প্রতিবেশী দেশগুলোতে সন্ত্রাসের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিই ভারতের লক্ষ্য
বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র বানানোর চক্রান্ত চলছে
এ বি সিদ্দিক/শাহেদ মতিউর রহমান : বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত করতে চক্রান্ত চলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। চক্রান্তের মাধ্যমে এ দেশে জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। অনায়াশেই ভারত থেকে এ দেশে আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্ট জঙ্গিরা প্রবেশ করছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে সন্ত্রাসের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিই ভারতীয় রাজনীতির লক্ষ্য। আর এসব জঙ্গির ইস্যু করে ব্যাপক প্রচারণা চলছে।
আর জঙ্গিদের জড়িয়ে ইসলামের বিরুদ্ধেও চলছে ব্যাপক অপপ্রচার। আবার বাংলাদেশ-ভারতকে জড়িয়েও ব্যাপক জঙ্গি প্রচারণা চলছে। বাংলাদেশ থেকে নাকি এ দেশীয় জঙ্গিরা ভারতে প্রবেশ করে নাশকতা চালাচ্ছে। অথচ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অভিমত হচ্ছে যে, ভারতই সন্ত্রাসের জন্মভূমি। সে দেশে ব্যাপকভাবে সন্ত্রাস ছড়িয়ে আছে।
বাংলাদেশ থেকে দলে দলে মানুষ ভারতে যায় না কাজের সন্ধানে। বরং ভারত থেকে এ দেশে আসে। সে দেশ থেকেই এ দেশে সন্ত্রাসী, সেই সাথে অস্ত্র-গোলাবারুদ এ দেশে আসছে। ভারত নিজেই সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থ। আর বাংলাদেশ কঠোরহস্তে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ দমন করে চলছে।
জেএমবিকে কঠোর হস্তে দমন করা হয়েছে।
লস্কর-ই-তাইয়েবার সদস্য মোতালেব (৪৫) কে গ্রেফতার নিয়ে গত ২২.১১.০৯ তারিখে প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়- ‘বাংলাদেশে লস্করের বিস্তার, দেশে-বিদেশে নাশকতার পরিকল্পনা'। এই রিপোর্টে বলা হয় মোতালেব ২০০৫ সালে ভারতের হায়দরাবাদে বোমা হামলা এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বোমা হামলার সাথে জড়িত ছিল। গত ১৯.১১.০৯ তারিখে সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ‘৩০ লাখ রুপিসহ কলকাতায় ধরা পড়েছে ৩ বাংলাদেশী জঙ্গি'। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার সূত্র ধরে প্রকাশিত এই রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশী ৩ জঙ্গি ভারতে নাশকতামূলক কাজে লিপ্ত হওয়ার জন্যেই গিয়েছিল।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে নাকি এদের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। এছাড়া তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে লস্কর-ই-তাইয়েবার কাছ থেকে। গত ১৫.১১.০৯ তারিখে সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ‘লস্কর-ই-তাইয়েবার অর্থ আসছে পাকিস্তান থেকে'। এই রিপোর্টে আরো বলা হয়, কাশ্মির ভিত্তিক পাকিস্তানী জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার সদস্যরা বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়েছে। গড়ে তুলেছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।
গত ১৫.১১.০৯ তারিখে যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ‘ট্যুরিস্ট ভিসায় আসা-যাওয়া করছে ভিনদেশী জঙ্গিরা'। ১৪.১১.০৯ তারিখে সংবাদ পত্রিকায় বলা হয়, ‘দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা, নজরবন্দিতে কিছু নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তি। ' ১৬.১১.০৯ তারিখে জনকণ্ঠের রিপোর্ট, ‘ওআইসি স্কলারশিপে পড়তে আসা পাকিস্তানী ছাত্ররা লস্কর?' অর্থাৎ পাকিস্তান থেকে আসা ছাত্ররাও জঙ্গি। ১২.১১.০৯ তারিখে জনকণ্ঠের রিপোর্ট ‘ঢাকায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষিত জঙ্গি নির্দেশের অপেক্ষায়। ' এই রিপোর্টে একটি রাজনৈকি দলের নাম জড়িয়ে দেয়া হয়।
আর বলা হয়, থেমে নেই চক্রান্ত। ৭.১১.০৯ তারিখে প্রকাশিত সমকালের রিপোর্ট, ‘পাহাড়ে আফগানিস্তান ফেরত ৪ শতাধিক জঙ্গির আস্তানা। ' ৩১.১০.০৯ যুগান্তর পত্রিকার রিপোর্ট ‘কারাগারে নাশকতার চেষ্টায় ৩৮৯ জঙ্গি : রেড এলার্ট'। প্রতিনিয়তই ভারত-পাকিস্তান-আফগানিস্তান-বাংলাদেশকে জড়িয়ে জঙ্গি খবর প্রচারিত বা প্রকাশিত হচ্ছে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়।
আমরা কেউই শান্তির বিপক্ষে নই। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশে কিংবা বিদেশে জঙ্গি বা এ ধরনের কোন খবর প্রকাশিত হলেই আমরা চিহ্নিত হই। আমার মতে, যুবকদের কাজের সংস্থান না হলেই তারা হতাশা থেকে নানা অপরাধ কাজের সাথে সম্পৃক্ত হয়। আর এ কারণেই বাংলাদেশ যদি এই ধরনের তৎপরতা থেকে বাঁচতে চায় তাহলে সরকারের প্রথম কাজটিই হবে জঙ্গি নিয়ে অপপ্রচার না করে কর্মক্ষম যুবকদের কাজের সংস্থান করে দেয়া। এভাবেই আমাদের দেশের যুবসমাজ যেকোন আর্থিক প্রলোভন উপেক্ষা করে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সকলেই এক হয়ে কাজ করবে।
বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংগ্রামকে বলেন, বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র বানানোর জন্যে দীর্ঘদিন ধরেই চক্রান্ত চলছে। প্রতিবেশী একটি দেশ চায় না বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাক। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদসহ নানা ইস্যুতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। লক্ষ্য একটা যা হচ্ছে, বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করা। আর এর পিছনে রয়েছে বাইরের ইন্ধন।
বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমান বলেছেন, জঙ্গিবাদ ইস্যুতে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্র বানানোর চক্রান্ত চলছে। এর পিছনে বাইরের শক্তি কাজ করছে। বাংলাদেশ তো কোনো সন্ত্রাসী দেশ ছিল না। এটা মূলত মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, আমরা সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে শুনেছি যে, বাংলাদেশে নাকি জঙ্গি ঘাঁটি আছে।
আর তখনকার বাংলাদেশ সরকার চ্যালেঞ্জও করেছিল। বাংলাদেশে জঙ্গি ঘাঁটি আছে, এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। অবশ্য পরে দেখা গেল কিছু জঙ্গির উত্থান হয়। আর কঠোর হাতে দমনও করা হয়েছে। তিনি বলেন, গোটা ভারত জুড়েই সন্ত্রাসের বিস্তার।
ভারত এ দেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ঠেলে দিচ্ছে। তাই জঙ্গির কথা বলা হচ্ছে তারা কোথা থেকে আসছে? ভারতীয়রাই তো এ দেশে ধরা পড়ছে। আর রসদও তারাই যোগাচ্ছে। মূলত বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করাই তাদের কাজ। আর বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র বানিয়ে তারাই লাভবান হবে, যারা আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে চায়।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।