নিহারিকা বিজ্ঞান বিষয়টাকে খুব ভালোবাসে। তার বিজ্ঞানী হওয়ার খুব ইচ্ছা। কিন্তু তার পরিবারের সবাই চায় যেন সে ডাক্তার হয়। এইস এস সি পাশ করার পর অনেকটা জোর করে তাকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করে দেওয়া হয়। কিন্তু তার মন ছিলো সাইন্সের দিকে।
সারাদিন সাইন্স নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা তার কাজ। এমনকি অর্ণব যেদিন তাকে প্রথম ভালোবাসার কথা বলেছিলো সেদিন সে উত্তর দিয়েছিলো, “আমার জুটাতা খুললে তা মাটিতে পড়বে না! সরাসরি আপনার গালে যাবে! এ ক্ষেত্রে মহাকর্ষ বলটা কাজ করবে না!” অর্ণব নিহারিকার এক ব্যাচ সিনিয়র। অনেক ভালোবাসত নিহারিকাকে। অবশেষে অনেক জল্পনা কল্পনা পার করে তাদের রিলেশন হয়েছিলো! আজ তাদের প্রথম ডেট! আর ডেটটা আজব জায়গায়! কলেজের ছাদের উপর! অর্ণব নিহারিকার জন্য অপেক্ষা করছে। অবশেষে নিহারিকা এলো!
-ভালো আছো?
-অর্ধেক ভালো অর্ধেক ভালো না!
-মানে? বুঝিয়ে বলো!
-ভালো এইকারণে আজ আমার জীবনের প্রথম ডেট! আর ভালোনা এই কারণে যার সাথে আমার প্রথম ডেট সে একজন মেডিকেল এর স্টুডেন্ট!
-কেন মেডিকেলের স্টুডেন্ট হলে সমস্যা কি?
-সমস্যা নাই।
কিন্তু ডাক্তারি পড়ুয়া ছেলেদের আমার তেমন ভালো লাগে না! সূর্যের চারদিকে পৃথিবী যেমন ঘুরে আপনি আমার চারদিকে সেইভাবে ঘুরছিলেন বলে মানা করতে পারি নি!
-তুমি নিজেইতো একজন ডাক্তারি পড়ুয়া মেয়ে!
-আমি লোক দেখানো ডাক্তারি পড়ুয়া! আমি এই পেশাকে পছন্দ করি না। সবাই ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। আমি দুইটার একটাও হতে চাই না!
-মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের প্রথম হওয়া ছাত্রীর ডক্তারি পড়া পছন্দ নয় এই কথা বিশ্বাস করতে বলো! কিভাবে বিশ্বাস করব??
-বিশ্বাস করা না করা আপনার নিজস্ব ব্যাপার। এই ব্যাপারে আমি কি বলবো?
-আচ্ছা বিশ্বাস করলাম। তুমি কি হতে চাও?
-আমি সুন্দর মানুষ হতে চাই।
-এটাতো সব মানুষের কল্পনা। তোমার এইম ইন লাইফ কি সেইটা বলো
-আমি ব্যাক্তিগতভাবে বিজ্ঞানী হতে চাই। কিন্তু পারিবারিকভাবে ডাক্তার হতে হবে। আর পরিবার যা চায় তা একটা মেয়েকে মেনে নিতে হয়! আর্কিমিডিসের নীতি অনুযায়ী কোন বস্তুকে যখন পানিতে ডুবানো হয় তখন বস্তুটি ওজন হারায়! আর সেই বস্তুটির ওজনবস্তুটি দ্বারা অপসারিত পানির ওজনের সমান। আমার পরিবার আমাকে ডাক্তার বানাতে চেয়েছে এর ফলে আমার বিজ্ঞানী হওয়ার সম্ভাবনা মাডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সাথে সাথে চলে গিয়েছে।
-হুম বুঝলাম।
-বুঝলে ভালো। আমাকে যেতে হবে! ক্লাশ আছে
-আচ্ছা যাও
অর্ণব কিছুই বুঝতে পারছে না। কেমন আজব মেয়ে নিহারিকা! কথায় কথায় বিজ্ঞান টেনে আনে! এদিকে নিহারিকা ভাবছে ছেলেটাতো বোকাসোকা! ছেলেরা এইরকম হয় কেন! তাদের মনে মানুষকে নিয়ে এত প্রশ্ন কেন? পৃথিবীতে মানুষ ছাড়া আরো কত কিছু সৃষ্টি হয়েছে তাদের নিয়ে ছেলেরা প্রশ্ন করে না কেন! ক্লাশ শেষে কলেজের হোস্টেলে নিহারিকা বসে বসে ভাবছে, বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকতো! তার মানে মানুষ চিরকাল এক জায়গায় বসে অথবা দাঁড়িয়ে থাকতো! এইটা কিভাবে সম্ভব! ভাবতে ভাবতে সে ঘুমিয়ে পড়লো! রাতে উঠে তার বান্ধবীদের কথোপকথন শুনতে পাচ্ছিলো! সে ওয়াশরুমে যাবার জন্য বের হচ্ছিলো তখন তার বান্ধবী নীরা তাকে ডাকলো!
-এত রাত্রে বাইরে কই যাস? ভুতে ধরবেতো!
-ভুত বলতে কিছুই নেই। সব মানুষের বিভ্রম।
এটা একরকম রোগও বলা যায়। যাকে হ্যালোজিনেশন বলা হয়!
-তোর বৈজ্ঞানিক কথাবার্তা শুনলে আমার ঘুম পায়!
-এটা অসম্ভব! কারণ মানুষের শরীরের ক্লান্তি দূর করার জন্য ঘুমের প্রয়োজন! কারো কথা ভালো না লাগলে ঘুম আসে না এইটা বোকার মত কথা!
-আচ্ছা আপনি যেখানে যাচ্ছিলেন যান ম্যাম! আপনার সাথে আমি কথায় পারব না! আপনি কখন কি সুত্র বলবেন যা মাথার ৩ ইঞ্চি উপর দিয়া যাবে!
নীহারিকার বান্ধবিরা তাকে রাগিয়ে মজা পায়! কারণ রাগলে সে কারো সাথে কথা বলে না! চুপ হয়ে কি যেনো ভাবতে থাকে! বিজ্ঞান নিয়ে সে কল্পনা করতে ভালোবাসে। হয়ত রাগলেও সে বৈজ্ঞানিক কিছু নিয়েই ভাবতে ভালোবাসে। অথবা রাগ কন্ট্রোলে রাখার কোন পদ্ধতি এটা! তার জীবনধারায় বিজ্ঞান ছাড়া আর কিছুই নেই। ডাক্তারি লোক দেখানো! সে নিজের কাছে একজন বৈজ্ঞানিক।
তার কল্পনার জগৎটাও বিজ্ঞান নিয়ে। বিজ্ঞানই তার সব......
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।