আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আমি একজন স্বার্থপর মানুষ

হারব বলে আসিনি,কাঁদব বলে হাসিনি -গল্প কিনবেন গল্প? অদ্ভুত এই হাকডাক শুনে জানালার বাইরে তাকালাম । গল্প কি কেনা যায় নাকী?কেনার মত কোন জিনিসও তো এটা না । তাহলে এত সাত সকালে ডাকাডাকি কিসের? ও!ফেরিওয়ালা ! হাতে কিছু বাচ্চা কাচ্চাদের গল্প বই । কতই বা বয়স হবে?৮-৯ । এসব ছেলে পিলেদের প্রতি আমার ইন্টারেস্ট কম ।

বলা যায় এড়িয়েই চলি এরকম পথ শিশুদের । কেন এড়িয়ে চলি জানেন?একবার জ্যামে আটকে গিয়ে রিকশাতে বসেছিলাম । হঠাত এদের বয়সী এক পিচ্চি ছেলে হাতে করে একটা লাঠিতে করে কিছু শিট(বাংলা ভাষায় গু শব্দটা অনেকেই অপছন্দ করেন । বাট শিট শব্দটা সবারই খুব পছন্দের । কেন জানি না আমি ,তবে কথা সত্য ।

আপনার পরিচিত একটা সুন্দরী মেয়ের কাছে গিয়ে যদি আপনি বলেন,ওহ শিট আমি তো অমুক জিনিসটা ফেলে এসেছি । তখন তরুনী উদ্বিগ্ন কন্ঠে ড্যাম শিট । তমুক জিনিসটাও ফেলে আসো নি তো?কিন্তু এই তরুনীর কাছে গিয়েই যদি বলেন ও গু!আমি তো অমুক জিনিসটা ফেলে এসেছি । তরুণী বিরক্ত কন্ঠে বলবে বিহেভ ইউর সেলফ । ম্যানার বলতেও তো কিছু আছে নাকী?যাই হোক একারণেই এখানে শিট ব্যবহার করলাম ।

) নিয়ে এসে বলে কিনা টেকা দে,নাইলে লাগায় দিলাম কিন্তু । আমি বললাম সর সর টাকা দিতেসি । বলে দুইটাকার একটা ছেড়া নোট তার দিকে ছুড়ে দিলাম । সে বলে দশ টাকা দে,নাইলে লাগায় দিলাম কিন্তু । ওইদিন আমার চাকরির ইন্টারভিউ ছিল বলে তাড়াতাড়ি দিয়ে দিলাম ।

তারপর থেকেই আমি এদের দুচোখে দেখতে পারি না। করুণা করা তো দূরের কথা! ওইদিন কিন্তু চাকরিটা আমার হয়েছিল । আমি আসলে স্বার্থপর একটা মানুষ । অনেকে স্বার্থপর কথাটা এমন ভাবে বলে যাতে মনে হয় যেন স্বার্থপরতাও একটা শিল্প । আমি মনে করি এরা নিচু শ্রেণীর ভন্ড ।

স্বীকার করি আমি স্বার্থপর,কারণ আমি আসলেই তাই । তবে এদের মত ভন্ড না । কারো প্রতি কখনো দয়া দাক্ষিন্য দেখাই নাই । তাই আজকে এমুহূর্তে দোতলার জানলার ফাঁক দিয়ে বই বিক্রেতা শিশুটার প্রতি কোনই আগ্রহ বোধ করলাম না । যদি আমি আমি না হয়ে অন্য কেউ হতাম তাহলে হয়ত ছেলেটার দিকে দুইবার তাকাতাম ।

কিন্তু আমি তো অন্য কেউ না । তাই তাকালাম না। অন্য কেউ হলে হয়ত লক্ষ্য করতাম ছেলেটার চোখগুলা অস্বাভাবিক সুন্দর । নীল রঙের চোখ । সেই চোখ দুটো ভেজা ভেজা ।

কি জানি হয়ত বা মনের ভুলও হতে পারে। আমি ছাড়া অন্য যে কেউ হলে হয়ত ছেলেটাকে ডাকত । অন্তত এত সুন্দর দুটো চোখ কাছ থেকে দেখার লোভ সামলাতে না পেরেও ডাকত । কিন্তু বললাম না,আমি তো অন্য কেউ না । তাই ওর দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে আমার কোলের উপর রাখা বইয়ে চোখ রাখলাম ।

আমি বইয়ের পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছি । আমার জীবনের বেশিরভাগ অবসর সময় কেটেছে বই পড়ে । এমুহূর্তে যে বইটা পড়ছি আমি তা হল অ্যা টেল অফ টু সিটিস । কঠিন এক গল্প । ডিকেন্স ভাইয়ের বই ।

ডিকেন্সকে আমার বরাবর ই ভাল লাগে । ভাল লাগার শুরু গ্রেট এক্সপেক্টেশান্স বইটা পড়ে । আমার মতই স্বার্থপর সব চরিত্রের দেখা পাওয়া গেল ঐ বইটায় । এজন্যেই ভাল লাগে । বইটার মাঝামাঝি পর্যায়ে আছি এমন সময় মনে পড়ল আজকের পেপারটা দরকার ।

কি জন্য দরকার সেইটা এমুহূর্তে মনে করতে পারছি না। তবে খুবই দরকার । পেপার তেমন পড়া হয় না । মানুষের খবর জেনে আমি কি করব? তবে আজকের পেপারে আমার কি যেন একটা কাজ আছে । পেপারটা নিয়ে আসতে হবে ।

বইয়ের মাঝামাঝি রেখে উঠতে ইচ্ছা করছে না । বাট দরকার টা জানাও দরকারি । তাই উঠে পড়লাম । ট্রাউজার পড়া অবস্থাতেই বেরিয়ে গেলাম । (চলবে)(ভাল লাগলেও জানায়েন না লাগলেও জানায়েন ।

না লাগলে আর কষ্ট করে লিখব না । ) ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.