ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক।
তিনি মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আর্মির ক্যাম্প থাকা উচিত না। তিনি মনে করেন জরুরী অবস্থা তুলে নেয়া উচিত। বর্তমান সেনাসমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারকেও তার দেশ ও জনগনের জন্য মঙ্গলময় মনে হয় না।
এই সমস্ত ব্যপার তিনি যে শুধু মনে মনে ভাবেন তা না।
জরুরী অবস্থা থাকা সত্বেও প্রকাশ্যে তা উচ্চারণ করেন। এবং এরজন্য একটি সশস্ত্র আন্দোলনে(?) প্রকাশ্যে নেতৃত্ব দিতেও পিছপা হন না।
ফলস্বরুপ তাকে রাতের অন্ধকারে নিজ বাসগৃহ থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী। কোন এক অজ্ঞত স্থানে তার ওপর চলে শারীরিক (?) ও মানসিক নির্যাতন।
এই পর্যন্ত গল্পটি খুবই সুন্দর।
আমাদের মনে হবে যেন কোন এক দেশপ্রেমিক বীরের জীবনের করুণ কাহিনী এখানে বর্ণনা করা হচ্ছে। এবং এই কাহিনীর পরের অংশটুকু সম্ভবতঃ আমরা সবাই জানি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার এ রকম অনেক ঘটনার কথা আমরা শুনেছি। বৃটিশ আমলে সিপাহী বিদ্রোহের সময়ও এরকম অনেক ঘটনা ঘটেছে।
আমাদের সেই সময়কার বীর যোদ্ধারা মিলিটারি ক্যাম্পে নির্যাতন সইতে না পেরে মৃত্যুবরণ করেছেন।
কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোন কথা আদায় করা যায়নি। তারা তাদের নীতি এবং আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি এক চুলও। চরম শরীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের পরও তাদেরকে দিয়ে বলানো সম্ভব হয়নি যে, আমরা যা করেছি তা ভুল করেছি। সেজন্য আমরা ক্ষমা চাই !!!
মানুষের সব কল্পনা, সব চাওয়া কখনো বাস্তব হয়না। অতীত অতীত-ই।
তাকে বর্তমানে টেনে না আনাই ভাল। সেজন্যই আমাদের এই গল্পের শেষটা আমরা যা ভেবেছিলাম সেরকম হয় না। কি জানি, আমাদের বর্তমানের বীর দেশপ্রেমিক নেতারা হয়ত ক্ষমা চইতেই বেশী পছন্দ করেন। জওয়ান থেকে জেনারেল পর্যন্ত সবার কাছেই তারা ক্ষমা চান। কারও মনে যাতে দুঃখ না লাগে।
কেউ যাতে আহত না হয়।
প্রার্থণা করি, নেতা ক্ষমা লাভ করুন। এবং নেতা দীর্ঘজীবি হোন।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।