংসারকে আরো অভাবিত করে ছোট ভাইকে প্রতি মাসে বেতন, বই খাতা, যাতায়াত খরচ বাবদ ভুরি ভুরি টাকা ঢালার পরও রিজাল্ট যদি এমন হয় !
প্রতিবাদ করার ভাষা খুজে পাই না। মাঝে মাঝে মনে হয় মিডিয়াতে প্রকাশ করি ওদের দুর্নিতির শ্বেতপত্র। আবার ভাবি কি হবে এসব করে, কে শুনবে আমার মত অসহায় গার্ডিয়ানদের বুকফাটা আর্তনাদ !!!
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।