হারব বলে আসিনি,কাঁদব বলে হাসিনি ‘‘জানার কোন শেষ নাই……জানার চেষ্টা বৃথা তাই…”
ছোট বেলায় সবচাইতে বেশি যে সিনেমাটি দেখেছিলাম তা হল হীরক রাজার দেশে । ঐ সিনেমার বেশ কিছু ডায়ালগ আমার এখনো মনে পড়ে । এটা তেমনই এক ডায়ালগ । ঐ সিনেমাটা দেখার পর আমি সত্যজিত রায়ের তো বটেই,তার আগের দুই জেনারেশন নিয়েও বেশ ঘাটাঘাটি করি,লাভের মধ্যে লাভ হয়েছে এটাই যে আমি সুকুমার রায়ের একনিষ্ঠ ভক্ত হয়ে গেছি । কয়েকটা ছোট খাটো কবিতা তো বলতে গেলে এখনো মুখস্থই ।
মজার ব্যপারটা হল সুকুমার রায় শিশুদেরকে খুবই পছন্দ করতেন , আর বাচ্চাদেরকে আমি দেখতেই পারি না ।
আজকের পেপারে আমার একটা পরীক্ষার রেজাল্ট দিল । পরীক্ষাটা দিয়ে টিকব আশাও করি নাই । তারপরেও ৫ পারসেন্ট সম্ভাবনা ধরে রাখসিলাম । আমার সাথে অনেকবারই এরকম হয়েছে।
তাই আমিও আর কিছু মনে করি না । করলেও বা কি?হু কেয়ারস ?আমার সাফল্যে বা আমি বিফল হলে কারোই কিছু এসে যায় না । একটা সময় ছিল যখন কোন একজনের অনেক কিছু আসত যেত । আমার একটু সাফল্যই তার কাছে অনেক বিশাল কিছু হইত । আবার আমি কোথায় একটু হোঁচট খেলে তার যেন অনেক বড় কোন ক্ষতি হয়ে যেত ।
তবে এখন আর কারোই কিছু হয় না । আমি আসলে নিজেকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে নিতে গিয়ে চেনা জানা মানুষগুলোর থেকে অনেক বেশি দূরেই সরে গেছি । আমার ইগোই আসলে এর জন্য দায়ী । কারো কাছে নত হবার মানসিকতা ছিল না । কারো কাছে ক্ষমা চাওয়া তো নয়ই ।
এটাই আসলে আমার ভেতরের ভাল গুন গুলাকে একে একে খেয়ে ফেলেছে । তবে আমার ইগো এখনো আছে,আর তা নিয়েই আমাকে বাকি জীবন পার করতে হবে। তাই এখনো আমার ইগো বলতে বাধ্য করছে যে,আই ডোন্ট কেয়ার । আসলে আমি এরকমই । এর বাইরে যাবার সাধ্য আমার নাই ।
নিজের ভুল জেনেও কখনো কারো কাছে ক্ষমা চাই নাই । ফলে লাভের ভিতর লাভ হয়েছে কি? আমি একা হয়ে গেছি । বড় বেশি একা ।
পরীক্ষাটায় টিকতে পারলে হয়ত কানাডায় যেতে পারতাম । কিন্তু হল না ।
বিষণ্ণতা আর দুর্ভাগ্য আমার পিছু ছাড়ে না । ভাগ্যকেও দোষ দিয়ে লাভ নেই । আমি নিজেই এমন জীবন বেছে নিয়েছি । এখন কি করা যায় ভাবছি । জীবনের সব সঞ্চয় খরচ করে ফেলেছি পরীক্ষাটা দিতে গিয়ে ।
আসলে পরীক্ষাটা দেয়ার সিস্টেমটাই এমন । ৫০ জন পরীক্ষা দিবে , সবার থেকে ১ লক্ষ করে টাকা নিবে কর্তৃপক্ষ । তার পর একজন পরীক্ষাটাতে টিকবে । ঐ একজন কে কানাডায় পাঠানো হবে । বাকিদের সবার টাকা মাইর যাবে ।
অনেকটা জুয়ার মত ব্যাপার । বাট সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছিলাম টিকার । কিন্তু জুয়াটাতে হেরে গেলাম । এখন রাস্তার ঐ ফেরিওয়ালা শিশুটার সাথে আমার কোন পার্থক্য নাই । না পার্থক্য আছে।
এমুহূর্তে আমার কাছে কোন চাকরি নেই,তবে ওর আছে । ওর ইনকামের উৎস আছে যেইটা আমার নাই । বাসাটাও ছেড়ে দিতে হবে । তেমন কোন জিনিস পত্রও নাই যে বেঁচে কিছু একটা করব । কোন আত্মীয় স্বজন ও নাই যার বাসায় গিয়ে উঠব ।
তবে কোন কিছু নিয়েই আমার তেমন চিন্তা ভাবনা নেই । ব্যবস্থা কিছু একটা হবেই ।
(চলবে )
আগের পর্বের লিঙ্ক ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।